প্রশংসা - ঠিক না ভুল?

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

প্রশংসা সবারই কাম্য। সঠিক মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সামান্য প্রশংসা একমুহূর্তে সব বিষণ্নতা ভুলিয়ে দিতে পারে, জোগাতে পারে নতুন উদ্যম। অনেকটা ওষুধের মতো কাজ করে প্রশংসা।


তবে সব ক্ষেত্রে প্রশংসা কি ঠিক? সাবধান! অতিরিক্ত প্রশংসা কিন্তু বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।


ধরি, মেয়েটির নাম রুমি। পরিবারের সবার আদরের মেয়ে রুমি যা–ই করুক না কেন, খারাপ হলেও সবাই তাকে সবকিছুতেই ভালো বলে, কারণ রুমির মনে আঘাত দিতে কেউ চায় না। একবার স্কুলের রচনা লেখা প্রতিযোগিতায় প্রথম না হয়ে তৃতীয় হয় রুমি। বাড়ি ফিরে সে পুরস্কার পাওয়া কাচের বাটি আছড়ে ভেঙে ফেলে, কেঁদে বাড়ি মাথায় তোলে রুমি।


যে শিশুটি অতিমাত্রায় প্রশংসা শুনে অভ্যস্ত, তার মধ্যে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। ফলে সে সফল হতে না পারাকে অপরাধ মনে করে। লক্ষ্য অর্জনে একটু কমতি হলেই রুমির মতো হাত পা ছড়িয়ে কাঁদতে বসে সে।


আবার অন্যদিকে, অতি আত্মবিশ্বাস মানে সবকিছুতে অতিরিক্ত ভালো করার চেষ্টা। খুব ভালো করতে হবে ভেবে কোনো কাজই ঠিক সময়ে শেষ করা হয়ে ওঠে না। এই যেমন, স্কুলের কোনো কাজে যদি কোনো শিশু চায় অন্তত ৯০ শতাংশ নম্বর পেতে, আর তার মধ্যে ধারণা থাকে যে এর চেয়ে কম পাওয়া যাবেই না কিছুতেই, তবে একই কাজ ভালো হলেও নিজের সন্তুষ্টির জন্য আরও ভালো করতে গিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে সেই কাজ আর জমা দিতে পারে না সেই শিশুটি। ফলাফল? ৯০ শতাংশ তো দূরে থাক, দেরির জন্য ৫০ শতাংশ নম্বরও আর পাওয়া হয়ে ওঠে না।


আবার ধরি, ছেলেটির নাম সুমন। সে যা–ই করতে চায়, সবকিছুতেই মা–বাবার এক উত্তর—না। ফলে সুমনের একটা পর্যায়ে গিয়ে ধারণা হয় যে সে কোনো কাজ করতেই পারে না। যে শিশুটি একেবারেই প্রশংসাহীন, অতিরিক্ত না শুনে শৈশব কাটায়, তার মধ্যে আত্মবিশ্বাসের চরম ঘাটতি দেখা যায়। আর এই ‘আমি কিছুই পারি না’ মানসিকতা তার পরবর্তী জীবনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই হয়তো এই ‘আমি কিছুই পারি না’ এবং ‘আমি সবই পারি’ এই দুই মানসিকতার মাঝামাঝি থাকাই ভালো। আচ্ছা, যা পারি না, সেটাকে চেষ্টা করে আর একটু শিখে নেওয়া যায়, আর যা পারি, সেটা চেষ্টা দিয়ে আর একটু বাড়িয়ে নেওয়া যায়। সফল হতে হলে একটু হোঁচট খেতে হয়, অতি প্রশংসা যেন সেটা ভুলিয়ে না দেয়।