বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের মিউনিখ জয়

মিউনিখ নগরীর অতিরিক্ত মেয়র ক্লেম্নস বাউমগের্টনারের কাছ থেকে শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তা পরস্কার গ্রহণ করছেন শিখা শংকর পালছবি: লেখক

বাংলাদেশের শিব শংকর পাল ১৯৮৯ সালে ভাগ্যান্বেষণে জার্মানিতে আসেন। প্রথমেই ঠিক করেছিলেন চাকরি না করে অন্য কিছু করা যায় কি না! জার্মানিতে পুঁথিগত জ্ঞান ছাড়া ব্যবসা বা অন্য কিছু করা বেশ কঠিন। বিষয়টি বুঝতে পেরে ভর্তি হয়েছিলেন মিউনিখের কর্মজীবী বিদ্যালয়ে। বৈদ্যুতিক বিষয়ে তিন বছরের ডিপ্লোমা শিক্ষাক্রম শেষ করেন। পরে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে গড়ে তোলেন ‘পাল ইলেকট্রো’ নামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। সেই ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে যান স্ত্রী নাটোরের মেয়ে শিখা শংকর পাল।

জার্মানির ব্যাভেরিয়া রাজ্যের রাজধানী মিউনিখে ব্যবসা করা চাট্টখানি কথা নয়। জার্মানির সবচেয়ে ধনী এই রাজ্যে ব্যবসায় যেমন প্রতিযোগিতা, তেমনি রয়েছে কোয়ালিটি কন্ট্রোল। এ শহরে ১৪ লাখ বাসিন্দার মধ্যে অভিবাসীদের সংখ্যা ৪ লাখ।

দক্ষিণ জার্মানির এই ঐতিহাসিক শহরে ব্যবসা–বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে অভিবাসীদের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তারই স্বীকৃতি হিসেবে মিউনিখ শহর কর্তৃপক্ষ ২০১০ সাল থেকে অভিবাসী উদ্যোক্তাদের পুরস্কৃত করে আসছে। সফল অভিবাসী উদ্যোক্তা হিসেবে এ বছর ‘পাল ইলেকট্রো’ প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী শিখা শংকর পাল পেয়েছেন ফিনিক্স পুরস্কার। শিখা শংকর পালের প্রতিষ্ঠানটির পাশাপাশি গ্রিস ও আলবেনিয়ার আরও দুটি প্রতিষ্ঠান এ বছর ফিনিক্স পুরস্কার পেয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) ফিনিক্স পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মিউনিখ নগরীর অতিরিক্ত মেয়র ক্লেম্নস বাউমগের্টনার। তিনি বলেন, ‘বিজয়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুরস্কার তুলে দিতে পেরে আমরা গর্বিত।’ মূল অনুষ্ঠানে শিখা শংকর পালের সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তাঁদের দুই সন্তান মাক্সি শংকর পাল ও দিব্য শংকর পাল এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আলভী হাবিব। ফিনিক্স পুরস্কার বিজয়ী প্রত্যেককে শিল্পী আন্দ্রয়াস ওহেনসলের তৈরি ট্রফিসহ তিন হাজার ইউরো ও প্রশাংসাপত্র দেওয়া হয়।

মেয়র ক্লেম্নস বাউমগের্টনার বলেন, ‘মিউনিখের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ অবদান রাখছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করতে পেরে আমরা গর্বিত।’ তিনি আরও বলেন, অভিবাসীদের এই প্রতিষ্ঠানগুলো মিউনিখ তথা জার্মানির অর্থনীতি সমৃদ্ধ করছে।

ফিনিক্স পুরস্কার অনুষ্ঠানের মঞ্চে মেয়র ক্লেম্নস বাউমগের্টনার ও শিখা শংকর পালের সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দুই সন্তান মাক্সি শংকর পাল ও দিব্য শংকর পাল
ছবি: লেখক

শিখা শংকর ও শিব শংকর পালের ‘পাল ইলেকট্রো’ এ মুহূর্তে ব্যাভেরিয়া রাজ্যের পাঁচতারা হোটেল, বিভিন্ন বিদ্যালয় ও হাসপাতাল ছাড়াও বিভিন্ন বাস টার্মিনালের জন্য কাজ করছে। শিখা শংকর ও শিব শংকর পাল বলেন, পরিশ্রম আর প্রবাসে কঠোর নিয়মানুবর্তিতার মধ্য দিয়েই এ পুরস্কার। এ পুরস্কার বাংলাদেশের গৌরব।

উদ্যেক্তা হিসেবে ব্যাবসা–বাণিজ্যে বিশেষ অবদান রাখায় জন্য ২০১৭ সালে শিব শংকর পালও এই মর্যাদাপূর্ণ ফিনিক্স পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠাটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সৃষ্টি করেছেন কর্মসংস্থানের সুযোগ।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জার্মানির বিভিন্ন পর্যায়ের রাষ্ট্রের ব্যক্তিসহ অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশিও অংশগ্রহণ করেন।