কাজী নজরুল হতে পারেন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব

‘কেউ বলেন আমার বাণী যবন, কেউ বলেন কাফের। আমি বলি ও দুটোর কোনোটাই না। আমি শুধু হিন্দু মুসলিমকে এক জায়গায় ধরে নিয়ে হ্যান্ডশেক করানোর চেষ্টা করেছি, গালাগালিকে গলাগলিতে পরিণত করার চেষ্টা করেছি।’ কাজী নজরুল ইসলাম তার এক ভাষণে এসব কথা বলেছিলেন।

বাঙালি জাতির খুব আপন দুখু মিয়া জন্মেছিলেন এক মুসলমান পরিবারে। জন্মসূত্রে তিনি মুসলমান এবং তাঁর পিতা ছিলেন মসজিদের একজন ইমাম এবং মাজারের খাদেম। তিনি নিজেও মসজিদের মুয়াজ্জিন এবং কবরের সেবক হয়ে কাজ করেছিলেন কিছুদিন। তাঁর লেখাপড়া শুরু হয়েছিল মাদ্রাসায়। একজন মুসলমান পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন নাট্যকর্মী, গীতিকার, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সৈনিক। সাম্যবাদের অগ্রদূত এবং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা কবিতা, গান, গল্প, ইসলামি গান, শ্যামা সংগীত এবং হিন্দুদের কীর্তন বিখ্যাত হয়ে আছে আজও। তিনি ইসলামকে ভালোবেসে বাংলা সাহিত্যে ইসলামি চেতনার চর্চা শুরু করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন সাম্যবাদে। যার প্রমাণ তার শেষ ভাষণ ছাড়াও তার ব্যক্তিগত জীবনী, লেখায়, কর্মজীবনের প্রতিটি ধাপে স্পষ্ট হয়ে ফুটে আছে। তাঁর জীবনসঙ্গিনী ছিলেন প্রমীলা দেবী এবং তাঁদের চার সন্তানের নাম রেখেছিলেন হিন্দু এবং মুসলমান নামের সংমিশ্রণ করে কৃষ্ণ মুহাম্মদ, অরিন্দম খালেদ (বুলবুল), কাজী সব্যসাচী এবং কাজী অনিরুদ্ধ।
বর্তমান বিশ্বে প্রগতিশীল অনেক মানুষ থাকলেও সাম্যবাদে বিশ্বাসীদের সংখ্যা এখনো নগণ্য। তাই মানুষে মানুষে, জাতিতে জাতিতে, ধর্মে ধর্মে লেগে আছে বিবাদ। নষ্ট হচ্ছে বিশ্বশান্তি। আর বাংলাদেশে ধর্মবিশ্বাস নিয়ে বর্তমানের সাম্প্রদায়িকতা খুবই দুঃখজনক। যদিও জাতি হিসেবে খুবই ভাগ্যবান আমাদের জীবনে আলো ছড়িয়ে রেখেছে কাজী নজরুল ইসলামের মতো সাম্যবাদী একজন লেখকের লেখা, তাঁর জীবনী। তাঁর জীবনী হোক স্কুলের প্রতিটি ক্লাসের বাংলা বিষয়ের পাঠ্যবইয়ের বাধ্যতামূলক একটি চ্যাপটার। তাঁর লেখা এবং জীবনীর আলোতে আলোকিত হোক কিশোর কিশোরীদের অন্তর। বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় এক ব্যক্তিত্ব হতে পারে বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।