আমরাই ছড়াচ্ছি করোনাভাইরাস

এই মুহূর্তে আমি বিছানায় শুয়ে আছি। গত মাসের ২০ তারিখ থেকে আমি হোম কোয়ারেন্টিনে। বিছানাই আমার পৃথিবী, রুমের বাইরে বের হতে পারছি না, করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করছি।

একটু পেছনের গল্প বলি, সৌদি আরবে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায় ২০২০ সালের মার্চ মাসের ২ তারিখে। আমি একটি কোম্পানিতে মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টে কাজ করি। এ কারণে প্রতিদিনই বাইরে বের হতে হতো। নিজের মধ্যে বাঁচার প্রচণ্ড ইচ্ছা নিয়ে গত ১৬ মাস সঠিকভাবে সুরক্ষাবলয় থেকে কাজ করেছি, এরপরও আজ আমি করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করছি।

আমি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করি, তাদের একটি শাখার ৩৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আমরা একটি ভবনে থাকি। গত ১৫-১৬ দিন আগে আমাদের অফিসের একটি ছেলের মধ্যে করোনার লক্ষণ দেখা দেয়, সঙ্গে সঙ্গে আমরা তাঁকে ডাক্তারের কাছে যেতে বলি, ডাক্তার তাঁর লক্ষণ দেখে করোনা পরীক্ষা করতে বলেন।

ছেলেটি অসচেতন এবং ভিতু প্রকৃতির হওয়ার কারণে করোনার সব লক্ষণ থাকার পরও করোনা পরীক্ষা না করে আমাদের জানান, ডাক্তার তাকে সাময়িক ওষুধ দিয়েছে, তার অন্য কোনো সমস্যা নেই। আমরাও তাঁর কথা বিশ্বাস করে সবাই নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত হয়ে গেছি।

৫ দিন পর ছেলেটি যখন পুরোপুরি অসুস্থ, তখন সে শুধু একা অসুস্থ না, তাঁর সঙ্গে সঙ্গে আমাদের অনেকের মধ্যেও করোনার লক্ষণ বিদ্যমান, এবার আর করোনা পরীক্ষা নিয়ে লুকোচুরির সুযোগ নেই। পরের দিন ২৮ জন করোনা পরীক্ষা করার পর আমরা ২৪ জন করোনা পজিটিভ সঙ্গে প্রথম করোনায় আক্রান্ত হওয়া ছেলেটিও।

কোয়ারেন্টিন
প্রতীকী ছবি

পুরো ঘটনাটির জন্য প্রথম করোনায় আক্রান্ত ছেলেটি শুধু একা দায়ী নয়, আমরাও দায়ী। আমাদের সবার অসচেতনতার জন্য আজ আমরা সবাই করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করছি। পুরো বিষয়টি ঘটেছে বিদ্যুৎ গতিতে, হয়তো একটু সচেতন হলে সবাইকে আক্রান্ত হতে হতো না। প্রবাসী হওয়ার কারণে পাশে কেউ নেই। হয়তো সুস্থ হয়ে যাব কিন্তু এই সময়টা স্মৃতির পাতায় থেকে যাবে অজন্মকাল।

আসুন, নিজের জন্য, পাশে থাকা মানুষের জন্য হলেও একটু সচেতন হই। পৃথিবীটাকে সুস্থ থাকার জন্য সচেতন হই।