ছেলেটা সারাক্ষণ দাদা দাদা করে

নাকাওমি লেকের পাশে লেখক পরিবার

জাপানের শিমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছি। সেই সূত্রে থাকছি মাতসুয়ে সিটিতে। অনেক দিন হলো দেশে ঈদ করা হয় না, এমনকি করোনাকালে দেশের মাটিতে পা রাখাও হয়নি। অথচ মনটা আমাদের সব সময় পড়ে থাকে দেশে। আমার মা, বাবা, দুই ভাই এবং আমার স্ত্রী, সোমার মা, বাবা, ভাইবোন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, আমাদের ছোট্ট বাবু, শোয়াইবকে দেখবে বলে, একটু আদর করবে, যে কিনা ২০২০ সালের ৬ জুন এই জাপানেই জন্ম নিয়েছে। আমার ছেলেটা সারাক্ষণ দাদা দাদা করে। আমার ফোন পেলেই দাদাকে কল করে ফেলে। জানি না তার কেন এত টান দাদার প্রতি।

গত রোজার ঈদটা ছিল তার জীবনের প্রথম ঈদুল ফিতর। মাতসুয়ে শহরের যেখানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়, ঠিক তার সঙ্গেই মুসলিম কমিউনিটি মিলে একটি মসজিদ তৈরি করে ফেলেছে। আমরা সেখানেই নামাজ পড়ি। কিন্তু ঈদের জামাতে পরিবারের সবাই অংশগ্রহণ করার কারণে অনেক বেশি লোকসমাগম হয়। সে জন্য আমরা সরকারি ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি সেন্টারে ঈদের জামাতের আয়োজন করি। নামাজ শেষে সবাই মিলে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করি। প্রতিটি পরিবার যে যার মতো করে রান্না করে নিয়ে আসে। কেউ পোলাও, বিরিয়ানি, জর্দা, সেমাই, দই , মিষ্টিসহ নানান পদের ঈদের খাবার। সুদূর প্রবাসে আমরা গলাগলি, কোলাকুলি করে একাকার হয়ে যাই ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে। বিকেলের দিকে যে যার মতো পরিবার–পরিজন নিয়ে বা যারা ব্যাচেলর তারা একসঙ্গে ঘুরতে বের হয়ে যায়। কারও কারও আবার সেই সুযোগও থাকে না। হয়তো কারও পরের দিনই কোনো গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট দেওয়ার দরকার হয়, আবার কেউ হয়তো বিকেলের দিকে খণ্ডকালীন কাজে যায়। কিন্তু যে যতটুকু পারে, সবাই যার যার সাধ্যমতো আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। জাপান অনেক সুন্দর একটি দেশ পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন এবং কোলাহলমুক্ত।

গত বছর ঈদের সময় আমরা বিকেলে ঘুরতে গিয়েছিলাম লোকালয় ছেড়ে একটু দূরে, নাকাওমি লেকে। বিকেলের মৃদু হাওয়া এবং একঝাঁক দেশি পরিবারের কোলাহলে মুখর হয়ে ওঠে লেকটির এলাকাজুড়ে। মনে হয়েছিল যেন জাপানের বুকে এক টুকরো বাংলাদেশ। ওপরের ছবিটি সে দিনেরই তোলা। আমাদের শোয়াইবের প্রথম ঈদটাও ছিল ছবির মতোই সুন্দর, বর্ণিল, অপূর্ব!