অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব আইনে আরও পরিবর্তন

আনুষ্ঠানিক নাগরিকত্ব প্রদান অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল
আনুষ্ঠানিক নাগরিকত্ব প্রদান অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল

 সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব আইনে এসেছে আমূল পরিবর্তন। যা বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পার্লামেন্টে (জাতীয় সংসদ) পাসের অপেক্ষায় রয়েছে। পাস হলেই পুরোপুরি আইনে পরিণত হবে বিলগুলো। এ পরিবর্তনের নানা ধারায় নতুন করে সংযোজন হচ্ছে সন্তানদের নাগরিকত্বকে নোঙর হিসেবে কাজে লাগিয়ে অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিভাবকেরা অভিবাসন দেওয়ার যে প্রক্রিয়া তৈরি করেন তা বন্ধ করতে। এ ব্যাপারে বিধিনিষেধ আসছে।

নতুন নীতির অধীনে সন্তানেরা তাদের দশম জন্মদিনে আর নাগরিক হয়ে উঠবে না, যদি না তারা অস্ট্রেলিয়ায় বৈধভাবে বাস করে। শিশুটির জন্মের সময় যদি তার বাবা–মা প্রকৃত ভিসার প্রমাণপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয় তাহলেও শিশুটি আর অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পাবে না। অর্থাৎ অভিভাবকেরা অবৈধভাবে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করলেও আগে যেমন জন্মসূত্রে শিশুটি তার দশমতম জন্মদিনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব অর্জন করত, এখন আর তা হবে না।
এ ছাড়া, এখন থেকে বিদেশি কূটনীতিকদের শিশুরাও তাদের দশমতম জন্মদিনে জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব লাভ করবে না বলেও উল্লেখ রয়েছে প্রস্তাবিত নতুন আইনে। একটি সংবাদমাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিভাগ জানায়, কোনো সন্তানের অভিভাবক বা বাবা–মা যদি বৈধভাবে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হয়ে থাকেন তবেই একটি শিশু স্বাভাবিক উপায়ে দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করবে।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান অভিবাসন মন্ত্রী পিটার ডাটন উত্থাপিত এই আইনটি ২০১৪ সালের প্রস্তাবিত আইনের আদলে তৈরি যা কখনো সিনেট পাস করেনি। তৎকালীন অভিবাসন মন্ত্রী স্কট মরিসন এ আইন উত্থাপন করেছিলেন একবার। তখন সেই প্রস্তাবনার আদলে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তে মরিসন বিতর্কিতও হয়েছিলেন।

প্রতীকী ছবি। সংগৃহীত
প্রতীকী ছবি। সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বিভাগের তথ্যানুযায়ী ২০১৪ সালের হিসাবে বছরে গড়ে ৪০০ জন শিশু দশমতম জন্মদিনে নাগরিকত্ব প্রদানের জন্য আবেদন করে। আবেদনকারীর বেশির ভাগই দক্ষিণ কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড, চীন, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, ফিজি ও টোঙ্গা থেকে আসা অভিবাসীদের সন্তান। তবে এ পরিবর্তনের আওতায় এমন শিশুদের ওপর প্রভাব ফেলবে না, যারা নিউজিল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেছে বা যাদের বাবা–মা সে দেশের নাগরিক।
পিটার ডাটন সংসদে আরও বলেন, বিলটি দেশটির নাগরিকত্ব প্রদান ব্যবস্থার অখণ্ডতা বজায় রাখবে এবং অভিবাসীদের জন্য দৃঢ় সমর্থনও বজায় রাখতে সাহায্য করবে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জিং পরিবেশকে মোকাবিলা করতেই নতুন আইনি পরিবর্তনগুলো করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কাউসার খান: অভিবাসন আইনজীবী। ইমেইল: <[email protected]>