যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় বসন্তের রঙে রাঙা বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মেনকাটো শহরে বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশনের আয়োজনে বসন্ত উৎসব ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, মেনকাটোর হেরিটেজ রুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি যেন মুহূর্তেই এক টুকরো বাংলাদেশ হয়ে উঠেছিল।

স্প্রিং সেমিস্টারে আগত নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি উৎসবটি রূপ নেয় প্রবাসী বাঙালিদের এক মিলনমেলায়। দেশীয় খাবার, ঐতিহ্যবাহী পোশাক এবং রঙিন সাজসজ্জায় পুরো আয়োজন ছিল প্রাণবন্ত। অনেকেই শাড়ি, পাঞ্জাবি পরে অংশ নেন। দেশীয় খাবারের পসরা এবং নিজের দেশের মানুষদের উপস্থিত সবার মাঝে বাড়িয়ে দেয় উৎসবের আবহ।

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশনের (বিএসও) সভাপতি এস. এম. আশফাকুর রহমান বলেন, মিনেসোটার দীর্ঘ ও তীব্র শীত বাঙালির উৎসবপ্রিয় মনকে দমাতে পারেনি। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে নতুন প্রজন্মের কাছে নিজেদের শিকড়, ঐতিহ্য এবং বাংলা বর্ষপঞ্জির চর্চা ধরে রাখাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, এই পরিসরে আগে এমন আয়োজন হয়নি এবং আমরা এখানকার বাঙালি কমিউনিটির মানুষদের কাছ থেকে অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি।

সহ-সভাপতি বুশরাত জাহান বলেন, এটি শুধু শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠান নয়, বরং পুরো বাঙালি কমিউনিটির আনন্দোৎসবে পরিণত হয়েছে। বিদেশের মাটিতে নিজেদের সংস্কৃতি ধরে রাখা এবং অন্য সংস্কৃতির মানুষের কাছে বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার একটি প্রয়াস এটি।

সাধারণ সম্পাদক জাওয়াদ উল করিম বলেন, নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য এটি ছিল বন্ধুত্ব গড়ার এবং কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বস্তি দেয় এবং প্রবাস জীবনে পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।

অনুষ্ঠানে আসা অতিথিরা বলেন, প্রবাসে বসন্ত উদযাপন কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং পরিচয় রক্ষার এক নীরব সংগ্রাম। দূরদেশে বসেও নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরার এই প্রয়াস প্রমাণ করে বাংলার বসন্ত ভৌগোলিক সীমারেখায় বন্দি নয়। তবে এমন আয়োজনকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা গেলে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের পরিসর আরও বিস্তৃত হতে পারে। প্রবাসে বসন্তের এই রঙিন আয়োজন আবারও স্মরণ করিয়ে দেয় দেশ থেকে হাজার মাইল দূরেও হৃদয়ে থাকে বাংলার ঋতুর ছোঁয়া।