কৃষ্ণকলি

অলংকরণ: মাসুক হেলাল

বাংলাদেশে মেয়েদের নাম কাজল এমনি এমনি হয় না।

নামটা যেন একটা সূক্ষ্ম ব্যাখ্যা—একটা অদৃশ্য কারণ। যে মা-বাবা মেয়ের গায়ের রঙে শ্যামলতার কোমল ছায়া দেখেন, তাঁরা যেন আলতো করে নামের ভেতর সেই রঙের মর্যাদা রেখে দেন—কাজল। কিন্তু সমাজের চোখে নামটা হয়ে ওঠে আরেক রকম ব্যাখ্যা—একটা অযাচিত অঙ্ক, যেটা মেয়েটাকে জন্মের পর থেকেই কষে চলতে হয়।

কাজলের বেলায়ও তাই হয়েছিল। মায়ের শাড়ির আঁচলে মুখ লুকিয়ে সে যখন পাড়ার উঠানে খেলত, তখনই শুনে ফেলত—

—‘বিয়ে দিতে কষ্ট হবে!’

মায়ের চোখে তখন একটা অদ্ভুত চাপা ভয় ভেসে উঠত। কাজল সেই ভয় বুঝত না, শুধু বুঝত—তার গায়ের রং নিয়ে মানুষের কৌতূহল, বিচার, আর বিষাদ আছে।

তবু কাজল ছিল আশ্চর্য সুন্দর। গায়ের রং শ্যামল, কিন্তু সেই শ্যামলতায় ছিল নদীর জলের মতো দীপ্তি—রোদ পড়লে যেমন নদী কালচে হয়, তবু তার বুকের ওপর ঝিলমিল করে আলো। কাজলের কপালটা ছিল প্রশস্ত, ভ্রু দুটো যেন আঁকা—কোনো শিল্পীর ধৈর্য নিয়ে টানা রেখা। চোখ দুটো বড় নয়, কিন্তু গভীর—যেন চোখের ভেতরে একটা স্থির আকাশ আছে, সেখানে মেঘ আসে, যায়, কিন্তু আকাশটা থাকে নিজের মতো। তার নাকটা সোজা, ঠোঁটের কোণে সব সময় একটুখানি হাসি—যেমন শিশিরভেজা পাতার কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা পানি। আর চুল—চুল ছিল তার সবচেয়ে নির্ভার অলংকার। কোমর ছাপানো চুল। লম্বা কালো চুল, ঘাড়ের কাছে গুটিয়ে রাখলে মনে হতো যেন একরাশ রাত কাঁধে নিয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে। বেণি বাঁধলে সবার নজর কাড়ে। খোলা রাখলে সবাইকে চমকে দেয়।

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]

কাজল সাজগোজ করত না খুব। সে পরত সাদা-নীল সালোয়ার কিংবা নরম কোনো রঙের শাড়ি—যেটা তাকে আলাদা করে চোখে পড়াতে চাইত না, তবু পড়াত। তার সৌন্দর্য ছিল প্রদর্শনের নয়—উপস্থিতির। মানুষ টের পেত, কেমন করে যেন—সে আছে।

কলেজে পড়তে গিয়ে কাজলের জীবনে নীল আসে।

নীল তার দুই বছরের সিনিয়র, এমএ পড়ছে। ফর্সা গায়ের রং, মুখে শহুরে একটা নরম দাম্ভিকতা—যেটা অবজ্ঞা নয়, আত্মবিশ্বাস। চোখে চশমা, হাতে সব সময় বই বা কাগজ। নীলকে প্রথম দেখেই কাজল হেসেছিল। কারণ, ছেলেটা হাঁটার সময় এমনভাবে ভ্রু কুঁচকে ভাবত, যেন পৃথিবীর সব পরীক্ষার প্রশ্ন সে একাই সলভ করছে।

একদিন লাইব্রেরির সামনে কাজল দাঁড়িয়ে ছিল। হাতে নোটবই, একটু দোল খাচ্ছে বাতাসে। নীল পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলল,

—‘আপনি কি এখানে প্রতিদিন দাঁড়ান? লাইব্রেরিটাকে পাহারা দেন নাকি?’

কাজল চোখ তুলে তাকাল। চোখে একটুখানি শাসন, একটুখানি হাসি।

—কাজল ‘পাহারা দিলে তো আপনাদের মতো বই-চোরেরা ঢুকতে পারত না।’

নীল একটু থমকে গেল। তারপর হেসে ফেলল।

—‘এক্সকুইজ মি! বই-চোর! ভয়ংকর অপবাদ।’

কাজল বলল, —‘অপবাদ না। প্রমাণ আছে।’

নীল যেন আকাশ থেকে পড়ল, ‘প্রমাণ আছে?’

কাজল মুচকি হেসে বলল, ‘ঘাবড়ে গেলেন তো?—আসলে আপনাকে ঘাবড়ানোর জন্যই কথাটা বলেছি, জাস্ট মজা করে বললাম, কিছু মনে করবেন না’

—‘আপনি আংশিক সত্য বলেছেন, আমি চোর নই। আমি শুধু…বই ধার করে ভুলে যাই ফেরত দিতে, তবে লাইব্রেরি থেকে নয় বন্ধুদের কাছ থেকে।’

কাজল হাসল।

—‘এই তো—চুরি!’

সেই দিন থেকে তাদের কথায় কথায় খুনসুটি ঢুকে পড়ল। খুব উথালপাতাল প্রেম নয়—বরং ছোট ছোট বাক্যের ভেতর একটা পরিচয় গড়ে উঠল।

তাদের প্রেমটা ছিল ঠিক এই রকম—একটা ছোট নদী, যা খুব শব্দ করে না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে খুব গভীর হয়ে যায়। একসময় ওরা আপনি থেকে তুমি ডাকতে শুরু করল।

কাজল একদিন মন খারাপ করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল, নীল দূর থেকে দেখে এসে বলল,

—‘তুমি চুপ করে থাকলে মনে হয় প্রকৃতি দুঃখ পায়।’

কাজল মুখ বাঁকিয়ে বলল,

—‘আমার দুঃখে কেন প্রকৃতি দুঃখ পাবে?’

নীল বলো,

—‘আসলে তোমাকে দুঃখি দেখে আমারও খুব খারাপ লাগছে।’

কাজল তখন আর কিছু বলতে পারেনি, শুধু বুকের ভেতর একটা কাঁপুনি উঠেছিল—ভালোবাসা কি সত্যি এমন সহজ বাক্যে লুকিয়ে থাকে?

এভাবেই প্রতিদিনের খুনসুটিতে তারা আরও কাছে এল।

নীল পাস করেই একটা বড় ব্যাংকে চাকরি পেল। জুনিয়র অফিসার। চাকরির খবর শুনে কাজল একদিন বলেছিল,

—এবার তো আপনি সত্যি সত্যি বড়লোক হয়ে যাবেন।’

নীল হেসে বলেছিল,

—‘বড়লোক না। বড় দায়িত্ব।’

এর কিছুদিন পর নীল কাজলের বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাল। কাজলের বাবা-মা যেন হাতে চাঁদ পেলেন। মেয়ের নাম-রং নিয়ে যেসব অদৃশ্য দুশ্চিন্তা তাঁরা বুকের ভেতর লুকিয়ে রেখেছিলেন, সেসব মুহূর্তেই অনেকটা হালকা হয়ে গেল। মা তো শাড়ির আঁচলে মুখ ঢেকে কেঁদেই ফেললেন—এ কষ্টের কান্না নয়, স্বস্তির কান্না। বাবা বারবার বললেন,

—‘আমাদের মেয়েটা পড়াশোনা করেছে, ভদ্র, সংসার জানে। আল্লাহর রহমত।’

মোটামুটি আয়োজনেই বিয়েটা হলো। কাজল শাড়ি পরেছিল গাঢ় সবুজ—শ্যামল গায়ের রঙের সঙ্গে এমনভাবে মিশে গিয়েছিল, যেন এই রংটা তার জন্যই বানানো। নীল পরেছিল সাদা পাঞ্জাবি। তবে কাজলকে দেখে একটু থমকে গিয়েছিল—চোখে যেন এক মুহূর্তের বিস্ময়। পরে কানে কানে বলেছিল,

—‘তুমি আজকে…লাইব্রেরির রানি।’

কাজল বলেছিল,

—‘রানি হলে আমি নিয়ম করব—বই ফেরত না দিলে জরিমানা দ্বিগুণ।’

বিয়ের পর তারা হানিমুনে গেল নেপাল। পাহাড়ের বাতাস, ঠান্ডা রোদ, হোটেলের জানালায় কুয়াশা। কাজল জানালার কাছে দাঁড়িয়ে ছিল। নীল এসে বলল,

—‘কুয়াশা।’

কাজল বলল,

—‘কুয়াশা না, এটা পাহাড়ের নিশ্বাস।’

নীল বলল,

—‘বাহ্ চমৎকার বলেছ তো!’

কাজল হাসল,

সেই নেপালের কয়েকদিন কাজলের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অ্যালবাম হয়ে রইল। মনে হলো—জীবন সত্যি সুন্দর।

কিন্তু বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই কাজল বুঝতে পারল—ভালোবাসা আর সংসার এক জিনিস নয়।

ভালোবাসা নদী, সংসার নদীর দুই তীর—দুই তীর না থাকলে নদী ভেসে যায়, আবার দুই তীর শক্ত হলে নদী কখনো কখনো দমবন্ধ হয়।

নীল বেতন পেলেই সব টাকা মায়ের হাতে তুলে দিত। এমনকি টাকা ভাঙিয়ে খুচরা করে দিত—‘মায়ের যাতে কোনো অসুবিধা না হয়।’ কাজল প্রথমে কিছু বলেনি। ভেবেছিল, মায়ের প্রতি ভালোবাসা তো পাপ নয়। কিন্তু তারপর দেখল—সব সিদ্ধান্ত, সব কথা, সব নিয়মের কেন্দ্র মায়েই। কাজল যেন এখানে অতিথি, আর শাশুড়ি এই বাড়ির অঘোষিত সরকার।

বিয়ের পর শাশুড়ি কাজলের পড়াশোনা নিয়ে আপত্তি তুললেন।

—‘এত লেখাপড়া করে কী হবে? ঘরের কাজ শেখো।’

কাজল নরম গলায় বলেছিল,

—‘মা, ডিগ্রি শেষ করতে আর কটা মাস। শেষ করে ফেলি।’

শাশুড়ি বলেছিলেন,

—‘ডিগ্রি শেষ হলে চাকরি করবে, তাই তো?’

কাজল চুপ করে ছিল। চুপ মানে হ্যাঁ।

আরও একটা যুদ্ধ ছিল—রঙের যুদ্ধ।

কথায় কথায় খোঁটা—

—‘কালো মেয়ের এত অহংকার!’

—‘উত্তরবঙ্গের মেয়েরা রান্নায় ঝাল বেশি দেয়।’

--‘সব তরকারি এক সাথে মাখিয়ে ভাত খায়, এটা কো খাবার নিয়ম হলো?’

কাজল এসব গায়ে মাখত না। সে মনে মনে ভাবত—মানুষের মুখে বিষ থাকলে, সে বিষ নিজেকেই পোড়ায়। তবু কিছু রাত ছিল, যখন বালিশ ভিজে যেত। নীল পাশে শুয়ে থাকত, ঘুমিয়ে পড়ত। কাজল তাকিয়ে দেখত—এই মানুষটা কি বুঝতে পারে না, তার ঘরের ভেতরেই কেউ প্রতিদিন ছোট ছোট করে ভেঙে যাচ্ছে?

ডিগ্রি শেষ করে কাজল চাকরি করতে চাইল। শ্বশুরবাড়ির তীব্র আপত্তি। নীলও মায়ের আদেশ ছাড়া একচুল নড়ল না। নীল কাজলকে সময় দিত না। অফিস, মায়ের দরকার, আত্মীয়ের খোঁজ—সব ছিল। শুধু কাজল ছিল না।

কাজল একদিন বলল,

—‘তুমি কি আমাকে নিয়ে কখনও বাইরে যাবে? একটু হাঁটতে, একটু কথা বলতে?’

নীল ক্লান্ত গলায় বলল,

—‘এত আবদার করো কেন? সংসারে তো সব ঠিকই আছে।’

কাজল বলল,

—‘সংসারে ঠিক আছে, আমি ঠিক নেই।’

নীল বলল,

—‘এসব নাটক করো না।’

কাজলের বুকের ভেতর তখন একটা শব্দ হলো, নিঃশব্দ, দীর্ঘশ্বাস

কাচ ভাঙার শব্দ নয়—আরও নীরব, আরও গভীর।

সেদিনই কাজল সিদ্ধান্ত নিল—সে আর কারও অনুমতির জন্য অপেক্ষা করবে না।

বিসিএস পরীক্ষার ফর্ম তুলল। সংসারের কাজের ফাঁকে প্রস্তুতিও নিল।

পরীক্ষার দিন সে শাড়ি পরেছিল সাদামাটা। চোখের কাজল—নামকে সে আজ নিজের শক্তি করে নিয়েছে। হলে ঢুকে সে অনুভব করল—এই কাগজের সামনে সে একা, কিন্তু ভয় নেই। কারণ, এই একাকিত্বই তাকে দাঁড়াতে শিখিয়েছে।

ফল বেরোল। কাজল সহকারী সচিব।

খবরটা যখন এল, শ্বশুরবাড়ির উঠান যেন কিছুক্ষণ নিস্তব্ধ হয়ে গেল। তারপর শাশুড়ি বললেন,

—‘ঘরের বউয়ের এত বড় চাকরি! অহংকারে পা মাটিতে পরবে না।’

কাজল মাথা নিচু করে বলল,

—‘অহংকার নয় মা। দায়িত্ব।’

তার পোস্টিং হলো ঢাকায়। বেইলি স্কয়ারে সরকারি বাসা। কাজল নিজে থেকে সংসার ভাঙতে চাইল না। বলল,

—‘তুমি চাইলে আমি একা থাকব। কিন্তু আমি বাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছি না।’

নীল প্রথমবার তার চোখে একটা অন্য রকম দৃঢ়তা দেখল।

কাজলে নীল অভ্যস্ত হয়ে পরেছিল। তাকে ছাড়া সেও একা বোধ করতে লাগল।

কিছুদিন পর নীলেরও প্রমোশন হলো, সে তদবির করে ঢাকাতেই পোস্টিং নিল।

এই প্রথম তারা একসঙ্গে, সত্যিকার অর্থে, নিজেদের ঘরে দাঁড়াল। ঢাকার বাসায় প্রথম রাতে কাজল রান্নাঘরে ঢুকে বলল,

—‘এবার আমি রান্না করলে কেউ বলবে না—উত্তরবঙ্গের ঝাল!’

নীল হেসে বলল,

—‘আমি বলব—ঢাকার মিষ্টি!’

কাজল ভ্রু তুলে বলল,

—‘মিষ্টি খেতে চাইলে? তাহলে বাজার কর।’

নীল বলল,

—‘আদেশ?’

কাজল বলল,

—‘সরকারি আদেশ।’

ঢাকায় নীল বদলাতে লাগল।

কাজল কখনো ঝগড়া করে বদলায়নি তাকে। সে বদলেছে ভালোবাসা আর নিয়ম দিয়ে। সকালবেলায় দুজন একসঙ্গে চা খেত। কাজল বলত,

—‘আজ অফিসে যাওয়ার আগে দশ মিনিট শুধু গল্প করবে।’

নীল বলত,

—‘গল্প?’

কাজল বলত,

—‘হ্যাঁ। তুমি তো এত দিন আমাকে সময় দাওনি, এখন দশ মিনিট দিতে হবে।’

নীল মুচকি হাসত। দশ মিনিট কখনো ত্রিশ মিনিট হয়ে যেত।

তারা নাটক দেখতে যেত। বেইলি রোডের বাতাসে এক ধরনের শিল্পের গন্ধ আছে—ব্যানার, মানুষের ভিড়, টিকিটের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা তরুণ-তরুণী, আর দূরে চা-সিগারেটের ধোঁয়া। নীল একদিন নাটক দেখে বেরিয়ে বলল,

—‘তুমি ঠিকই বলেছিলে। জীবনটা শুধু অফিস আর দায়িত্ব নয়।’

কাজল হেসে বলল,

—‘আমি তো বলি—জীবনটা একটা নাটক, কিন্তু স্ক্রিপ্ট লিখব আমরা।’

নীল বলল,

—‘তাহলে আমার স্ক্রিপ্ট তুমি লিখবে?’

কাজল বলল,

—‘আমি শুধু কলম ধরিয়ে দেব। লিখতে হবে তোমাকে।’

ভালোই চলছিল তাদের সংসার।

ঠিক তখনই—হঠাৎ করেই শাশুড়ি খুব অসুস্থ হয়ে পড়ল। চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় আনতে হলো।

শাশুড়ি ঢাকায় এসে প্রথম দিকে খুব ভেঙে পড়েছিলেন। মুখের সেই ধারালো কথাগুলোও যেন অসুস্থ শরীরের মতো নরম হয়ে গিয়েছিল। কাজল হাসপাতালের করিডরে দাঁড়িয়ে একবার ভাবল—এই মানুষটা তো একসময় তাকে কত কষ্ট দিয়েছে। তবু আশ্চর্য, কাজলের বুকের ভেতর প্রতিশোধের আগুন উঠল না। উঠল মায়া। কারণ, রোগ মানুষকে ছোট করে দেয়—আর মানুষকে আঘাত করা কাজলের স্বভাব নয়।

কাজল মনপ্রাণ দিয়ে সেবা করল।

ডাক্তার দেখানো, সময়মতো ওষুধ খাওয়নো, রাতে জেগে থাকা—সবই। নীল প্রথমবার দেখল—কাজল শুধু চাকরি করে না, কাজল মানুষও বাঁচায়। দুজন চাকরি করায় ব্যয়বহুল চিকিৎসাটাও ভালোভাবে চলল। ধীরে ধীরে শাশুড়ি একটু সুস্থ হতে লাগলেন।

একদিন রাতে শাশুড়ি কাজলের হাত ধরে বললেন,

—‘মা…আমি তোকে অনেক কষ্ট দিয়েছি।’

কাজল শান্ত গলায় বলল,

—‘কষ্ট তো জীবনে থাকেই, মা। আমি শুধু চাই—আপনি সুস্থ থাকুন।’

শাশুড়ির চোখে পানি এল।

—‘তোমাকে আমি কালো বলে খোঁটা দিয়েছি…অথচ তোমার মনটা এত আলো।’

কাজল হাসল, খুব নরমভাবে—

—‘আলো তো রং দেখে না, মা।’

সেই মুহূর্তে যেন একটা পুরোনো দেয়াল ভেঙে গেল। শাশুড়ি কাজলকে আপন করে নিলেন। নীলও বদলে গেল আরও। সে বুঝতে শিখল—মা আর স্ত্রী দুইজনকেই ভালোবাসা যায়। দুই ভালোবাসা দুই রকম। ভালোবাসা মানে পাশে দাড়ানো।

  • লেখক: আবদুল্লাহ জাহিদ, ব্যবস্থাপক কুইন্স পাবলিক লাইব্রের, নিউইয়র্ক, ঢাকা