বিমানবন্দর রাজশাহী নওগাঁ হাইওয়ের ওপর নওদাপাড়া নাম একটা জায়গায়। এখান থেকে বাড়ির দূরত্ব প্রায় মিনিট বিশেক। বিমান থেকে নেমে কাঠফাটা রোদে হেঁটে বিমানবন্দরের ভেতরে গেলাম। রশিদ চাচাকে বলেছিল একটা গাড়ি পাঠাতে। ব্যাগ হাতে দাঁড়িয়ে আছে এমন সময় ফোন এল।
‘অভীক, বাবা ঠিকমতো আইসছ?’
‘আসসালামু আলাইকুম চাচা। সব ঠিকঠাক।’

‘শোনো জাকির নামের একটা ছেলে গেছে তোমাকে আনতে। ও তোমাকে ফোন দেবে।’
চাচার ফোন রাখতেই জাকিরের ফোন এল। গাড়িচালকের কথা শুনতে ভালো লাগছে। একেবারে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভাষায় কথা বলছেন। বাড়িতে মায়ের কড়া নিষেধ ছিল আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলা যাবে না। এখন অনেক দিন পরে অনভ্যস্ত কানে বুঝতে কষ্টই হচ্ছে। প্রায় ১০ বছর পর এ শহরে পা রেখেছি। এবার এসেছি শহরের সঙ্গে সব হিসেবে চুকিয়ে দিতে। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া সব সম্পত্তি বিক্রি করব। বরেন্দ্র অঞ্চলে কিছু ধানি জমি আর একটা পুকুর আছে।
ছোট চাচা  মারা গেছেন। ওনার এই আকস্মিক মৃত্যুর জন্য কেউ প্রস্তুত ছিলেন না। এ যাত্রার আরেক উদ্দেশ্য চাচার ৪০ দিনের পরে যে মিলাদ দেওয়ার রেওয়াজ আছে, সেখানে অংশগ্রহণ করা। চাচা যে মসজিদে নামাজ পড়তেন, সেখানে জায়নামাজ দেব মুসল্লিদের।

বাড়িতে ঢুকে দেখলাম পরিবেশ থমথমে। শোকের বাড়ি। আমার খুব ছোটবেলার স্মৃতিতে আছে দাদাবাড়ি। তখন আমি লিচুর সময়ে আসতাম বেড়াতে। খুব গরম পড়লেও বাড়ির একতলাটা তুলনামূলকভাবে শীতল থাকত। বাড়ির সামনে একটা বড় পেয়ারাগাছ ছিল। তখন বড় মনে হতো। তার এক ডালে দোলনা ঝুলিয়েছিলাম সবাই।
গাছটা আগের মতোই আছে। দোলনাটা নেই। ঠিক যেমন আমাদের শৈশবটা চুরি হয়ে গেছে।

ঝিনুক, আমার ছোট চাচার মেয়ে, দেখলাম কেঁদে চোখ মুখ ফুলিয়ে বসে আছে। ওর সঙ্গে ঢাকায় আমার দেখা-সাক্ষাৎ হয়। কুয়ালালামপুর থেকে ইদানীং ঢাকায় আসি তারপরে ফিরে যাই।
অনেক দিন আগে ডিসকভারি চ্যানেলে একটা শো দেখেছিলাম। এক বৃদ্ধ দুর্বল সিংহকে ঘিরে ধরেছে হায়েনার পাল। তারা ধীরে অগ্রসর হচ্ছে। আমার বারবার মনে হচ্ছিল কেন ফটোগ্রাফার দেখছেন? কেমন একটা নির্বিকার দর্শকের ভঙ্গি। আমিও এখানে ঠিক তা–ই শুধু দর্শক।
ঝিনুকের আশপাশে বসা মানুষগুলোকে আমার হায়েনা মনে হচ্ছে। আমি যেন বহুদূর থেকে ক্যামেরার লেন্স দিয়ে  দৃশ্য দেখছি। আমি অপেক্ষা করছি সিংহের পরাজয় দেখার জন্য।

ঝিনুকের পরনে সাদা সালোয়ার কামিজ। ও চুপ করে কথা শুনছে।
জয়নাল চাচা গলা খাকারি দিয়ে বললেন, ‘ঝিনুক এসব চল্লিশার আয়োজন আমাদের ধর্মে নেই। এখন তোমাদের ইচ্ছে।’

ঝিনুক বলল, ‘এটার সঙ্গে মানবসেবার একটা ব্যাপার জড়িয়ে গেছে চাচা। আব্বা লোক খাওয়াতে ভালোবাসতেন।’

জয়নাল চাচা বললেন, ‘আসলে একটা আইনি ব্যাপারে কথা বলতে তোমাকে ডেকেছি আমরা। ভাইজান নেই আর তুমি তো একমাত্র মেয়ে। আইন অনুযায়ী আমরা ভাইবোনেরা ভাইজানের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী।’
ঝিনুক বলল, ‘হ্যাঁ। বাবা তো উইল করার সময় পাননি।’

জয়নাল চাচার মুখে একটা হাসি খেলে গেল। সেই হাসির কদর্যতা উনি চেষ্টা করেও লুকাতে পারলেন না। উনি বললেন, ‘করে গেলেও লাভ হতো না।’
জমিলা ফুপু বললেন, ‘অবশ্য তুমি যদি চাও আমার ভাগ আমি ছেড়ে দিতে পারি।’
ঝিনুক একটু চুপ করে থেকে মাথা উঁচু করল। ওর মাথার ঘোমটা আধা খোলা এখন। অবিকল তাঁর বাবার মতো উদ্ধৃত ভঙ্গিতে বলল,
‘আপনাদের কারও করুনার আমার প্রয়োজন নেই। আইনত যে যা পাবেন, নেবেন। আমার উকিল কথা বলবে আপনাদের সঙ্গে।’
জয়নাল চাচা বললেন, ‘আহা। আবার ঘরের কথায় বাইরের উকিল কেন? বাড়ির সম্মান নষ্ট হবে।’

আমার এ মুহূর্তে জয়নাল চাচাকে হায়েনার মতো মনে হচ্ছে আবার।
সবাই চলে গেলেও আমি চুপ করে বসে রইলাম। ঝিনুক ঘরের এক কোনায় বসে মাটির দিকে তাকিয়ে আছে। ঠিক ৪০ দিনের ব্যবধানে ও পৃথিবীর রূপ দেখে ফেলল।
আমরা দুজনেই চুপ করে বসে আছি।
আমি কথা শুরু করলাম, ‘ঝিনুক আমি ওদের সাথে যোগ দিতাম না রে।’
ঝিনুক ফোঁস করে উঠল, ‘কেন নিতি না? দয়া? আমাকে বরফপানি খেলার সময় জিততে দিতি? দোলনাতে ওঠার সময়ে কোনো দিন বাড়তি সুবিধা দিয়েছিস? আমি তোদের কাছ থেকে সুবিধা কেন নেব?’
এ কথা বলে ও ঘর থেকে বের হয়ে গেল। আমি দেখলাম ও চৌকাঠে হোঁচট খায় কি না। এ বাড়ির দরজার কাছে পুরোনো আমলের মতো উঁচু চৌকাঠ। ও বের হয়ে গেল। আমার মনে হলো আজকে ঝিনুক বড় হয়ে গেছে। ও আর কখনো হোঁচট খাবে না।

আমি চুপ করে বসে আছি। ভাগ্যিস বাবা ঝিনুকের বাবার আগে মারা গেছেন। নয়তো এদের সঙ্গে আমিও বসে থাকতাম। তখন আমার ভূমিকা কী হতো ভাবছি! আসলে মানুষ বড় অদ্ভুত প্রাণী। এরা নেকড়ে বা হায়েনার মতো। সমষ্টিগতভাবে করা অন্যায়ের বোঝার ভার তাঁদের হাল্কা মনে হয়।

পরদিন সকালে গোফরান চাচা বাড়িতে এলেন। ছোটবেলায় অনেক দেখেছি। কোলেপিঠে চড়ে ঘুরেও বেড়িয়েছি। ওনার একটা সাইকেল ছিল। উনি বাড়ির ছোটদের সেই সাইকেলে মাঝেমধ্যে চড়াতেন। বিকেল বেলা বেড়াতে নিয়ে যেতেন। উনি এ বাড়ির কর্মচারী ছিলেন অনেক আগে।

আব্বাকে কোনো এক বিচিত্র কারণে ডাকতেন বড় মিয়া। অথচ আব্বা ছিলেন বাড়িতে সেজো ছেলে। আমি নিজেই ওনাকে খবর দিয়ে এনেছি। সম্পত্তি বিক্রি করার ব্যাপারে ওনার সঙ্গেই কথা বলতে হবে।

গোফরান চাচার বয়স হয়েছে। খক খক করে কাশছেন। অথচ একসময়ে কেমন শক্ত সামর্থ্য মানুষ ছিলেন। আমরা এখন জিমে গিয়ে ঘাম ঝরাই। প্রাণান্ত চেষ্টা করি সিক্স প্যাক্স বানানোর। গ্রামের মানুষদের বুঝি পরিশ্রমের কারণেই সবল মেদহীন শরীর।
‘ছোট মিয়া। তোমার আব্বা খুব খুশি হতেন, তুমি যে জমি দেখতে যাচ্ছ।’
আমি হেসে ফেললাম, ‘আপনি আমাকে ছোট মিয়া কবে থেকে ডাকেন? আগে যা ডাকতেন, তা–ই ডাকবেন।’
উনি হাসেন। ওনার পান খাওয়া লাল দাঁত দেখা যায়।
‘ব্যাটা তুমি এখন বিদেশে থাকো। তবে তোমার আব্বা খুব খুশি হতেন জানো? এখন যাঁরা বর্গা চাষি আছেন, তাঁরা তোমার আব্বাকে ভালোবাসতেন অনেক।’

আমরা দুজন বাইরে দেখতে থাকি। গাড়ি হাইওয়ে ধরে ছুটে চলে। এসব কথায় আমার তেমন ভাবান্তর হয় না। জমিজমা বা সম্পত্তির প্রতি আমার কোনো দিন তেমন আকর্ষণ ছিল না। এত দিন খোঁজখবর রাখিনি। এখন ঢাকায় একটা স্থায়ী কিছু করতে হবে। নিজের একটা বাড়ি। সেই ভাবনা থেকেই বিক্রির চিন্তা এসেছে মাথায়।

গাড়ি এসে থামে একটা সবুজ খেতের পাশে। গোফরান চাচা আমাকে দেখান কত দূর সীমানা। একটা জামরুলগাছ দেখিয়ে বলেন, আব্বা নাকি ছোটবেলায় এ গাছের ফল পেড়ে খেতেন। জামরুলের রং অদ্ভুত লালচে। আমি গাছটা স্পর্শ করলাম। আব্বার স্মৃতি ক্রমশ ফিকে হচ্ছে।

পেছন দিকে তাকিয়ে একটা দৃশ্যে চোখ আটকে যায় আমার। শর্ষে ক্ষেতের মধ্যে এক কৃষ্ণাঙ্গী মেয়ে দাঁড়িয়ে। পরনে লাল শাড়ি। আমি তাকিয়ে থাকতেই মেয়েটার সঙ্গে চোখাচোখি হলো। স্পষ্ট চোখে তাকাল। দৃষ্টি ফিরিয়ে নিল না।
আমরা আরেকটু এগিয়ে যাওয়ার পর একটা মাটির বাড়ি চোখে পড়ল। বাড়ি আবার দোতলা। বাড়ির দেয়ালে রং দিয়ে নকশা করা। ফুল, পাতা, পাখি এমন সব ছবি তবে বেশ উজ্জ্বল রঙে আঁকা। আমি দেখে বেশ অবাক হলাম।

বাড়ি থেকে কৃষ্ণবর্ণ এক পুরুষ বের হয়ে এলেন। এসে গোফরান চাচাকে সালাম দিলেন। ওনার স্ত্রী ছেলেকেও দেখা গেল। ছেলেটা উৎসুক চোখে আমাদের দেখছে। নিজের চেয়ে বড় সাইজের একটা হাফপ্যান্ট পরনে। সে প্যান্ট সামলাতে ব্যস্ত।
চিরকাল মেজো চাচিকে শুনেছি অপছন্দের লোকদের সাঁওতাল বলে গালি দিতে। অথচ জানেন সুন্দর চোখের এই মানুষগুলোর দৃষ্টিতে কপটতা নেই। চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলে। ঝকঝকে দাঁত বের করে হাসে।

সত্যি বলতে তাঁদের আঞ্চলিক কথা বুঝতে আমার বেশ সমস্যা হচ্ছিল। তবে ভাষা না জানলেও উচ্ছ্বাস বোঝা যায়। তাঁদের চোখেমুখে স্পষ্ট আনন্দ।
গোফরান চাচা অনুবাদকের ভূমিকা পালন করছিলেন। আমাকে বুঝিয়ে বললেন আমার পরিচয়  জেনে ওনারা ভীষণ খুশি হয়েছেন।

আমি ছোট ছেলেটাকে ডাক দিলাম। ওর মুখে লজ্জার হাসি। বড়দের কথা শুনতে কৌতূহল আছে। দরজার ওপাশ থেকে দুই একবার হেসেছে ঠিক তবে সামনে আসেনি। অচেনা মানুষ দেখেই হয়তো লজ্জা। আমি হাত দিয়ে ইশারা করে ওকে ডাকলাম।
জিজ্ঞেস করলাম, ‘তোমার নাম বলো?’
‘আমার নাম কমল। তোমার নাম কি?’
আমি হেসে ফেললাম, ‘আমার নাম অভীক।’

কমলের মা–বাবার নাম আমার মনে নেই। আমি বাকি সময়টা কমলের সঙ্গে গল্প করে কাটালাম। ওর টিনের খেলার বাক্স এনে দেখাল আমাকে। খেলনার বাক্সে মার্বেল, একটা গুলতি দেখে আমি হাসলাম। কমলের মা–বাবা আমাকে নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখালেও কমলের মধ্যে যেন নিজের ছোটবেলা খুঁজে পাচ্ছিলাম। এমনিতেও আমার বাচ্চাদের সঙ্গে খাতির জমে যায়। বড়দের পৃথিবীর ছল কপটতা মুক্ত গল্পে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। এত ভেবে কথা বলতে হয় না।

গোফরান চাচা আমাকে ঘুরে ঘুরে সব দেখালেন। জমিজমার কী সব হিসাব বোঝালেন, মাথার ওপর দিয়ে গেল। আমার এত বুঝেই বা কাজ কী! আমি তো সব বিক্রি করতেই এসেছি। গোফরান চাচার সঙ্গে কথা বলে বুঝলাম এখানকার মাটি উর্বর হলেও খরার সমস্যা আছে। কমলের বাবা চিন্তিত মুখে এসব নিয়ে চাচার সঙ্গে কথা বলছিলেন।
সন্ধ্যা নামার আগেই গোফরান চাচা তাড়া দিতে লাগলেন বাড়ি ফিরতে হবে। কমলের মা–বাবা  খুব সাধাসাধি করলেন খাবার জন্য। আমরা না করলাম। তবে আসার আগে আমাদের টিনের গ্লাসে শরবত খেতে দিলেন। আমরা বিদায় নিয়ে চলে আসছি এমন সময় কমল দৌড়ে এল।

ও আমার হাতে একটা সবুজ মার্বেল দিল। তার মধ্যে হালকা সবুজ নকশা করা। আমার কাছে এসে বলল, ‘এটা সাপের চোখ অভীক।’
আমি হেসে ওর হাত থেকে নিলাম। বিদায়ী উপহার আমার জন্য। আমি কমলকে কথা দিলাম, আবার আসব।

গাড়িতে উঠে দুজনে চুপচাপ বসে আছি।
গোফরান চাচা ঝিমাচ্ছেন। আমি বাইরে দেখছি। ধুলো উড়ছে রাস্তার পাশে। আকাশের রং লালচে।
গোফরান চাচা নীরবতা ভেঙে বললেন, ‘তা ব্যাটা তুমি কী ঠিক করলে? জমি বেঁচে দিবা?’
‘হ্যাঁ চাচা। আপনি গ্রাহক খুঁজবেন।’
উনি আশাহত হলেন মনে হলো, ওনার সঙ্গে কথা বলে যা বুঝলাম বিক্রিবাট্টা করতে সময় লাগবে।

পরদিন সকালে ছোট চাচার মিলাদ। ঝিনুক দেখলাম এক হাতে সব সামলাচ্ছে। ওর চোখমুখ থমথমে। আমি মসজিদের মিলাদে অংশ নিলাম।
যৌথ পরিবারগুলোর আগের সেই জৌলুস আর নেই। যদিও সবাই সামনে দেখা হলে কথা বলে তবে বন্ধনটা কোথাও ছুটে গেছে।

আমি তার পরদিন রওনা দিলাম ঢাকার উদ্দেশ্যে। এয়ারপোর্টে বসে খবরের কাগজের পাতায় চোখ বোলাচ্ছি। একটা খবরে চোখ আটকে গেল। গোদাগাড়ীর দুই সাঁওতাল কৃষকের আত্মহত্যায় খবর প্রথম পাতায়। আমি আতিপাতি করে খুঁজলাম তাঁদের পরিবারের বাকি সদস্যদের নাম। কমলের নাম চোখে পড়ল না। তাও নিশ্চিত হতে আমি গোফরান চাচাকে ফোন করলাম।

আমি গোফরান চাচাকে বললাম আমি আরও এক বছর অপেক্ষা করব। তারপর সিদ্ধান্ত নেব। কেমন মনে হলো, দায় সারা হলো। কমল আমার পরিচিত বলে আমি ওর কথা ভাবলাম।

সেদিন রাতে মন খারাপ হলেও আমি ঠিক পাশবালিশ জড়িয়ে ঘুমালাম। প্রশাসনকে দোষ দিলাম মনে মনে। খবরের কাগজের শিরোনাম দখল হলো অন্য খবরে। ধীরে ধীরে স্মৃতি ফিকে হলো। আমি নিজেও সবাইকে দোষ দিয়ে দিব্যি নিজেকে প্রবোধ দিলাম। ওই যে আমরা সবাই মিলে যে অন্যায় করি, তার দায়ভার হালকা মনে হয় এমন কিছু। এভাবেই সবাই ঘুমোয় রাতে, বিস্মৃত হয়। ভূমিপুত্র শুধু বলে তার হাহাকারের কথা ‘দুঃখ লেগেছিল।’
এক দিন সব বলে দেব
আকাশের কাছে অভিযোগ জানাব
নদীর কাছে অনুযোগ জানাব;
তোমাদের অভিশাপ দিচ্ছি না,
তবে প্রকৃতি ঠিক শুনবে  
নদীর পাড় ভেঙে
যেদিন তলিয়ে যাবে সব,  
সেদিন তুমি বুঝবে
জলের দাম কত
কৃত্রিম রঙে দেয়াল রাঙিয়ে
মাটির ঘরের মানুষদের ভোলানো যায় না
আমার দীর্ঘশ্বাস মেশে বাতাসে
অশ্রুজল শুষে নেয় তপ্ত ভূমি;
আমার হাহাকার তোমার অন্তর স্পর্শ করে না
ভূমিপুত্রের অভিযোগ প্রকৃতি অবজ্ঞা করে না।