স্বপ্নে দেখিলাম তারে
আজ রাতে ঘুমের ঘোরে।
একা একা বসত করি
বসো একটু গল্প করি।
নিজ হাতে কফি করে
আপ্যায়ন করতে দিল।
আমি তখন ছাত্র ছিলাম
বিদ্যাশ্রমে কাজ করিতাম।
বলিল সে আমায় ধরে
ভালো আর লাগে নারে,
একা একা থাকতে ভবে।
মুখের কথা শেষ না হতে
অশ্রুঝরা দু-চোখেতে,
বলল সোরেন কান্নার স্বরে
আনিকা ছেড়ে গেছে মোরে।
ছেলে-মেয়ে ফোন করে
বলে আসবে সময় করে।

এত বছর হয়ে গেল
একবার কেউ না আসিল।
অবাক হয়ে শুনেছি আমি
সোরেনের সেই কথাগুলি।
তাকিয়ে ছিল সোরেন সেদিন,
ফ্যালফেলিয়ে আমার দিক।
এ কথা সে কথা
শুরু হলো আনিকার কথা।
এসেছিল আনিকা সোরেনের জীবনে
দেখা হয়েছিল তাদের সুইডিশ মিড সামারে।
বিয়ের চল্লিশ বছর পালন করিতে
গিয়েছিল জাহাজে বাল্টিক সাগরে।
হঠাৎ উঠেছিল ঝড় সাগরের মাঝে
চলে গেল আনিকা সোরেনকে ফেলে।

সেই থেকে সোরেন থাকে বিদ্যাশ্রমে।
আনিকা চলে গেছে স্মৃতিগুলো রেখে গেছে।
ছেলে-মেয়ে ভুলে গেছে সেসব কথা।
তোমাকে বলিলাম আজ হৃদয়ের ব্যথা।
জিজ্ঞেস করেছিলাম সোরেনকে আমি
কত ভালো বাসো আনিকাকে তুমি?

উত্তরে বলেছিল সেদিন মোরে;
বুকটা চিরে যদি দেখাতে পারিতাম
বুঝতি কত ভালো তারে আমি বাসিতাম।
শরতের ঝরাপাতা পড়িতে দেখিয়া
মনে পড়িল আজ সোরেনের কথা।
ভালোবাসার স্মৃতিটুকু আজীবন ধরে,
থাকুক সোরেনের হৃদয়ভরে।

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন। [email protected]

দূর পরবাস থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন