রুদ্রের মতো

অলংকরণ: মাসুক হেলাল

শুধুই রুদ্র হতে চেয়েছিলাম
হয়ত দুপুরের বৃষ্টিতে ভেজা, বগলে তালি-দেয়া পাঞ্জাবিটা শুকায়নি বিকেলেও।
কিন্তু ভাপ ওঠা রাস্তায় বৃষ্টির শেষ বিন্দু মিলিয়েছে আগেই—মুহূর্তেই।  
তালিবহুল—সেই অর্ধজঞ্জাল দিয়ে আব্রু ঢাকা আমি দাঁড়িয়েছি গনগনে পিচের রাস্তায়—
শুধুই একনজর দেখব বলে।
কেন হতে দিলে না রুদ্র আমায়?
কেন কাছে এসে কোমল হাত রেখে দিলে আমার হাতে?
কেন তোমার কানে গোঁজা রজনীগন্ধার হাতে গ্রেপ্তার হলাম?  
শুধুই রুদ্র হতে চেয়েছিলাম আমি!
পেয়ে না পাওয়ার কষ্টকে হয়তো নেশা বানিয়ে উড়িয়ে দিতাম বাতাসে!
আমি তো শুধুই রুদ্র হতে চেয়েছিলাম।
হয়তো রাতকে দিন ভেবে, ঘুণধরা টেবিলে মাথা ডুবিয়ে লিখে চলেছি প্রেমের কবিতা।
নোনাজল কালির টানে তুমি  উঠে এলে আমার ছন্দের উঠোনে।
হয়তো কেউ ছাপবে না জেনেও ঘুমকে ফাঁকি দিতে লিখেছি
—শ খানেক লাইন, হাজারো কল্পনা আর কিছু চুম্বন।
কেন হতে দিলে না রুদ্র আমায়?
রাত ভোর হলে কেন দেখা দিলে দরজায়?
মুঠো মুঠো কবিতা হাতে, কেন মৃদু হেসে বললে—‘আমাকে নিয়ে লিখেছ?’
শুধুই রুদ্র হতে চেয়েছিলাম—কেন দেখা দিয়ে কবিতাগুলো নষ্ট করে দিলে?
হয়তো নিজেকে দেখতে চেয়েছি ভিন্ন জগতে ভিন্ন মাত্রায়।
ত্রিমাত্রিক কামুক জীবনের মোহ ছেড়ে, না হয় পাড়ি দিচ্ছিলাম অনন্তযাত্রায়—
হয়তো শুয়েছিলাম হৃৎস্পন্দন ছাড়াই, না পাওয়ার কষ্টকে সুখ ভেবেই।
কেন কেঁদে ফেরালে আমায়? কেন হতে দিলে না রুদ্র আমায়?
একবারের জন্য হলেও—
শুধু রুদ্র হতে চেয়েছিলাম!

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]