পোল্যান্ডে উৎসাহ-উদ্দীপনায় বৈশাখবরণ

সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশগ্রহণকারীদের একাংশ
সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশগ্রহণকারীদের একাংশ

পুরোনো বছরের আবর্জনাকে দূরে ঠেলে দিয়ে সুন্দর আগামীকে আহ্বান করতে পোল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে উৎসাহ–উদ্দীপনায় উদ্‌যাপন করা হয়েছে পয়লা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকায় দিনটি বাংলাদেশের সঙ্গে মিলিয়ে একই দিনে পালন করা হয়।

আয়োজনে পোল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান, ভিস্তুলা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর ইয়ালানতা সিসকো ও পোল্যান্ডে বাংলাদেশের অনারারি কনস্যুলার ওমর ফারুক উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানের সৌন্দর্যকে অনেক গুন বাড়িয়ে দিয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিভিন্ন দেশের নাগরিকেরা উপস্থিত থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে আরও জাঁকজমকপূর্ণ করে তোলেন। আয়োজনে মূল আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন তারেক আজিজ ও রোজ হাসান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মিউজিক দলের পরিবেশরা
বিশ্ববিদ্যালয়ের মিউজিক দলের পরিবেশরা

অনুষ্ঠানের মূল আয়োজনে ছিলেন পোল্যান্ডে বসবাসরত নবীন ও প্রবীণ শিক্ষকেরা। সফল অনুষ্ঠান আয়োজনে মূল ভূমিকা পালন করেন ড. মাহবুবুর রহমান, এমদাদ খান, অশোক সেন, তানিয়া আফরিন, সাকিন ওয়াহাব, মেহেদি হাসান, তারেক আজিজ, মহন্ত শীল, শাহরুল আলম ও তাপস বড়ুয়া। সহায়তা করেন কাজি সাইফ। এ ছাড়া আরও কিছু নাম উল্লেখ্য। তারা হলেন রুবেল হাসান, রোমানা হাসান, শেখ এরশাদুর রহমান ও খলিফা মোহাম্মদ নাঈম। রিহার্সাল ও অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয় সব ধরনের কাজের জন্য স্থান সংকুলানের সহায়তা করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

বক্তব্য দেন রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান
বক্তব্য দেন রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান

দুই দেশের জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রথমে বাংলাদেশে পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপনের ওপর একটি ভিডিও ক্লিপ দেখানো হয়। এরপর ছোট্ট মেয়ে দীপিকা আইলো আইলো বৈশাখ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে। জয় গোস্বামীর মেঘ বালিকার রূপকথা ও বিদ্রোহী নজরুলের কান্ডারি হুঁশিয়ার কবিতা আবৃত্তি করে আনিকা ও অশোক। নৃত্য পরিবেশন করেন তানিয়া আফরিন। উল্লেখ্য, তিনিই ছিলেন মূল নৃত্য পরিচালক।

আয়োজক ও অন্যরা
আয়োজক ও অন্যরা

এরপর অশোক সেনের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী শাহ আবদুল করিমের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গান গ্রামের নওজোয়ান পরিবেশন করেন। এ ছাড়াও অশোক ও রোজের দ্বৈত নৃত্য, তানিয়া-দীপিকার দ্বৈত নৃত্য অনুষ্ঠানকে আকর্ষণীয় করে তোলে। এ ছাড়া পোজনান থেকে আগত সাকিব সংগীত পরিবেশন করেন। তবে অনুষ্ঠানের আলোচনার কেন্দ্রে ছিল কমলা সুন্দরী হিসেবে ইউক্রেনের মেয়ে মিলিসার সঙ্গে তানিয়া ও রোজের নৃত্য; বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশি শাড়ির ফ্যাশন শো ও বিশ্ববিদ্যালয় মিউজিক ক্লাবের পরিবেশনায় গান। সুন্দর হাতের কাজের জন্য সাকিন ওয়াহাব ও সুন্দর নাচের কোরিওগ্রাফির জন্য তানিয়া আফরিনের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।

দর্শকদের একাংশ
দর্শকদের একাংশ

বৈশাখ বরণের এই আয়োজন পোল্যান্ডের প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি কমিউনিটি হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াসকে বেগবান করবে বলে আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি ও নিজস্বতাকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে ভূমিকা রাখবে। বিজ্ঞপ্তি।