রাত দশটার পর হাসানের সঙ্গে কথা হয়ে গেল। ঠিক হলো রওনা হব সকাল ১০ থেকে ১১টার মধ্যে। কায়াকিংয়ের ধারণা বেশ পুরোনো হলেও কানাডিয়ান গ্রীষ্মের ছুটিতে সপ্তাহান্তের সময়ের সেরাটা উপভোগ করতে এর জুড়ি নেই!

ক্যানো (যে নৌকায় কায়াকিং করা হয়)-এর উল্লেখ প্রথম পাওয়া যায় যিশুখ্রিষ্টের জন্মেরও আগে— খ্রিষ্টপূর্ব ৮২০০-৭৬০০ অব্দে নেদারল্যান্ডসে। যেটার নাম ছিল পেসে ক্যানো।  সবচেয়ে প্রাচীন ক্যানো নৌকা আর ডেনমার্কের মাটি খুঁড়ে পাওয়া নিদর্শন থেকে প্রাচীনতম বইঠার সন্ধান মিলেছিল। আফ্রিকায় পাওয়া সবচেয়ে প্রাচীন ক্যানো নৌকা হচ্ছে ডুফুনা। দেখতে চাইলে চলে যান নাইজেরিয়ার প্রাদেশিক রাজধানী ডামাটুরুতে। ক্যানো আর কায়াক দেখতে প্রায় একই হলেও পার্থক্য এই যে দ্বিতীয়টা বাইতে দুমুখো বইঠার প্রয়োজন হয়। কায়াকিং ১৯৩৬ সাল থেকে অলিম্পিকের অন্তর্ভুক্ত হয়।

কানাডীয় হাওয়াবদলের কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই। এমনকি গুগলের দেওয়া পূর্ববর্তী আবহাওয়া বার্তাও ভুল হয়ে যায় এর ঠেলায়! হয়তো দেখাচ্ছে বেলা তিনটায় বৃষ্টি থেমে যাওয়ার কথা, কিন্তু মুষলধারে বৃষ্টি হয়েই চলেছে, আর কবে নাগাদ বন্ধ হবে তা বিধাতাই জানেন। সেই সময়গুলোর কথা খুব মনে পড়ছে, ক্লাস শেষ হওয়ার কথা তিনটায়। সেই অনুযায়ী ওই দিন হয়তো ছাতাও নিয়ে বের হইনি! এখন উপায়? বসে বসে লাইব্রেরিতে পড়ো আর অঝোর ধারা থেমে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করো!

আমার গাড়িতেই যাব। সুইমিংয়ের জন্য তারেকের পরামর্শ মতো জামাকাপড় নেওয়া গেছে। মাঝেমধ্যে আচমকা বেশ জোরালো ঢেউয়ের গতি সামলে ওঠা মুশকিল হয়ে পড়ে! সতর্ক করেছে সে। যেদিক থেকে ঢেউয়ের বেগ আসছে, সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে। ওটার সঙ্গে যথাসম্ভব সমন্বয় রেখে চালাতে হবে ক্যানো।

কেপ ব্রেটনের যে দিকেই তাকাই, চোখ জুড়িয়ে যাওয়া সৌন্দর্য। পথে চলতে গিয়ে দুই পাশের সবুজের মধ্যে হারিয়ে যেতেই দূরের দিগন্তে চোখে পড়বে নীল আকাশে প্যাঁচালো তুলোর মতো মেঘের সারি। পাহাড়ের গায়ে ঘরগুলো দেখে ছোট ছোট খেলনার ঘর বলে ভুল হয়। নিশ্চয় মনে আছে, ছোটবেলায় সবাই খেলনার বাড়ি, গাড়ি, রান্নাঘরের বাসন—এসব নিয়ে সময় কাটিয়েছি। পাহাড়, নদী, সুন্দর ছিমছাম সাজানো ঘরবাড়ি সব মিলিয়ে একটা ছবির মতো মনে হবে। পুরো দৃশ্যকে কোনো শিল্পী বসে আপন মনে নিজের রঙে ফুটিয়ে তুলেছে!

সকালে কেউ কিছু খাইনি। আবার পেট ভারি হয়ে গেলে স্রোতের বিপরীতে নৌকা বাইতেও অনেক ঝক্কি পোহাতে হবে। সবাই ঠিক করলাম কায়াকিং শেষ করে তবেই খাওয়াদাওয়া। আমি মনে মনে সাবওয়ের রেগুলার চিকেন সিজার গ্রিলড স্যান্ডুইচ খাব ঠিক করেছি। হাসান আর তারেকের খাবার ওরা নিজেরাই পরে ঠিক করে নেবে। তারেক গাড়ি চালাতে ব্যস্ত আর হাসান ফোন নিয়ে। আমি আশপাশের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের ছবি তুলছি, কয়েকটা ভিডিও করে ফেলেছি এর মধ্যে। আপাতত গাড়ির মিউজিক প্লে লিস্টে চলছে বদলাপুর মুভির ‘চাদারিয়া ঝিনি রে... ঝিনি...’। বলতেই হয় এখন পর্যন্ত বরুণ ধাওয়ানের এ মুভির পাশাপাশি আর যদি কোনো মুভি ভালো লেগে থাকে, সেটা ছিল আনুশকা শর্মার সঙ্গে ‘সুই-ধাগা’। অবশ্যই এটা নিজের ব্যক্তিগত মতামত।

আমরা কাছাকাছি চলে এসেছি। আড়াই ঘণ্টার কাছাকাছি লেগে গেছে। এখানে প্রায় সব কাজেই লাইসেন্স লাগে, এমনকি মাছ ধরতে গেলেও! দেখতে দেখতে পৌঁছে গেছি—কায়াক কেপ ব্রেটন অ্যান্ড কটেজেস।

বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটা কায়াকিংয়ের সরঞ্জাম ধার নেওয়ার জায়গা। ছোটখাটো একটা বাগানবাড়ির মতো। বারান্দায় হরেক রকমের বেগুনি আর গোলাপি রঙের টিউলিপ, আরও চার রঙের ফুল। ছোট ছোট আকাশি রঙের একগুচ্ছ ফুল, হলদে আর কমলা রঙের গাঁদা ফুল, আরেকটা সাদা, ভেতরের দিকে কালো রঙের কাটাকাটা দাগ। মূল দরজা থেকে কিছুটা বাঁদিকে চলে গিয়ে তাদের অফিস। রাস্তার অপর পাশেই ম্যাকডোনাল্ডস আছে। কাজেই ফিরে এসে এখান থেকে খাবার নিলেই হলো। আবার এখান থেকে ডান দিকে কিছুদূর এগোলেই কফি শপ টিম হর্টনসও রয়েছে। একদিন প্রফেসর পল মজা করে ক্লাসে বলেছিলেন, কানাডায় প্রতি কিলোমিটারের রাস্তায় একটা করে টিমস পাওয়া যাবে! আইডি জমা দিয়ে আমরা সরঞ্জাম বুঝে নিলাম।

অবশ্য এখানে ওরা কিছু চাইল না। জমানতকারীর নাম জন। হাসান সাইন করে জিনিসপত্র বুঝে নেওয়ার কাজ করছে। টাকা দাও, ক্যানো, বইঠা আর লাইফ জ্যাকেট বুঝে নাও। প্রতি ঘণ্টায় জনপ্রতি ২০ ডলার করে দিতে হচ্ছে আমাদের। আর যদি সময় বাড়ে, সে হিসাবে পরে আরও দিতে হবে। তিনজনের জন্য তিনটে লাইফ জ্যাকেট দিল। আর আমরা ব্রেস ডি অর লেকের পাড়ে এসে পৌঁছে জনের কাছে থেকে তিনটে ক্যানো আর ভেতরে বইঠা রাখা ছিল। নৌকাগুলো কমলা রঙের আর বইঠা আমারটা সাদা আর ওদেরগুলো হলদে। আগে এটাও হলদে ছিল, রঙটা ফ্যাকাশে হয়ে সাদাটে দেখাচ্ছে! আবহাওয়া অসাধারণ লাগছে! তাপমাত্রা দেখে নিলাম -২২-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। সুনীল আকাশে উজ্জ্বল সূর্যের মিঠা ঝলমলে রোদ যাত্রাপথের অভিযান শুরু করার তাগিদ আরও দ্বিগুণ করে দিচ্ছে। বেশ উত্তেজিত ছিলাম আমি! প্রথমে হাসান, মধ্যে আমি আর পেছনে তারেক—এভাবেই শুরু হলো কায়াকিং।
আমাদের লক্ষ্য ছিল ব্রেস ডি অর লেকের পাড় ঘেঁষে অভিযান শুরু করে হেস কভ, রেড আইল্যান্ডস, জনসটাউন। মূলত শুরুটা সোলডারস কোভ হলেও অত দূর চলে গেলে আবার শুরুটা করতে অনেক দেরি হয়ে যাবে। তাহলে ইচ্ছা যতই হোক, পুরো জায়গা চষে বেড়াব, সম্ভব হলেও বাস্তবসম্মত হয় না! আপাতত ব্রেস ডি অর হয়ে শুরু হয়ে জনসটাউন পর্যন্ত যাব—এটাই সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত।

যদি আরও যেতে পারি, সেটা দেখা যাবে। এর পরবর্তী গতিপথের মোটামুটি খসড়া দাঁড় করালে এ রকম হয়, কিছুদূর গিয়েই আইরিশ কভ, আইরিশ ভেল, মিডল কেভ পর্যন্ত। তারপর অবশ্য বিগ পন্ড সেন্টার থেকে শুরু করে বিগ পন্ড হয়ে রেয়ার বিগ পন্ড দেখা যেতে পারে। জায়গাগুলো এক নিশ্বাসে বলে গেলেও পুরো জায়গা ঘুরে দেখতে সকাল থেকে সন্ধ্যা—এক দিনের সময়সীমা প্রয়োজন।

বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছিলাম। দুই পাশের সবুজের মধ্যে আমাদের সমুদ্রের নীলচে রঙের মাঝে পথচলা শুরু হলো। আকাশের নীলাভ রঙের আশ্চর্যজনক বিচ্ছুরণ হয়েছে সমুদ্রের জলে। দূরের ছোট ছোট পাহাড়ে হরেক রকমের বন্য পাখি দেখতে পাচ্ছি কখনো কখনো। বক পাখি শিকার করায় ব্যস্ত। দূর থেকে লম্বা গলার গ্রেট এগরেট মনে হচ্ছে। কায়াকিং করলেও নাবিক সিন্দাবাদের কথা খুব মনে পড়ে যাচ্ছিল। সাত সমুদ্রের অভিযানে বের হওয়া সিন্দাবাদের গল্পগুলো আরব্য রজনীর কাল্পনিক জগতের ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তব ঘটনায় রূপ নেয় কখনো-সখনো। হোক তা বিশাল আকারের রক পাখির উপস্থিতিতে, তিমির ওপর গজিয়ে ওঠা দ্বীপ, এক আজব নগরের নিয়ম, যেখানে বিয়ের পর স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যু হলে তাঁর জীবনসঙ্গী বা সঙ্গিনীকে জীবন্ত কবর দেওয়ার রীতিতে, বামনকে পিঠে নিয়ে চলার গল্প। কিংবা হারমান মেলভিলের বিখ্যাত ‘মবিডিক’-এর ভয়ংকর তিমি শিকারের লোমহর্ষক কাহিনির বর্ণনা গায়ে কাঁটা দেবে নিঃসন্দেহেই! পিটার বেঞ্চলির দুর্ধর্ষ মানুষখেকো হাঙরের কথা পড়েছি ‘জস’-এ, যা সিনেমার রুপালি পর্দায় তুমুল জনপ্রিয়তা পায়।
বইয়ের পাতা থেকে এবার কায়াকিংয়ে ফিরে আসি। ওরা বেশ দ্রুতই এগোতে থাকায় একটা সময় লক্ষ করলাম, আমি আর তারেক হাসানের কাছ থেকে কিছুটা দূরে সরে গেছি। বইঠায় বেশ জোর তখন পর্যন্ত প্রয়োজন না হলেও স্রোতের গতিপথ পাল্টে গেল। উত্তর-দক্ষিণমুখী হাওয়ার বেগ বেড়ে যাওয়ায় বিপরীতমুখী স্রোতের প্রবল ধারা সামাল দেওয়া আমার জন্য কঠিন হয়ে উঠতে লাগল। পুরোপুরি ব্যাপারটা বোঝার আগেই তারেকের কাছ থেকেও দূরে চলে গেলাম। ওরা মোটামুটি পাড় ঘেঁষেই কায়াকিং করে যাচ্ছিল। আর আমি অনেক দূরেই চলে গেছি।

ঢেউয়ের স্রোতের বড়সড় একটা ধাক্কায় কোন দিকে তাকানো তো দূরের কথা, আমার লাইফ জ্যাকেটটা পর্যন্ত ভালো করে সামলে ওঠার সময় পাইনি! তার আগেই আমার ক্যানো নৌকাটা গেল উল্টে। যখন আটলান্টিকের হিম শীতল জলের লোনাপানির কয়েক ঢোঁক গিলে ফেললাম, তখন সবকিছুই ঝাপসা হয়ে আসছে আমার কাছে।

এতক্ষণ নৌকায় চড়েছি অথচ একবারের জন্যও মাথায় আসেনি লাইফ জ্যাকেটটা লাগাতেই ভুলে গেছি। কেপ ব্রেটনের ব্রেস ডি অর লেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের উপলব্ধি এতটাই বেশি হয়েছিল যে বোধ করি এর ঠেলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটা হেলাফেলা করেছি। যখন পানিতে পড়লাম লাইফ জ্যাকেট খুলে যাওয়ায় নিজে বেশ ভেতরে চলে গেলেও সাঁতরে উপরের দিকে উঠে এলাম। কিছুটা গিয়েই ক্যানোটা ধরে ভাসতে লাগলাম। বেশিক্ষণ ওটারও নাগাল পেলাম না। হাত ফসকে গেল। জ্যাকেট তো কোথায় চলে গেছে জানি না, পড়ে যাওয়ার সময় বইঠাটা আর শেষ সম্বল ক্যানোটাও গেল। বরফজলের কামড় যে কী জিনিস, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছিলাম হাড় কাঁপানো ঠান্ডা জলে সাঁতার কাটতে গিয়ে। আমাদের পুকুরের পানি এর কাছে একদম নস্যি!

একদিকে কনকনে ঠান্ডা, অন্যদিকে প্রচণ্ড স্রোতের দাপটে ক্রমে কাহিল হয়ে পড়ছিলাম। একসময় খেয়াল করলাম, উদ্ধারকর্তার আর্বিভাব—তারেক আমার কাছাকাছি চলে এসেছে। বিশাল আটলান্টিকের শীতল স্রোতের সঙ্গে টেক্কা দিয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়া আমার জন্য তারেকের উপস্থিতি প্রাণ রক্ষাকর্তার সমান। হাসান বেশ দূরেই চলে গিয়েছিল। ফেরত আসার চেষ্টা করলেও আপাতত স্রোতের গতিপথে চলতে লাগল। আমরা কোনো জায়গায় এসে পৌঁছলাম, তা বুঝতে পারার মতো অবস্থায় ছিলাম না। জলযাত্রাপথের অভিযানের শুরুতে ম্যাপ ফলো করলেও আমরা হাসানের দিকনির্দেশনা মেনে চলছিলাম। এখন সবাই নিজেদের দেখতে পেলেও কাছাকাছি পৌঁছাতে সময় লাগবে। হাসান আমাদের সাহায্য করার চেষ্টায় ওর নাগালের মধ্যে আসা মাঝারি আকারের একটা পনটন বোটের দিকে হাত নাড়িয়ে ওটাকে থামতে বলল। ওর উদ্দেশ্য ছিল আমাকে যেন ওই বোটে উঠিয়ে নেওয়া যায়। আমার ক্যানোর কোনো হদিস নেই। ফেরত গিয়ে জনকেই-বা কী বলবো, বুঝতে পারছিলাম না।

মজার বিষয় হচ্ছে, হাসান ওই বোটকে প্রথমে হাতের ইশারায় থামতে বললেও ওরা বুঝতে পারল না। ওরাও ওকে হাই বলে আরও দূরে সরে গেল। এরপর কোনোভাবে ওদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হওয়ার পর যখন ওই পনটনে উঠতে গেল, তখন ওই বোটে থাকা মালিক জিজ্ঞাসা করল, ‘তোমার করোনা হয়নি তো??’ ওই বিপদের মুখে প্রশ্নটা আপাত হাসির উদ্রেক করলেও হাসানের অবস্থাটা কী হয়েছিল, তা আশা করি সবাই অনুমান করতে পেরেছেন! যা-ই হোক, ওদিকে হাসান আমাদের জন্য বোটের ব্যবস্থা করতে ব্যস্ত আর এদিকে তারেক আমাকে টেনে নিয়ে চলল। ওর ক্যানোতে ভর করে সাঁতরে চলতে চলতে আমার অবস্থা এমন যে আগামী কয়েক দিন জিমে না গেলেও দিব্যি চলে যাবে। আর কিছুদূর এগিয়ে গেলে হাসান পনটনে চেপে আমাদের কাছাকাছি এসে পৌঁছলে অবশেষে নৌকায় উঠে আমার মুক্তি মিলল!

কত দূর পর্যন্ত যেতে পেরেছিলাম, তাতে পরবর্তী সময় দেখলাম ওটা আইরিশ কভ। ওই দিকটায় যাওয়ায় আমরা খুব সম্ভবত জনসটাউন এবং আইরিশ কভের মোহনায় চলে গিয়েছিলাম। স্রোতের গতিপথ ছিল বড়ই তীব্র। এরপর সাদা রঙের ওই পনটনে চেপে আমরা তীরে এসে পৌঁছলাম। কায়াক কেপ ব্রেটন অ্যান্ড কটেজেস - যেখান থেকে জিনিসপত্র বুঝে নিয়েছিলাম তাদের জানালাম। তারা আমাদের অবস্থা দেখে আলাদা বোটে লোক পাঠিয়ে দিল হারানো ক্যানোটা খুঁজে বের করতে। আমার মুখে তখনো লবণাক্ত স্বাদ পাচ্ছি। একটু পানি দিয়ে মুখ কুলকুচি করতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু এখানে পানীয় জলের কোনো ব্যবস্থা নেই। জনকে বলায় ও অবশ্য এনে দিল।
পুরোপুরি টাকাপয়সার হিসাব মিটিয়ে আমরা ম্যাকডোনাল্ডসের দিকে গাড়ি ঘুরিয়ে নিলাম খাবারের অর্ডার করব বলে। জলযাত্রা অভিযানের শুরুতে ক্যানোয়িং করার যে উত্তেজনা কাজ করছিল, তা অনেকটাই স্তিমিত হয়ে এসেছে। প্রায় ঘণ্টাখানেকের সাঁতার আর পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধার তাড়নায়!!
পরবর্তী গ্রীষ্মের ছুটিতে কায়াকিংয়ের বদলে অন্য অভিযানের ভাবছি—কী করা যায়? - হোয়েল ওয়াচিং!!!