মেক্সিকোতে ‘শিল্পাচার্য: মাস্টার অব দ্য আর্টস—জয়নুল আবেদিন’ পুস্তিকার স্প্যানিশ সংস্করণ উন্মোচিত

মেক্সিকো সিটিতে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং রুটা ৫-এর যৌথ উদ্যোগে গত বুধবার (১১ ডিসেম্বর) মেক্সিকোর সিনেটের উচ্চকক্ষে ‘শিল্পাচার্য: মাস্টার অব দ্য আর্টস—জয়নুল আবেদিন’ শীর্ষক পুস্তিকার স্প্যানিশ সংস্করণটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের আধুনিক চিত্রকলার পথিকৃৎ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জীবনী, শিল্পে তাঁর অসামান্য অবদান এবং মেক্সিকোর সঙ্গে তাঁর সাংস্কৃতিক সংযোগ তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় সম্পর্ক–বিষয়ক কমিটির সভাপতি সিনেটর জেকল পোলেনেস্কি, সিনেটর ইভিডেলিজা রেয়েস হার্নান্দেজ, রুটা ৫-এর মিসায়েল মার্টিনেজ সানচেজ, শিল্পকলার পৃষ্ঠপোষক মার্গারিটা চাকন বাচে, কর্দোবার প্রতিনিধি হুয়ান ট্রেস জিলিসহ অন্যরা।

অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত ‘মনপুরা ৭০’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্রটি উপস্থিত দর্শকদের বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের অনন্য শিল্পকর্মগুলোর সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দেয়, যা ছিল তাঁর শিল্পকর্মের কালজয়ী সাংস্কৃতিক গুরুত্ব এবং বৈশ্বিক সম্প্রীতি সৃষ্টিতে ভূমিকারই প্রতিচ্ছবি।

সিনেটর জেকল পোলেনেস্কি তাঁর বক্তব্যে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের শিল্পকর্মের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং মেক্সিকোতে বাংলাদেশি ও এশীয় শিল্প প্রচারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বাংলাদেশ ও মেক্সিকোর মধ্যে সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি বাংলাদেশে মেক্সিকোর দূতাবাস স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার প্রতি তাঁর দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৫৬ সালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের মেক্সিকো সফর, দুই দেশের মধ্যে এক দীর্ঘস্থায়ী সাংস্কৃতিক সংলাপের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

সিনেটর ইভিডেলিজা রেয়েস হার্নান্দেজ পুস্তিকাটির প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশি সংস্কৃতি সম্পর্কে আরও জানার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম পুস্তিকাটিকে মেক্সিকোর সঙ্গে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি চিরস্মরণীয় নিদর্শন হিসেবে অভিহিত করেন। রুটা ৫-এর মিসায়েল মার্টিনেজ সানচেজ রাজনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান।

মার্গারিটা চাকন তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে মেক্সিকান শিল্পীরা, বিশেষ করে হোসে ক্লেমেন্তে ওরোজকো এবং ডেভিড আলফারো সিকেইরোস, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের চিত্রশৈলী ও বিষয়বস্তুর ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক শিল্পের প্রচারের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বিভিন্ন সংস্কৃতি থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে কাজ করার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন।

পুস্তিকাটির আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির পরিসমাপ্তি ঘটে। অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশ দূতাবাসের অন্য স্প্যানিশ ভাষায় প্রকাশিত পুস্তক (জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের সিন্ধু হিন্দোল, বিউটিফুল বাংলাদেশ) নিয়েও গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, এসব প্রকাশনা বাংলাদেশ ও মেক্সিকোর মধ্যকার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।

বাংলাদেশ দূতাবাস এ সাংস্কৃতিক আয়োজনকে সফল করতে যাঁরা সহযোগিতা করেছেন এবং অংশগ্রহণ করেছেন, তাঁদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।