সফল ও সার্থক হোক সিলেট বিশ্ব সম্মেলন
১৯৮৮ সালের প্রথমার্ধ। সিলেটিদের অভিবাসন তখনো তেমন জমে ওঠেনি। হাতেগোনা কয়েকজন বিকেলের আড্ডায় সমবেত হতেন ম্যানহাটনে ডাউন টাউন এলেন স্ট্রিটের বিলাস রেস্টুরেন্টে। মধ্যরাত অবধি আড্ডা চলত নিয়মিত। এমনি এক আড্ডার আলোচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন গঠনের। আলোচনার অল্পদিনের মধ্যেই আহ্বান করে ফার্স্ট অ্যাভিনিউ ১১ ও ১২ স্ট্রিটের স্কুলে সম্মেলন হয়। সিরাজউদ্দিন আহমেদকে সভাপতি ও এম. এম. শাহীনকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি কমিটি মনোনীত করা হয়। কমিটির সহসভাপতি ওহিদুর রহমান মুক্তা, সহসাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, কোষাধ্যক্ষ দেওয়ান আজমল চৌধুরী সংগঠনকে সরকারিভাবে রেজিস্ট্রেশন করেন।
অল্পদিনের ব্যবধানে আবারও সম্মেলন ডেকে বাংলা পত্রিকার সাবেক সম্পাদক মাহবুবুর রহমানকে সভাপতি ও শফিকুল ইসলাম আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি মনোনীত করা হয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে নতুন কমিটিতে কেন পরিবর্তন এসেছিল সেটার পর্যালোচনা বা সমালোচনায় যাচ্ছি না। সংগঠনকে দু-বার মামলার কাঠগড়ার সম্মুখীন করা হয় তাও লিখতে চাই না। কে বা কারা মামলার কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন তা নিয়ে আলোচনা অবান্তর। যেহেতু জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা আজ স্বমহিমায়, সগৌরবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একদল সংগঠকের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা দেখেছি। দেখেছি তাঁদের সরব ও সক্রিয় প্রচেষ্টা। সংগঠনকে গতিশীল ও প্রসারের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে তাঁরা কাজ করেছেন।
১৯৮৯ সাল হতে নির্বাচন চালু হয়। তারই ধারাবাহিকতা আজ অবদি অব্যাহত আছে। সংগঠনের কাজ করার আমার সৌভাগ্য হয়েছে এম. এ. কাউয়ুম, সৈয়দ শওকত আলীর সাথে (ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক) আজমল হোসেন কুনুর সাথে ২ টার্ম। আজ প্রবাসের অন্যতম বৃহত্তম সংগঠন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা ইনক। জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনই সর্বপ্রথম নিউইয়র্কে পথ মেলা চালু করে। পরবর্তীতে অনেক সংগঠনই যা করে আসছে বা অদ্যাবধি চলে আসছে। আজ লক্ষাধিক সিলেটবাসীর জীবনের নোঙর উত্তর আমেরিকায়।
আসুন দলমত নির্বিশেষ সিলেটের ঐতিহ্য, গর্ব, অহংকারকে লালিত করে বিশ্ব সম্মেলনকে সার্থক ও সফল করে তুলি। তবেই আমরা আমাদের আগামী প্রজন্মকে সিলেটের ঐতিহ্যকে লালন করার দৃষ্টান্ত রেখে যেতে পারব। হয়তোবা সম্মেলনে থাকবে অনেক ভুল-ভ্রান্তি সবগুলোকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখাই হবে বড় পাওয়া। জালালাবাদ সিলেট বিশ্ব সম্মেলন এত বড় মাপের এ আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়ে কমিটিকে হৃদয় থেকে অভিনন্দন। বিবেকের তাড়নায় বিশেষ কয়েকটি নাম উল্লেখ করতে চাই আগ্রহ চিত্তে, যাদের অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে দেখেছি দিন-রাত কাজ করেছেন স্ব অঞ্চলবাসীর কল্যাণে। শফিকুল ইসলাম আহমেদ, ইকবাল আহমেদ মাহবুব, সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, তজমুল ইসলাম মখুন, দেওয়ান আজমল চৌধুরী, নজরুল ইসলাম, এম. এ. কাউয়ুম, রুকন উদ্দিন, লালা ভাই, রশিদ আহমেদ, হাজি এনাম, আব্দুর রহিম বাদশা, এখলাসুজ্জামান নুনু, মকবুল রহিম চুনই, আজিজুর রহমান সাবু, নজমুল হক হেলাল, ফারূক খান, আব্দুল মতিন, হারিস চৌধুরীসহ আরো অনেকে।
আজকের বিশ্ব সম্মেলনে সিলেট অঞ্চল থেকে আসা লোকজনের ঐক্যের আহ্বান আসুক। আমাদের প্রজন্ম আজ প্রবাসে এসে আমরা পেয়েছি আমাদের পূর্বসূরিদের পদ চিহ্ন। আমরা এ পদচিহ্নে অগ্রযাত্রার রাহপথ নির্মাণ করেছি। আমাদের পর উত্তর প্রজন্ম কি দেশে যাবে? তাদের পূর্বসূরিদের উৎসের সন্ধানে অস্তিত্বের প্রবাহ ধারায় আমাদের উত্তরসূরিরা কি করবে? আমরা জানি না, তারা কি হারিয়ে যাবে আবাসনের জনারণ্যে? যেমন করে হারিয়ে গেছে বহু জাতি গোষ্ঠীর মানুষ।
হেলিম উদ্দিন আহমেদ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন, নিউইয়র্ক।