ভুতুড়ে বাড়ির ডাইনি বুড়ি

রুবামা স্কুল বাস থেকে নেমে বাসায় ঢুকেই মার কাছে বায়না ধরল নেবারহুডের বাড়ি বাড়ি সে যাবে ক্যান্ডি কুড়াতে। হাউসগুলোর ডোরে ডোরে নক করে ট্রিক-অর-ট্রিট করে ক্যান্ডি নেবে। গত বছরেও সে ক্লাসের বন্ধুদের সঙ্গে গিয়েছিল। অনেক ক্যান্ডি পেয়েছিল। খুবই মজা হয়েছিল।
ওর মা বললেন, একা একা যাওয়ার দরকার নেই। বাবা আসুক তারপর না হয় বাবার সঙ্গে যেও।
কিন্তু রুবামা নাছোড়বান্দা। হ্যালোউইন ইভে সে বাবার সঙ্গে বের হবে? বাবা সঙ্গে থাকলে বন্ধুরা হাসাহাসি করবে।
সে যাবে দলবেঁধে সহপাঠী আর বন্ধুদের সঙ্গে। ফান করবে।
রুবামার জন্ম বাংলাদেশে। দেড় বছর বয়সে বাবা মার সঙ্গে কানাডার অভিবাসী হয় সে। এখন সে চতুর্থ গ্রেডের ছাত্রী। স্কারবোরো এলিজাবেথ সিমকো জুনিয়র পাবলিক স্কুলে পড়ে। অ্যালেক্স, ফে, নাটালি, সিনথিয়া ওর ক্লাসমেট; সকলে একই নেবারহুড গিল্ডউড পার্কওয়ে এলাকায় বাস করে। একই সঙ্গে স্কুলবাসে চেপে প্রতিদিন স্কুলে যায়। আজকে ৩১ অক্টোবর, হ্যালোউইন ডে উপলক্ষে ভয়ংকর সব ভুতুড়ে কস্টিউম আর মুখোশ পরে স্কুলে গিয়েছিল।
ফেরার পথে বাসে বসেই প্ল্যান করেছে সন্ধ্যার পর বের হবে দলবেঁধে ট্রিক-অর-ট্রিট করতে।
অক্টোবর মাসের শেষের দিকে এমনিতে দিন ছোট হয়ে আসে। বেলা পড়ে যায় খুব তাড়াতাড়ি। ঠান্ডাও পড়া শুরু হয়। গাছের রঙিন পাতাগুলো ঝরে পড়ে এক এক করে।
বাবার বাসায় ফেরার আগেই সন্ধ্যা ছয়টার দিকে মাথায় একটা লম্বা কালো হ্যাট পরে রুবামা বের হয়ে যায় বন্ধুদের সঙ্গে ট্রিক-অর-ট্রিট করতে।
রুবামার বাবা রহমান সাহেব ডাউন টাউনের এক প্রাইভেট কোম্পানিতে ডেটা এন্ট্রির কাজ করেন। মাসের শেষ দিন বলে অপরাহ্ণে ফাইনান্সের এত কাজ এসে জমা পড়ল যে, তা শেষ করে বাড়ি ফিরতে ফিরতে তার সাড়ে আটটা বাজল আজ।
বাড়ি এসেই শুনলেন মেয়েটা বন্ধুদের সঙ্গে দলবল মিলে হ্যালোউইনের ট্রিক-অর-ট্রিট করতে গেছে ক্যান্ডি খুঁটতে। এখনো ফেরেনি।
রুবামার মায়ের ওপর তার একটু রাগ হলো মেয়েকে একা যেতে দেওয়ার জন্য। শেষমেশ মেয়ের খোঁজ নিতে নিজেই বের হলেন প্রায় রাত নয়টার দিকে।
রহমান সাহেব গত বছরে স্কারবোরোর এই গিল্ডউড পার্কওয়ের নেবারহুডে নতুন বাড়ি কিনে মুভ হয়েছেন। নেবারহুডের হাউসগুলো মেইন রাস্তা থেকে একটু ভেতরে। তবে লোকেশনটা খুব সুন্দর, অন্টারিও লেকের একেবারেই কাছে। হাউসগুলো সেখানে একটার পর একটা সারি-সারি উপবৃত্তকার আকারে শেষ হয়েছে। পেছনে রয়েছে গাছগাছালি আর নানা ধরনের ম্যাপল বৃক্ষরাজি-শোভিত বন।
এত দিনে ভালো করে ওনার ঘুরে দেখাও হয়নি এলাকাটি।
কোথায় যাবেন কোনদিকে খুঁজবেন মেয়েকে। বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় উঠে কিছুটা দিশেহারা হলেন।

নেবারহুডের সুনসান নির্জন রাস্তা। ঠান্ডা হালকা হাওয়া বইছে। দু-একটা বাড়ির সম্মুখ বাতি জ্বলছে মাত্র।
আলো-আঁধারের মাঝে তিনি রাস্তায় পা রাখতেই দূরে আবছা আলোয় দেখলেন কয়েকটা ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা যেন যাচ্ছে ওদিকটায়। কথা বলছে একে অপরে আর চাপা হাসি হাসছে।
রহমান সাহেবও জোর কদমে এগোতে লাগলেন ওদিকেই। এই ভেবে যে, মেয়ে বোধ হয় ওই দলের সঙ্গেই আছে। কিছু দূর হেঁটে রাস্তাটার শেষ মাথা পর্যন্ত গিয়ে ছেলেমেয়েদের দলকে আর দেখতে পেলেন না।
হঠাৎ কোথায় যেন অদৃশ্য হয়ে গেল বাচ্চাগুলো। অবাক কাণ্ড।
দেখলেন রাস্তাটার ডান পাশে একটা পরিত্যক্ত বাংলো হাউস। অনেক পুরান বাড়িটার চিমনি ভাঙা। নড়বড়ে কাঠের খুঁটি ও বাইরের শুকনো দেয়াল খসে খসে পড়ার উপক্রম। ভাঙাচোরা ড্রাইভওয়ের শেষ দিকটায় বাড়িটি বিক্রয়ের জন্য রিম্যাক্স রিয়ালটরের এক সেলস এজেন্টের ফটোসহ হাউস ফর সেল নোটিশ কাঠের ফ্রেমে ঝোলানো। বাড়িটার বারান্দার সিঁড়িতে বড় একটা কারভিং করা পামকিনের ভেতরে উজ্জ্বল আলো জ্বালানো। কিম্ভূতকিমাকারে দাঁত খিঁচিয়ে সেটা যেন রহমান সাহেবের দিকেই তাকিয়ে বলছে—হাই।
হাউসটার জানালাগুলো দিয়ে সবুজাভ কেমন আলো ঠিকরে বের হচ্ছে। ঘরগুলোতে নর্দার্ন লাইটসের মতো নীল-সবুজ আলোর বন্যা বইছে যেন এই সন্ধ্যায়। জীর্ণ এক কুটিরের মতো ভীষণ ভৌতিক ও ভুতুড়ে লাগছে হাউসটিকে।
আকস্মিক হাউসটির প্রধান ফটকটা খুলে মুহূর্তেই রহমান সাহেবের সামনে লাফিয়ে পড়ল দৈত্যবৎ বিশাল দোহারা গড়নের লম্বা এক কুৎসিত ষাটোর্ধ্ব বুড়ি। কালো হুডেড আলখাল্লার মতো ঘাঘরি পরিহিতা বুড়ির নাকটা খাঁড়া লম্বা। তার মাথার ঝাঁকড়া পাকা চুল বেশ বিন্যস্ত। চোখজোড়া সাদা টেবিল টেনিস বলের মধ্যে নীল চোখের মণি বসান। কপাল ভরা অসংখ্য বলিরেখা। চোয়াল ও চিবুকে বার্ধক্যের ভাঁজ। সঙ্গে ভয়ংকর চাহনি।
রহমান সাহেব আচমকা এ দৃশ্যের কথা চিন্তাও করেননি। তাই প্রথমে একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেলেন আর ভয়ও পেলেন।
ভয় পাওয়া দেখে বুড়ি এবার নাকি নাকি সুরে হিঁ হিঁ হিঁ করে হেসে উঠল।
তারপর সুরেলা ব্রিটিশ অ্যাকসেন্টে কথা বলল, হ্যাঁলো মিঁ রঁহমান, আঁই অ্যাঁম মিঁস জেঁনিফার, লোঁকে আঁমাকে জেঁনি বঁলেই চেঁনে। ক্যাঁন আঁই হেঁল্প ইঁউ?
রহমান সাহেব ভাবলেন, আরে এই বয়স্কা ভদ্রমহিলা আমাকে চেনেন নাকি? আমার নাম জানল কী করে? আর এ রকম নাকে নাকে কথা বলছেনই বা কেন?
তাই ইতস্তত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, হ্যালো, হাউ আর ইউ ডুইং? ডিড ইউ সি এ গ্রুপ অব চিলড্রেন মিস জেনি? আই অ্যাম লুকিং ফর মাই ডটার, হার নেম ইজ রুবামা রহমান।
বুড়ি এবার হেঁ হেঁ হেঁ করে আবারও গালভরা একটা কুটিল হাসি দিয়ে বলে উঠল, ওঁ ইঁয়া, দেঁ আঁর ইঁনসাইড অঁফ দিঁ হাঁউস, ইঁয়োর ডঁটার মাঁইট বিঁ উঁইথ দেঁম। কাঁম-অঁন ইঁন!
রহমান সাহেব বাড়িটার ভেতর থেকে আবারও বাচ্চাদের মৃদু কথাবার্তা ও চাপা হাসির শব্দ শুনতে পেলেন। তাই কিছুটা আশান্বিত হয়ে বুড়িকে অনুসরণ করে হাউসটার ভেতরে ঢুকলেন। ঢুকেই তার চক্ষু চড়কগাছ হলো।
ঘরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই বুড়ি ডোরটা খটাশ করে লক করে দিল।
রহমান সাহেব দেখতে পেলেন লিভিং রুমটার ভেতর ভীষণ অপরিষ্কার। ময়লা কালিমাখা ঝুল আর মাকড়সার জালে ছাওয়া। পুরা রুমটা ভূতপ্রেত আর প্রেতাত্মার ছবিওয়ালা মুখোশ দিয়ে সাজান। মনে হচ্ছে এ যেন ভূতপ্রেতের মিউজিয়াম।
ঘরের কোনাগুলোতে দাঁড় করে রাখা নর-কঙ্কাল। ছোট বড় নানা সাইজের। মনে হতে লাগল মৃত্যুর পর অশুভ অতৃপ্ত আত্মা নিয়ে সেগুলো আবির্ভূত হয়েছে এই ঘরটায়।
ভাঙা কাউচগুলোর ওপরেও বড় বড় জায়ান্ট মাকড়সা আপন মনে জাল বুনে যাচ্ছে শিকার ধরার লালসায়।
এ রকম ঘর দেখে ভিমরি খাওয়ার মতো অবস্থা হলো রহমান সাহেবের।
বুড়ি একটা কাউচসোফা দেখিয়ে রহমান সাহেবকে বসতে বলল। মুচকি হেসে একটু ভান করে কিচেনের দিকে গেল কফি আনার অজুহাতে। কিচেনটা লিভিং রুমের সঙ্গেই লাগান।
রহমান সাহেবের আর বুঝতে বাকি রইল না যে তিনি গলদ জায়গায় এসে পড়েছেন।
পাশের রুম থেকে তিনি আবারও বাচ্চা ছেলেমেয়েদের অস্পষ্ট গলার আওয়াজ পেলেন। ভীষণ কৌতূহলবশত উঁকি মেরে কিছু দেখার চেষ্টা করতে লাগলেন। কিন্তু যা দেখলেন তাতে রহমান সাহেবের আত্মারাম খাঁচাছাড়া হওয়ার উপক্রম হলো।
সেটা একটা ফ্যামিলি রুম বলে মনে হলো রহমান সাহেবের। দেখতে পেলেন সেখানে আট-দশ জন বসে আছে। পরনে অদ্ভুত পোশাক-আশাক। ভয়ংকর চেহারার অশরীরীও ভূত-প্রেত। তাদের কয়েকজনকে মহিলা বলেও মনে হলো। পেত্নী হবে হয়তো। একটা কফি টেবিলে বেশ কটা মদিরার বোতল ও পান-পাত্র দেখা গেল।
তাদের হাতের লোমশগুলো ছিল শূকরের লোমের মতো খাঁড়া খাঁড়া।
দলবাধা ভূতপ্রেত দেখে রহমান সাহেব ভয়ে শিউরে উঠলেন। ওদের কয়েকজন ফ্লোরে বসে পাশা খেলছে কয়েকজন প্লেয়িং কার্ড খেলা নিয়ে ঝগড়া করছে। বাকি কয়জন ঝিম্টানি খাচ্ছে। ঝিমানো দেখে মনে হয় খুব বেশি পান করে ফেলেছে।

কিন্তু বাচ্চাদের গলার আওয়াজ যে পাওয়া গেল তারা কোথায়? বিস্ময়ের ব্যাপার।
কিছুক্ষণ পর ওই ঘরটা থেকে নাঁকি নাঁকি কর্কশ স্বরের আওয়াজ এল—গেঁট রেঁডি বাঁডি, ইঁট্স টাঁইম টুঁ স্টাঁর্ট অঁপারেশন।
রহমান সাহেবের বুঝতে বাকি রইল না যে মহাবিপদ আসন্ন। কিন্তু দমে যাওয়ার পাত্র নন তিনি। পরম করুণাময়কে স্মরণ করে সাহায্য প্রার্থনা করতে লাগলেন।
সেই ফাঁকে ছোটবেলার অনেক স্মৃতিকথা ওনার ফ্ল্যাশব্যাক হতে লাগল। নানির কাছে যত ভূতের গল্প শুনেছেন সেগুলো মনে পড়তে লাগল।
ছোটকাল থেকেই রহমান সাহেব খুব সাহসী ছিলেন। ভূতপ্রেত বিশ্বাস করতেন না। কত দিন রাত করে ভূত দেখতে গেছেন। বাড়ির কাছে একটা বহু পুরান শিমুল গাছ ছিল। লোকে বলত ওই গাছে নাকি ভূতের বাস ছিল। রহমান সাহেব তখন ক্লাস সিক্সের ছাত্র। একবার রাতভর বৈঠকখানার বারান্দায় ঠায় বসে ছিলেন ভূত দেখার জন্য। কিন্তু সেই রাতে এক বিশালাকায় উড়ন্ত ধূসর লক্ষ্মীপেঁচা ছাড়া আর কিছুই দেখেনি।
একবার ছোট চাচুর সঙ্গে গাঙে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন মাঝরাতে। ফেরার পথে পেছন থেকে সত্যিই-এঁই মাঁছটা দেঁ খাঁই...সাযুজ্যের কথা শুনতে পেয়েছিলেন।
রহমান সাহেব আবিষ্কার করেছিলেন রাস্তার পাশের আখ খেত থেকে একটা অতিশয় ক্রুদ্ধ শিয়াল জাতিও প্রাণী অনেকটা ওরকম খ্যাক খ্যাক করে আওয়াজ করছিল। গ্রামের লোকের কাছে প্রাণীটি ফেউ নামে পরিচিত ছিল।
ছোট চাচু অবশ্য ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, ওই তো, ভূতপ্রেতরা অন্য প্রাণীর চেহারা ধারণ করে আসে।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ক্লাস নাইনের ছাত্র থাকাকালে একদিন রাতে বাজার থেকে ফেরার পথে জঙ্গলের ধারে এক কালীমণ্ডপের কাছ দিয়ে হেঁটে আসার সময় খুব ভয় পেয়েছিলেন রহমান সাহেব।
অন্ধকারে মানুষের কর্তিত মাথার মালা পরিহিতা কালীমাতার মূর্তি ওই মন্দিরে দেখে গা ছমছম করে উঠেছিল। সেখানে রাস্তার ওপরই ছিল একটা বড় শ্যাওড়া গাছ। মনে হয়েছিল কী যেন একটা উড়ন্ত আবছায়া বস্তু গাছটার ডাল থেকে লাফিয়ে ঘাড়ের ওপর উঠতে চাচ্ছিল।
তখন চিৎকার করে রহমান সাহেব নিজের তৈরি ভূত তাড়ান মন্ত্র পাঠ করেছিলেন:
আট্লি বাট্লি যারে ছুটে,
খারে খা চেটে পুটে-
ভূতের মা খালারে ধরে খা...
পুরান দিনের এসব কথা মনে করতে করতে ওদিকে কিচেনের দিকে চোখ পড়তেই রহমান সাহেব দেখলেন ডাইনি বুড়িটা ধারালো কিচেন নাইফটা হাতে নিয়ে হাতটা পিঠমোড়া করে লুকিয়ে এদিকটায় আসছে। আর বিদ্রূপের ছলে মুখ টিপে হাসছে।
এবার সাহস সঞ্চয় করে ভাবলেন, বাংলাদেশের কোথাও ভূত দেখতে পেলাম না আর এখন এই বিদেশে কানাডার অথর্ব বুড়ি ভূতের খপ্পরে পড়ে পরানটা হারাব?
না-তা কিছুতেই নয়। বুড়ি ঘরে ঢুকে কাছে আসতেই রহমান সাহেব জোরে জোরে সহজ বাংলা ভাষায় সেই ভূত মন্ত্র পাঠ করতে শুরু করলেন:
আট্লি বাট্লি যারে ছুটে,
খারে খা চেটে পুটে-
ভূতের মা খালারে ধরে খা...
এই মন্ত্র জপ করে, ই-য়া আলী বলে চিৎকার দিয়ে পেছনের ডোরটায় কষে এক লাথি মেরে হাউসের ব্যাক ইয়ার্ডে গিয়ে নামলেন। ইতিমধ্যে বুড়ি ধারালো নাইফটা নিয়ে পিছে পিছে ধাওয়া করল আর ঘরের ভেতরে বসা সব কয়টা ভূতপ্রেত হাতে বেলচা, দুমুখী শাবল খন্তা চাকু ছোরা নিয়ে সদলবলে বুড়ির সাহায্যে এগিয়ে এসে রহমান সাহেবের পিছু নিল।
রহমান সাহেব ব্যাক ইয়ার্ডের এক গাছের ডাল ধরে অ্যাক্রোব্যাটের মতো একটা ঝুল্লি মেরে কাঠের পুরান ফেঞ্চ ভেঙে একেবারে এক ভোঁ দৌড় দিয়ে অন্ধকারে পেছনের ম্যাপল বনে গিয়ে পৌঁছালেন। বনভূমিতে পড়ে থাকা শুকনো ঝরা পাতার মর্মরের তালে তালে সামনের দিকে দৌড়াতে লাগলেন নাভিশ্বাসে। কোনদিকে যে যাবেন অন্ধকারে ঠাওর করতে পারলেন না। এত ঠান্ডার মধ্যেও রহমান সাহেবের গা ঘেমে গেল।
অবশেষে হাঁফাতে হাঁফাতে পাথুরে এক সরু রাস্তায় এসে উপস্থিত হলের। সামনের দিকে অনতিদূরে অন্টারিও লেক দেখতে পেলেন। বুঝতে পারলেন এতক্ষণ গিল্ডপার্কের গাছগাছালি অতিক্রম করেছে তিনি। সরু রাস্তা ধরে লিভিংস্টোন রোডে কোনোমতে এসে দাঁড়ালেন।
তাড়াতাড়ি কোনার এক ডেইজি মার্ট মুদিদোকান থেকে এক বোতল পানি কিনে গলাটা ভিজিয়ে নিলেন আগে। তারপর নিজের বাড়ির দিকে এগোতে লাগলেন।
বাড়িতে পৌঁছে ডোর বেল বাজাতেই রুবামা এসে খুলল আর জিজ্ঞাসা করল, বাবা তুমি এতক্ষণ কই ছিলে? আমি সেই কখন চলে এসেছি।
ক্যানভাসের একটা ব্যাগ দেখিয়ে বলল দেখ দেখ এবারও কত ক্যান্ডি পেয়েছি আমি!
হলুদ রঙের ক্যানভাসের ব্যাগটা সত্যিই ক্যান্ডিতে ভরা।
রহমান সাহেব লক্ষ্য করলেন ব্যাগটার গায়ে কারভিং করা দাঁত খিঁচানো একটা কমলা রঙের পামকিনের ছবি। আর তার ঠিক ওপরে আঁকানো এক কুৎসিতদর্শনা বুড়ি।
যার চেহারা ওই ভুতুড়ে বাড়ির ডাইনি বুড়ির চেহারার সঙ্গে হুবহু মিল।
(লেখক কানাডার টরন্টোপ্রবাসী। ই-মেইল: [email protected])