আমরা অনেকেই জাপান, কোরিয়ার ইউনিক স্কুলিং সিস্টেম সম্পর্কে জানি, যেখানে শুধু স্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করা হয় না, প্রতিটি খাবারের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে প্রত্যেক বাচ্চাকে শিক্ষা দেওয়া হয় অভিনব সব উপায় অবলম্বন করে। যাতে তারা আগ্রহের সঙ্গে সব খাবারের স্বাস্থ্যকর উপকারিতা সম্পর্কে জানে এবং মেনে চলে। এ ছাড়া স্কুলে প্রত্যেক শিশু নিজের খাবার নিজে শ্রেণিশিক্ষকের কাছ থেকে সংগ্রহ করে নিজস্ব বিশেষ এক ট্রে টাইপ পাত্রে (যে পাত্রে ভাত, সবজি, স্যুপসহ চামচ এবং চপস্টিক রাখার নির্দিষ্ট জায়গা থাকে) এবং খাবার সংগ্রহের সময় কোরিয়ান ভাষায় শিক্ষককে ধন্যবাদসহ ‘মজা করে খাব’ বলে আসতে একজনও ভুল করে না কখনো। ঠিক সেভাবে খাবার শেষ হওয়ার পর নিজের খাবার জায়গা নিজেরাই পরিষ্কার করে চেয়ারটা ঠিক জায়গায় রেখে খাবারের পাত্র ফেরত দেওয়ার সময় ধন্যবাদ দিয়ে ‘মজা করে খেয়েছি’ বলাটাও ওদের নিত্যদিনের আচরণ।

লাঞ্চপ্রক্রিয়ায় অনেকগুলো স্টেপ বা পদক্ষেপ থাকে, যার সব কটিই বাচ্চারা খুব আনন্দের সঙ্গে রোজ পালন করে থাকে। সব স্কুলের নিয়ম একই প্রকার হয়ে থাকলেও গির্জার স্কুলগুলো একটা স্টেপ প্রথমে যোগ করে। যেমন খাবার আগে সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে দুই হাত জোড় করে প্রে বা প্রার্থনা করা। তা ছাড়া স্কুলগুলোর আয়তন অনুযায়ী ছাত্র-শিক্ষকের সম্মিলিত হাতে করা হয় স্কুল ফার্ম বা খামার।

সেসব খামারে তারা সিজনাল সবজি, ফল বুনে যার যার গাছে নিজেদের নামের ছোট্ট নেমপ্লেট পুঁতে রাখে। উৎপাদিত ফল সবাই মাকে উপহার দিতে বাড়ি নিয়ে যায়। ছোট্ট ছোট্ট কৃষকের হাতে বোনা অসাধারণ ফসলের উপহার পাওয়ার সৌভাগ্য আমারও হয়েছিল।

কোরিয়ার স্কুলগুলোতে খাবার শুধু স্বাস্থ্যকর হয় না, খেতেও অনেক সুস্বাদু হয়। তাতে থাকে সিজনাল ফল, প্রচুর সবজি, তফু, পরিমিত মাছ ও মাংস এবং এগুলো মিশ্রণের হালকা তরকারি বা স্যুপ সঙ্গে থাকে, স্টিকি অল্প ভাত, নুডলস।

খাবার আমাদের সবার জীবনযাপনে যেমন অপরিহার্য গুরুত্ব বহন করে, তেমনি সে অভ্যাস বা নিয়ম ছোট বয়স থেকে রোপণ করা গেলে তো কথাই নেই।