চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাইয়ের আয়োজন বিদেশের মাটিতে দেশীয় বনভোজন

‘দূর পরবাস’-এ জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]

লং আইল্যান্ডের আইজেন হাওয়ার পার্কে গান, আড্ডা, স্মৃতিচারণা আর খাবার–দাবারের আনন্দে একটি দিন কাটিয়ে দিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু প্রাক্তন প্রবাসী শিক্ষার্থী। নিউইয়র্কে লং আইল্যান্ডের কেন্দ্রে অবস্থিত বিশাল এই পার্ক শহরের কোলাহল থেকে আলাদা এক প্রশান্তির সবুজ ভূমি। প্রায় ৯৩০ একর জায়গায় বিস্তৃত পার্কজুড়ে রয়েছে ঘন সবুজ ঘাসের মাঠ, লম্বা ওক, ম্যাপল আর পাইনগাছের ছায়া ও স্বচ্ছ জলের সুবিশাল হ্রদ। এখানে আছে হাঁটার পথ, পিকনিক স্পট, বাগান ও খোলা আকাশের নিচে খেলাধুলার জায়গা। বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে টিউলিপ, ড্যাফোডিল আর লিলির মতো নানা রঙের ফুল ফুটে পার্ককে সাজিয়ে তোলে। প্রশস্ত লন আর দূষণহীন বাতাস পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের মিলনমেলাকে করে তোলে আনন্দময়।

এ রকম মনোরম পরিবেশে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু প্রাক্তন ছাত্র মিলিত হয়েছিলেন বনভোজনে। মনে হয়েছিল তাঁরা যেন ফিরে গেছেন পাহাড়ঘেরা সেই জোবরা ক্যাম্পাসে—যেখানে সবুজের ভেতর ছুটে চলে শাটলট্রেন, চারদিকে পাহাড় আর বৃক্ষরাজির ছায়া। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্ত আর পাশের দেশ কানাডা, এমনকি বাংলাদেশ থেকেও কেউ কেউ যোগ দিয়েছেন এই স্মৃতিময় সুন্দর আয়োজনে।

১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত চিটাগাং ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই নর্থ আমেরিকা ইংক এই বনভোজনের আয়োজন করে। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদ, জেনারেল সেক্রেটারি নোমান সরকার, আহ্বায়ক রফিকুল ইসলামসহ বেশ কিছু প্রবাসী ভাইয়ের অক্লান্ত পরিশ্রমে সফল হয়েছে এই আয়োজন। এতে দেড় শতাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

বনভোজনে অংশ নিয়েছেন কানাডা প্রবাসী প্রবীণ সাংবাদিক মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘অনুষ্ঠানগুলোতে নিজের ছাত্রজীবনকে খুঁজে পাই। তাই এ রকম আয়োজন হলে ছুটে আসি।’ বাংলাদেশ থেকে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন অ্যাডভোকেট এ টি এ আফতাব উদ্দীন। তিনি বলেন, ‘কয়েক দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বেড়াতে এসে এ রকম একটি অনুষ্ঠানে যুক্ত হতে পারলাম। আমার আমেরিকা ভ্রমণ সার্থক হলো।’

সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত টানা ১০ ঘণ্টার অনুষ্ঠানটির প্রাণ ছিল মূলত গান। নিউইয়র্কের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অ্যালামনাইয়ের সক্রিয় কর্মী হাসান মাহমুদ জনপ্রিয় সব গান গেয়ে গেয়ে পুরোটা সময় মাতিয়ে রাখেন। গান গাওয়ার সময় তিনি উপস্থিত সতীর্থদের কাছে ডেকে নিয়ে তাঁদের দিয়েও গান করান। এভাবে সবার সংযোগে অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। তিনি ছাড়াও অন্যদের মধ্যে গান করেন বিষ্ণু গোপ, বাঁধন, সেলিম, প্রসুন, ববি চৌধুরী, নূপুর, শামিম সিদ্দিকী, নাসির আহমেদ, রানী, রাশেদ ও মিলি। আবৃত্তি করেন শিবলি সাদিক ও আবদুল্লাহ আল মাহের।

আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়য়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক কবি হোসাইন কবির, অ্যালামনাইয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দিলওয়ার হোসেন, বিষ্ণু গোপ, শামসুদ্দিন আজাদ, ববি চৌধুরী, প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদ, জেনারেল সেক্রেটারি নোমান সরকার।

আবদুল্লাহ আল মাহের, বিষ্ণু গোপ ও হাসান মাহমুদের সঞ্চালনার প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানটি গান, আবৃত্তি, আলোচনা ছাড়াও নানা বিষয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়। গায়ক হাসান মাহমুদ বলেন, যাঁদের হাত ধরে এই অ্যালামনাই প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, সেইসব প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এখন পর্যন্ত তাঁদের সঙ্গে আছেন।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র নিউইয়র্ক প্রবাসী ছড়াকার শামস চৌধুরী রুশো বলেন, আমরা যাঁরা বিদেশে থাকি, তাঁদের জন্য এ ধরনের অনুষ্ঠান আমাদের নতুন করে উজ্জীবিত করে। বেঁচে থাকার প্রেরণা দেয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইয়ের অনুষ্ঠান প্রবাস জীবনে যেন একটু দেশের হাওয়া বইয়ে আনল।