বিজয়ের উৎসবে পেলাম নবজাগ্রত বাংলাদেশ
আমার নির্ঘুম রাত, পনেরোই ডিসেম্বর ১৯৭১,
অস্থিরতায় কাটে প্রহরগুলো ভার।
মা বললেন স্নেহে, ‘কাল হবে নতুন সূর্যোদয়’,
আমি বলি, ‘মা, সূর্য তো প্রতিদিনই উদয় হয়!’
মা কি তবে জানতেন সেই অমোঘ ইশারা,
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ আনবে বিজয়ের ধারা?
স্বাধীনতার আলোকচ্ছটা, বিজয়ের গান,
রাতের আঁধারে ফোটাবে নতুন ভোরের প্রাণ।
শীতের হিমেল বাতাসে ঢাকা কুয়াশার ভোর,
অপেক্ষায় ছিলাম নতুন সূর্যের আলোর শর।
উদিত হলো আলো, কিন্তু কাঁদল মন,
হাজার শহীদের স্মৃতিতে ভিজল সেদিনের সকাল।
যারা হারাল প্রাণ, রক্তে লিখল ইতিহাস,
তারা কি ফিরবে? এ প্রশ্নে কাঁদে অন্তরবাস।
বিজয়ের আনন্দে মিশে ছিল বিষাদের ছোঁয়া,
লাল-সবুজের বুকে বেদনার রং যেন মাখা।
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১, স্মৃতির অমর অধ্যায়,
বিজয়ের হাসি তবু প্রশ্ন রেখে যায়।
ন্যায় আর স্বাধীনতা কবে হবে পূর্ণ?
বৈষম্যের আঁধার কবে হবে চূর্ণ?
তারপর কেটে গেল বহু বছর,
নতুন স্বপ্নে জ্বলে উঠল প্রজন্মের মন।
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন,
ধ্বনিত হলো প্রতিরোধের গান।
পতাকায় লেখা হলো নতুন রক্তের দান,
দেশের মাটিতে স্পন্দিত হলো মুক্তির গান।
পাঁচই আগস্ট ২০২৪, ঘটল সেই পতন,
স্বৈরাচারের জালে শেষ হলো শাসনের বাঁধন।
নতুন প্রজন্ম গড়ল মুক্তির স্বপ্নতরি,
আকাশজুড়ে উঠল স্বাধীনতার আলো ঝরি।
অবশেষে পেলাম রক্তস্নাত এই মাতৃভূমি,
নতুন স্বপ্নে ভরা এক স্বাধীন ভূমি।
স্বাধীনতার সুরে মিশে আত্মত্যাগের পবিত্রতা,
জাতির ইতিহাসে লেখা হলো চিরন্তন অমরতা।
পাতা ঝরে, রক্ত ঝরে—তবু থামে না ক্লেশ,
বিজয়ের সুরে জাগে নবজাগরণের দেশ।