সুইডেনের রাজনৈতিক সংকট: সরকার গঠনে দীর্ঘসূত্রতা ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ

ছবি: লেখক

সুইডেনে সাধারণ নির্বাচন শেষ হওয়ার চার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও দেশটিতে এখনো সরকার গঠিত হয়নি। পার্লামেন্টে ৩৪৯টি আসনের জন্য অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে কোনো একক দল বা ব্লক নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনপ্রক্রিয়া এক জটিল আবর্তে পড়েছে। সুইডিশ রাজনীতিতে নির্বাচন-পরবর্তী দর–কষাকষি নতুন কিছু না হলেও এবারের পরিস্থিতি বেশ স্বতন্ত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ।

জোট গঠনে অভ্যন্তরীণ আদর্শগত সংঘাত মূলত মধ্য-বামপন্থী ব্লকের শরিক দলগুলোর মধ্যকার আদর্শগত তীব্র দূরত্বের কারণেই বর্তমান সংকটের সূত্রপাত। নির্বাচনে একক বৃহত্তম দল হিসেবে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস সবাইকে নিয়ে একটি সমন্বিত সরকার গঠনের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ব্লকের অন্যতম শরিক দল সেন্টার পার্টির পরিষ্কার ঘোষণা ছিল—বাম দল (Left Party) সরকারের অংশ হলে বা তাদের প্রত্যক্ষ প্রভাব থাকলে তারা সেই সরকারকে সমর্থন করবে না।

অন্যদিকে বাম দল সরকারের নীতিনির্ধারণে জোরালো ভূমিকা ও অর্থনৈতিক বিষয়ে নিজেদের দাবি থেকে একচুলও ছাড় দিতে রাজি নয়। পাশাপাশি পার্লামেন্টে স্পিকার নির্বাচন বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বাম দলের হুট করে নেওয়া স্বতন্ত্র অবস্থান শরিকদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করে। এর ফলে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নেত্রী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসনের পক্ষে সব শরিককে একসুতায় গেঁথে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত এই অনৈক্য ও অনাস্থার কারণে অ্যান্ডারসন সরকার গঠনের চেষ্টা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

সুইডিশ রাজনীতিতে উগ্র জাতীয়তাবাদী দল ‘সুইডেন ডেমোক্রেটস’-এর উত্থানও আরেকটি বড় ফ্যাক্টর। সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটসহ মধ্যপন্থী দলগুলো এই দলকে সব সময় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু বা সরকারের বাইরে রাখতে বদ্ধপরিকর। তাদের এই উগ্র ও কপটমনা আদর্শের প্রতি কঠোর অবস্থানও জোট গঠনের মাঠকে আরও সংকুচিত ও দুরূহ করে তুলেছে।

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]

সংকটের পরবর্তী ধাপ ও পরিণতি

সুইডিশ সংবিধান ও নিয়ম অনুযায়ী, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের ব্যর্থতার পর এখন সংসদের স্পিকার অন্য কোনো দলের নেতাকে (যেমন মধ্য ডানপন্থী বা অন্য কোনো জোটের প্রধানকে) সরকার গঠনের সুযোগ বা ম্যান্ডেট দেবেন। তাঁরা বিকল্প কোনো সংখ্যালঘু সরকার বা নতুন জোট গঠনের চেষ্টা করতে পারেন।

সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার সর্বোচ্চ চারজন রাজনৈতিক নেতাকে সরকার গঠনের সুযোগ দিতে পারেন। যদি এই চারজন নেতাই সংসদে আস্থা ভোট বা সরকার গঠনে পুরোপুরি ব্যর্থ হন, তবে সুইডেনবাসীকে বাধ্য হয়ে আরেকটি আগাম নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে। বর্তমান রাজনৈতিক অনৈক্যের কারণে শেষ পর্যন্ত একটি দীর্ঘ দর–কষাকষির মধ্য দিয়ে সমঝোতার সরকার গঠিত হতে পারে, নতুবা দেশকে শেষ পর্যন্ত পুনর্নির্বাচনের পথেই হাঁটতে হবে।