টাইমস স্কোয়ারে ‘সম্প্রীতির নববর্ষ’ উদ্‌যাপন ১১ এপ্রিল

‘সম্প্রীতির নববর্ষ’—এই স্লোগান সামনে রেখে আগামী ১১ এপ্রিল নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলা বর্ষবরণের মহাউৎসব। প্রবাসী বাঙালিদের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসব ঘিরে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি ও সাংস্কৃতিক মহড়া।

৭ মার্চ নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে নবান্ন রেস্টুরেন্টের পার্টি হলে অনুষ্ঠিত বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদ্‌যাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক মহড়া অনুষ্ঠানের শুরুতে এই ঘোষণা দেন আয়োজক সংগঠন এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইডের সভাপতি ও মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বজিত সাহা। তিনি জানান, গত তিন বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও টাইমস স্কোয়ারে নববর্ষ উদ্‌যাপনের পরদিন ১২ এপ্রিল জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইডের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কবি হোসাইন কবির তাঁর বক্তব্যে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক এই উৎসবের ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। এ ছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন গণসংগীত পরিচালক মহিতোষ তালুকদার তাপস, নৃত্যপরিচালক চন্দ্রা ব্যানার্জী এবং ডাউনটাউন ম্যানহাটন বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তারিকুল ইসলাম বাদল।

আয়োজকেরা জানান, এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইডের উদ্যোগে বাংলা নববর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে ইতোমধ্যে সাংস্কৃতিক মহড়া শুরু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত মহড়ায় নিউইয়র্কের বিভিন্ন বরো থেকে সংগীতপ্রেমী শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন। বিশেষ করে গণসংগীতশিল্পী ও সংগঠক মহিতোষ তালুকদার তাপসের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই মহড়ায় বহু শিল্পী অংশ নেন।

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]

বিশ্বজিত সাহা বলেন, নববর্ষের মূল অনুষ্ঠানের আগে আরও কয়েকটি মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, টাইমস স্কোয়ারে পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপনের মাধ্যমে বাংলা সংস্কৃতি বিশ্বব্যাপী নতুন নান্দনিক পরিচিতি পাচ্ছে। এই উৎসবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষী মানুষের পাশাপাশি ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড, লাওসসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরাও অংশগ্রহণ করবেন বলে তিনি জানান।

আয়োজকেরা আশা করছেন, টাইমস স্কোয়ারে বাংলা নববর্ষ উদ্‌যাপন প্রবাসী বাঙালিদের ঐক্য ও সম্প্রীতির এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠবে এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলা সংস্কৃতির মর্যাদা আরও উজ্জ্বল করবে।