সবার ঈদ শুভ হোক

ঈদ মানে খুশি। ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা বছরে দুটি ঈদ উৎসব পালন করেন। দুই ঈদেই থাকে মানুষের সঙ্গে মানুষের মিলন ও স্রষ্টার প্রতি সন্তুষ্টি জ্ঞাপনের বিষয়। তাই ঈদ মানেই কোলাকুলি, একের বাড়িতে অন্যের আসা, খাওয়াদাওয়া, দরিদ্র মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা। কিন্তু গত বছর থেকে করোনা মহামারির কারণে সারা বিশ্বে ভিন্ন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এর প্রভাব পড়েছে ঈদেও। এবারও একই পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যেতে হবে সবাইকে। করোনাকালের এই ঈদে আচারিক অনেক কিছুর বদল ঘটছে।

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর মুসলমানদের অন্য রকম এক আনন্দের আবহে নিয়ে আসে। ঈদের দিনের প্রথম আনন্দের মুহূর্তটি তৈরি হয় পরিবার ও পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব নিয়ে দল বেঁধে ঈদগাহে যাওয়ার সময়। নামাজ শেষে একে অন্যের সঙ্গে কোলাকুলি করে কুশল বিনিময় করে। কিন্তু এবারও ঈদগাহে নামাজ আদায়ের অনুমতি মেলেনি করোনার কারণে। তবে মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবার সীমিত আকারে নামাজের অনুমতি রয়েছে। তবে আগের মতো সরাসরি কুশল জানা, কোলাকুলি করার মতো পরিবেশ–পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। নিউইয়র্কে ধীরে ধীরে সব কিছু খুলে দিলেও সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় এ পর্যন্ত ৫ লাখ ৯৬ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে আশার কথা হলো, যুক্তরাষ্ট্রে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচির কারণে নানা রাজ্যে সংক্রমণ কমে এসেছে। তারপরও সংক্রামক রোগের বিস্তার ঠেকাতে নেওয়া হয়েছে নানা সুরক্ষাব্যবস্থা। আর নিজের ও আপনজনদের সুরক্ষার জন্য এই বিধিনিষেধ মানতেই হবে। তাই, মানুষ এই ঈদেও আগের মতো বাঁধভাঙা আনন্দে শামিল হতে পারছে না।

এমনিতে রমজান মাসকে সিয়াম সাধনার মাস বলা হলেও এ মাস মুসলমানদের কাছে বিশেষভাবে সহমর্মিতা ও মানুষে-মানুষে মিলের বাণী নিয়েই হাজির হয়। এ কারণে রমজান মাস এলেই বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মুসলমানরা সাহরি, ইফতার নানা সময়ে সমবেত হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু একদম গত বছরের মতো না হলেও এবারও রমজান মাস ভিন্ন রকম গেছে। ইফতার বা সাহরিতে খুব বড় আয়োজন দেখা যায়নি। করোনা থেকে রক্ষা পেতে এবার ঈদেও মুসলমানরা এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হবেন সন্দেহ নেই। অন্যবারের মতো তাঁরা হয়তো পরস্পরকে আলিঙ্গন করে ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে পারবেন না।

নিজ, আপনজন ও সমাজের কথা ভেবে এবারের ঈদেও মুসলিমদের সামাজিক দূরত্ব মেনেই পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানানো উচিত। অন্যের প্রতি ও ভালোবাসার মানুষটির প্রতি নিজের কর্তব্যবোধ থেকেই মানুষ এই পরিবর্তিত পরিস্থিতি মেনে নেবেন—এমনটাই প্রত্যাশা। সবার শুভ হোক। ঈদ মোবারক।