টরন্টোতে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটে গুলি, জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু হিসেবে তদন্ত শুরু

কানাডার বৃহত্তম শহর টরোন্টোর ডাউনটাউন এলাকায় অবস্থিত ইউনাইটেড স্টেটস কনস্যুলেট জেনারেল টরোন্টোর বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাটিকে জাতীয় নিরাপত্তা–সংশ্লিষ্ট হিসেবে তদন্ত শুরু করেছে।

টরন্টোর পুলিশ জানায়, গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২৯ মিনিটে কনস্যুলেটের সামনে গুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। সেখানে গুলির খোসা, গুলির চিহ্ন এবং ভবনের কিছু ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হননি।

কনস্যুলেটটি শহরের ৩৬০ ইউনিভার্সিটি অ্যাভিনিউ এলাকায়, ইউনিভার্সিটি অ্যাভিনিউ ও কুইন স্ট্রিট ওয়েস্টের কাছাকাছি অবস্থিত। তদন্তের স্বার্থে আশপাশের সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

টরন্টো পুলিশের ডেপুটি চিফ ফ্রাঙ্ক ব্যারোডো এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, একটি সাদা রঙের হোন্ডা সিআর–ভি গাড়ি পশ্চিম দিকে যাচ্ছিল এবং পরে ইউনিভার্সিটি অ্যাভিনিউয়ে দক্ষিণ দিকে ঘুরে কনস্যুলেটের সামনে থামে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ি থেকে দুজন ব্যক্তি নেমে ভবনের সামনে হ্যান্ডগান দিয়ে একাধিক গুলি চালায়। এরপর তারা আবার গাড়িতে উঠে দ্রুত দক্ষিণ দিকে চলে যায়।

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]

ঘটনার তদন্তে টরন্টো পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ–আরসিএমপি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা। আরসিএমপির ক্রিমিনাল অপারেশনের চিফ সুপারিনটেনডেন্ট চার্লিজ লেথার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটে গুলি চালানোর ঘটনাটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এটি সন্ত্রাসী হামলা কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

এ ঘটনার পর অটোয়া ও টরন্টোতে অবস্থিত বিভিন্ন দূতাবাস ও কনস্যুলেটের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাউ বলেন, দায়ীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এর আগে নরওয়ের রাজধানী অসলো মার্কিন দূতাবাসের কাছে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি আগুন ধরানো ডিভাইস ব্যবহারের কথা জানায় পুলিশ, যদিও ওই ঘটনাতেও কেউ হতাহত হননি।

টরন্টোর এই গুলিবর্ষণের ঘটনার সঙ্গে সম্প্রতি শহরের কয়েকটি ইহুদি উপাসনালয়ে গুলির ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। পুলিশ এ বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে ভিডিও ফুটেজ বা ড্যাশক্যাম প্রমাণসহ কর্তৃপক্ষকে জানাতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।