বিশ্ব বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশ

ছবি: লেখক

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক ভোক্তা পণ্য মেলা অ্যাম্বিয়েন্টে ২০২৬-এ জোরালো উপস্থিতির মাধ্যমে বাংলাদেশ আবারও বৈশ্বিক বাণিজ্য অঙ্গনে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করার বার্তা দিয়েছে। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ ব্র্যান্ড ও উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। প্রযুক্তিনির্ভর রান্নাঘর সরঞ্জাম থেকে শুরু করে গৃহস্থালি পণ্য, লাইফস্টাইল সামগ্রী ও ভোক্তা–প্রযুক্তির নানা উদ্ভাবন এখানে প্রদর্শিত হয়।

এবারের মেলায় বাংলাদেশ থেকে ৪৭টি কোম্পানি অংশগ্রহণ করে, যা দেশের ক্রমবর্ধমান রপ্তানি সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্র্যান্ডিং কৌশলের একটি সুস্পষ্ট প্রতিফলন। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হোম ও কিচেন অ্যাপ্লায়েন্স, হ্যান্ডিক্রাফটস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, পরিবেশবান্ধব সামগ্রী, টেক্সটাইল-ভিত্তিক গৃহস্থালি পণ্যসহ বিভিন্ন উদ্ভাবনী পণ্য প্রদর্শন করে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন ছিল মেলার অন্যতম আকর্ষণ। দেশীয় ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে সাজানো স্টলগুলোতে তুলে ধরা হয় ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের বহুমাত্রিকতা। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, ইউরোপীয় বাজারে সরাসরি ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন, সম্ভাব্য অংশীদারদের সঙ্গে ব্যবসায়িক আলোচনা ও নতুন বাজার অনুসন্ধানের জন্য এই মেলা ছিল অত্যন্ত কার্যকর একটি প্ল্যাটফর্ম।

মেলায় উপস্থিত বার্লিনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জূলকার নায়েক ও কমার্শিয়াল কাউন্সেলর রাব্বি যৌথভাবে বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও ইতিবাচক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয় নিয়েই বাংলাদেশ এবার অ্যাম্বিয়েন্টে মেলায় অংশগ্রহণ করেছে। আমাদের লক্ষ্য শুধু পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি নয়, বরং ‘বাংলাদেশ’ নামটিকে গুণগত মান, উদ্ভাবন ও নির্ভরযোগ্যতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা।’

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর উপস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের পণ্য উপস্থাপন করে। তবে গত দুই বছর বাংলাদেশের স্টলে টেলিভিশনটি টানানো হয়, কিন্তু কোনো শো হয় না। পরিবেশবান্ধব উৎপাদনপ্রক্রিয়া, টেকসই কাঁচামালের ব্যবহার ও প্রতিযোগিতামূলক মূল্য ছিল বিদেশি ক্রেতাদের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত। বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বাংলাদেশি পণ্যের গুণগত মান ও বৈচিত্র্যের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বিশ্ববাজারে ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে এ ধরনের আন্তর্জাতিক মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে প্রবেশ ও সম্প্রসারণে সরাসরি প্রদর্শনী এবং ব্যবসায়িক আলোচনার সুযোগ বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।

অ্যাম্বিয়েন্টে ২০২৬-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কেবল একটি প্রদর্শনী কার্যক্রম নয়; বরং এটি ছিল দেশের রপ্তানি সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত অভিযোজন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের প্রকাশ। ৪৭টি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উপস্থিতি প্রমাণ করেছে—বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক বাণিজ্য মানচিত্রে একটি উদীয়মান শক্তি, যা আধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং গুণগত মানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই সফল অংশগ্রহণ দেশের অর্থনৈতিক কূটনীতি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে আরও বৃহৎ পরিসরে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ‘ব্র্যান্ড বাংলাদেশ’–কে বিশ্বদরবারে সুপ্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]