গতকাল সোমবার জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে অর্ধনমিতকরণের মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বের সূচনা হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর রাষ্ট্রদূত এফ এম বোরহান উদ্দিনের নেতৃত্বে উপস্থিত সবাই জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতির পিতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন দূতাবাস কর্মকর্তারা।

দূতাবাসের কাউন্সেলর সায়মা রাজ্জাকীর সঞ্চালনায় মুক্ত আলোচনা পর্বে উপস্থিত কমিউনিটি সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন এবং জাতির পিতার সংগ্রামমুখর জীবন, আদর্শ ও কর্মের ওপর আলোচনা করেন। বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু বাংলাদেশ রাষ্ট্রই প্রতিষ্ঠা করেননি, সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ গঠনে রেখে গেছেন অনন্য, অতুলনীয় অর্থনৈতিক দর্শন।

রাষ্ট্রদূত এফ এম বোরহান উদ্দিন স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঐন্দ্রজালিক নেতৃত্বে বাংলার মানুষের ভেতর বাঙালি জাতীয়তাবাদের পূর্ণ জাগরণ ঘটাতে সক্ষম হয়েছিলেন বিধায় আজ বাংলাদেশ স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীর বুকে দাঁড়িয়ে আছে। রাষ্ট্রদূত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়মিত রেমিট্যান্স প্রেরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানান।

আলোচনা শেষে জাতির পিতার গৌরবোজ্জ্বল কর্মময় জীবনের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘চিরঞ্জীব বঙ্গবন্ধু’র ফিলিপিনো ভাষায় অনুবাদ করা সংস্করণ ‘Bangabandhu: Nasa Puso Natin Magpakailaman’ প্রদর্শিত হয়। শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্ট কালরাতে নিহত সব শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া পাঠ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি