অস্ট্রেলিয়ায় বিশেষ সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি স্থপতি

ইফতেখার আবদুল্লাহ
ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ায় স্থাপত্যশিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা পেলেন দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি স্থপতি ইফতেখার আবদুল্লাহ। দেশটির রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টসের ফেলোশিপ প্রদান করা হয়েছে তাঁকে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় এ সম্মাননা পাওয়া প্রথম বাংলাদেশি স্থপতি তিনি।

অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টসের (এআইএ) ফেলোশিপ হলো ব্যতিক্রমী স্থাপত্যকর্মের মাধ্যমে সমাজে অবদানের জন্য দেওয়া দেশটির স্থপতিদের সর্বোচ্চ সদস্যপদ সম্মাননা। স্থপতি পেশার পাশাপাশি যাঁরা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এবং যাঁরা স্থাপত্য খাতে শ্রেষ্ঠত্বের উদাহরণ দিয়েছেন, এমন স্থপতিদের এআইএ কলেজ অব ফেলোর সদস্যপদ প্রদান করা হয়।

ইফতেখার আবদুল্লাহ বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস ও অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটোরি রাজ্যের একজন নিবন্ধিত স্থপতি। তিনি তাঁর স্থাপত্যকর্মে সাশ্রয়ী অবকাঠামো, পরিবেশবান্ধব নকশা ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদান ব্যবহারের জন্য সুপরিচিত। এ কর্মের জন্য গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল অস্ট্রেলিয়া তাঁকে বিশেষ স্বীকৃতি ও সদস্যপদ প্রদান করেছে। তাঁর সুদীর্ঘ ৩০ বছরের কর্মজীবনে তিনি অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে স্থাপত্য ও নগর নকশা প্রণয়ন করেছেন। তিনি মালয়েশিয়ার বিখ্যাত শহর পুত্রজায়ার নকশা প্রকল্পের অন্যতম সদস্য হিসেবে ছয় বছর যুক্ত ছিলেন।

২০২১ সালের অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস কর্তৃক ফেলোশিপ পাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে ইফতেখার আবদুল্লাহ
ছবি: সংগৃহীত

১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্থাপত্য বিভাগ থেকে স্নাতক পাস করেন ইফতেখার আবদুল্লাহ। এরপর অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নগর নকশা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান ইফতেখার অ্যান্ড ডিজাইন অ্যাসোসিয়েটস—আইডিয়াস আর্কিটেক্টসের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর এ প্রতিষ্ঠান বহু নবাগত বাংলাদেশি স্থপতির কর্মাভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছে। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি আর্কিটেক্টস সংগঠনের সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেছেন স্থপতি ইফতেখার আবদুল্লাহ। তাঁর মা সুফিয়া খাতুন ও বাবা তৎকালীন ১৯৫৪-৫৭ সালের কালীগঞ্জ এবং শ্যামনগর আসনের সাংসদ গোলাম মোস্তফা ওকালাত আলী।