দুই দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি ও কার্যকর সহযোগিতা উল্লেখ করে বাংলাদেশি এ কূটনীতিক বলেন, ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বাংলাদেশ সফরের পর থেকে এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্টেট কাউন্সিলর ওয়াং ইয়ের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরের সর্বশেষ ঘোষণাগুলো জনগণ, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি চমৎকার পরিবেশ তৈরি করেছে।

নজরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ এখন এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ ও ব্যবসায় আকৃষ্ট করার জন্য একটি সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি ও সুযোগ-সুবিধা তৈরি করেছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিহাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঐতিহাসিক শহর গুয়াংজু, যা আগে ক্যান্টন নামে পরিচিত ছিল।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৫২ এবং ১৯৫৭ সালে চীনে ঐতিহাসিক সফরের সময় প্রবেশপথ ছিল। বঙ্গবন্ধুর লেখা সফর ও ভ্রমণকাহিনী ‘আমার দেখা নয়াচীন’ আধুনিক দিনে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করেছে।

গুয়াংজু এবং কুনমিং উভয় রুটে ফ্লাইটের অনুমতি পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস চীনা পক্ষের সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করেছিল। মহামারি পরিস্থিতির কারণে এটি একটি জটিল কাজ ছিল, তিনি যোগ করেছেন। চীনের বাজারে বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের অতিরিক্ত ১ শতাংশ শুল্কমুক্ত প্রবেশের জন্য প্রাসঙ্গিক গেজেট জারি এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের তাদের ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য চীন সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

গুয়াংজু বাইয়ুন বিমানবন্দরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চীনে বাংলাদেশ দূতাবাস, বাইয়ুন বিমানবন্দরের বিভিন্ন দপ্তর এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং চীনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

১৮ আগস্ট বাংলাদেশের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ১৩ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি৩৬৬ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করে ৩ ঘণ্টা ২০ মিনিট পর গুয়াংজু বাইয়ুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। একই দিনে ফিরতি ফ্লাইট বিজি৩৬৬ গুয়াংজু বাইয়ুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চীনা স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪০ মিনিটে উড্ডয়ন করে। করোনা শুরুর পর চীন ও বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মধ্যে এটিই প্রথম সরাসরি যাত্রীবাহী ফ্লাইট।