খালেদা জিয়ার স্মরণে অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে টনি বার্কের শ্রদ্ধা

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র ও অভিবাসন মন্ত্রী এবং সংসদ নেতা টনি বার্ক

অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্মরণে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দেশটির প্রভাবশালী মন্ত্রী টনি বার্ক।

চলতি সপ্তাহে পার্লামেন্টে দেওয়া এক বিশেষ বক্তব্যে খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব এবং দক্ষিণ এশিয়ায় নারী নেতৃত্বের অগ্রদূত হিসেবে অভিহিত করেন টনি বার্ক।

টনি বার্ক অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র ও অভিবাসন মন্ত্রী এবং পার্লামেন্ট নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরে খালেদা জিয়ার প্রয়াণ বাংলাদেশের জন্য এক বড় ক্ষতি। তিনি কেবল দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীই ছিলেন না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার পুরুষশাসিত রাজনীতিতে এক সাহসী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তাঁর এই পথচলা নারীদের জাতীয় রাজনীতিতে আসার পথ সুগম করে দিয়েছে।

রাজনীতিতে ভিন্নমত থাকলেও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় খালেদা জিয়ার প্রভাব অনস্বীকার্য উল্লেখ করে এই জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকার অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি এই শোকে ব্যথিত। তাঁদের কাছে খালেদা জিয়া কেবল একজন নেতা নন, বরং গর্ব ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক ছিলেন।’

টনি বার্ক খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে ব্যক্তিগতভাবে হাতে লেখা একটি শোকবার্তাও পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানান।

পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে টনি বার্ক আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়া এমন এক বৈচিত্র্যময় ও দীর্ঘস্থায়ী কীর্তি রেখে গেছেন, যা আগামী বহু বছর ধরে মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি এমন আনুষ্ঠানিক সম্মান প্রদর্শনে প্রবাসীদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই আন্তরিকতার জন্য অনেক স্থানীয় বাংলাদেশিরা মন্ত্রী টনি বার্কের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন।