সুইজারল্যান্ডের জুরিখে কনস্যুলার সেবা উদ্বোধন
সুইজারল্যান্ডের শহরগুলোর মধ্যে জুরিখে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী বাঙালিদের বসবাস। দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব কটি দেশের দূতাবাসের কনস্যুলেট সেবাদান কার্যক্রম চালু আছে জুরিখে। কিন্তু বাংলাদেশের নেই। প্রবাসী বাঙালিদের কনস্যুলেট সেবার জন্য জুরিখসহ আশপাশের ক্যান্টন ও দূরদূরান্ত থেকে আসা–যাওয়া মিলিয়ে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জেনেভায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আসতে হয়।
সাপ্তাহিক ছুটি শনি, রোববার সবকিছু বন্ধ থাকার কারণে কর্মজীবী প্রবাসীদের কাজের দিনে ছুটি নিয়ে এসে কনস্যুলেট সেবা নিতে হতো। এতে সেবাপ্রার্থীরা আর্থিক ও সময় দুইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। অবশেষে মিশন ও প্রবাসীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিনের চাওয়ার সার্থক ফল পাওয়া গেল। গত শনিবার জুরিখে ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার সেবা প্রদান শুরু হয়েছে, যা কিনা প্রবাসীদের বহু দিনের কাঙ্ক্ষিত ছিল।
গত ২৮ এপ্রিল মিশনের বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে যে সেবাগুলো প্রবাসীরা নিতে পারেন, তার মধ্যে এমআরপি রি-ইস্যু, মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট, মেশিন রিডেবল ভিসা, জন্মসনদ, ট্রাভেল পারমিট, বিভিন্ন ডকুমেন্ট প্রত্যয়ন, সত্যায়ন প্রভৃতি প্রবাসীদের দোরগোড়ায় সহজতর উপায়ে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যাশাই এ ভ্রাম্যমাণ কনস্যুল সেবা।
বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৭ মেতে ১৮০ প্রবাসী বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন থেকে প্রতিনিধি হিসেবে জুরিখে গিয়েছেন প্রথম সচিব (শ্রম) কামরুল ইসলাম, দ্বিতীয় সচিব আবদুল্লাহ আল ফরহাদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা খায়রুল আমিন।
প্রবাসীরা মিশনের এ কার্যক্রমকে অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। কারণ, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ছিল এ চাওয়া এবং উৎসবমুখর পরিবেশেই ওনারা মিশনের সেবা গ্রহণ করেছেন।
বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের রাষ্ট্রদূত মো. মুস্তাফিজুর রহমান তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টায় প্রবাসীদের দোরগোড়ায় কনস্যুলার সেবা পৌঁছে দিতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন, জেনেভার কার্যক্রমে এ সেবার উদ্বোধন মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।