আমাদের দেশে কোনো রাজা নাই

আমাদের দেশে কোনো রাজা নাই,
শত বছর ধরে আমেরিকার জনগণ জানে সে কথাই।
ট্রাম্প নামে একদা আমেরিকায় এক হবুচন্দ্র রাজা হলো,
সেই থেকেই আমেরিকা নাকাল হচ্ছে বিশ্বের কাছে,
তাতে হবুচন্দ্র প্রেসিডেন্টের কী–বা যায় আসে?
সময় কাটে তার টুইটারে টুইট করে করে,
কথায় কথায় রাজা–উজির, আর ইসলামিস্ট টেরোরিস্ট মেরে…!

এভাবেই বছর গড়িয়ে যায়,
টুইটরাজা নিজেকে না শোধরায়।
এই সময়েই করোনা বিশ্বে দিল হানা।
আমেরিকায় যখন লাশের মিছিল, নিউইয়র্ক যখন মৃত্যুপুরী,
ট্রাম্প ডেকে বলল সকলে, এসব নিয়ে তোমরা ভেব না,
এই রোগের চিকিৎসা মোর জানা।

বিশ্বের যত বড় বড় গবেষক, ডাক্তার, কবিরাজ সবাই দিশেহারা,
ডাক্তার ট্রাম্প বললে, তাদের গবেষণা, চিকিৎসা সব ভুলভালে ভরা।
যত সাংবাদিক, মিডিয়া যত, এমনকি ‘হু’–ও মিথ্যা বলে তত
আমি ক্ষমতাশালী রাজা এক, এই দুনিয়া চলবে আমার কথামতো।
টাকাকড়ি সবই দিলাম তবু কথা শোনে নাকো, নিমকহারাম যত।

করোনার ভয়ে জনগণ যখন আইসোলেশনে বসে আছে সব ঘরে,
ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেকে বলে রাজ্যসভারে,
রোগের ভয়ে লকডাউনে থাকলে বসে ঘরে,
রাজকার্য, ব্যাবসা–বাণিজ্য, অর্থের চাকা চলবে কী করে?
এখনই আমি সারা আমেরিকা খুলে দিতে চাই।
আমার কথার অবাধ্য হবে যারা, বিদ্রোহী তারা সবাই।

মরে যদি কিছু মানুষ, যাক না তারা মরে,
গরীব, দুঃখী, উদ্বাস্তু, ছোটজাত সব কে–বা তাদের গণনা করে?
থাকতে যদি চায় এ দেশে তারা, যত কালো, হাভাতেরা, করতে হবে কাজ।
নইলে তারা স্বপরিবারে নিজের দেশে চলে যাক।
আমার সাদা দেশে থাকবে শুধু সাদারাই।
গ্রেট আমেরিকা গ্রেট থাকবে সদাই।

মহামারি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আ্যন্থনি ফাউসিকে ডেকে,
চাকরি যাওয়ার হুমকি দিতেই, তিনিও গেলেন বেঁকে।
তিনিও নারাজ খুলতে এখনই লকডাউনের তালা,
অবুঝ ট্রাম্প যতই করুক কান তার ঝালাপালা।
নিউইয়র্কে যখন লাশ সামলাতে ব্যস্ত আছেন কুমো,
প্রেসিডন্ট বলেন—লাশ ফেলে রাখো, লকডাউন তোল, স্কুল, ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান সব খোল।
যা চেয়েছ, ভিক্ষা দিয়েছি তাই, এখন আমার সব কথা তোমার শোনা চাই।

‘সিজোফ্রেনিয়াগ্রস্থ ডোনাল্ড ট্রাম্প, এইবার তুমি থাম’
তর্জনি তুলে বললেন তাকে গভর্নর কুমো।
আমরা নিউইয়র্কার,
সাদা–কালো সবাই মিলে গড়েছি বিশ্বের এই রাজধানী।
আমদের আছে সংবিধান, আছে পিতামহদের বাণী।
আমরা জনগণ ভোট দিয়ে রাষ্ট্রনেতা বানাই।
আমরা কোনো হবুচন্দ্ররাজা চাই না,
আমাদের দেশে কোনো রাজা নাই।