জেদ্দায় প্রবাসীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে বৃহত্তর নোয়াখালী সমিতির কর্মশালা

সৌদি আরবের জেদ্দায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, আইনি সচেতনতা, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘স্কিল এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রাম’। গত শুক্রবার জেদ্দার একটি অভিজাত হোটেলে বৃহত্তর নোয়াখালী সমিতি, জেদ্দার উদ্যোগে এ বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে প্রবাসী পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, কমিউনিটি নেতা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশগ্রহণ করেন।

প্রবাসজীবনে আত্মোন্নয়ন, কর্মক্ষেত্রে সফলতা, আর্থিক শৃঙ্খলা, শ্রম আইন সম্পর্কে সচেতনতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তা ছিল কর্মশালার মূল আলোচ্য বিষয়।

ব্যক্তিগত ও পেশাগত উন্নয়নে ওমর ফারুক চৌধুরীর দিকনির্দেশনা

কর্মশালায় ব্যক্তিগত ও পেশাগত উন্নয়ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেশন পরিচালনা করেন বৃহত্তর নোয়াখালী সমিতি, জেদ্দার সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী। একজন করপোরেট প্রফেশনাল, শিক্ষা অনুরাগী ও সমাজসেবী ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি প্রবাসীদের কর্মজীবন, ব্যক্তিগত শৃঙ্খলা, যোগাযোগদক্ষতা, করপোরেট স্কিলস ও পারসোনাল ফাইন্যান্স নিয়ে বাস্তবভিত্তিক আলোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রবাসজীবনে শুধু পরিশ্রম করলেই সফলতা আসে না; প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সময়ের মূল্যায়ন এবং পেশাগত দক্ষতার ধারাবাহিক উন্নয়ন। তিনি প্রবাসীদের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য, সঞ্চয়ের অভ্যাস এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]

ডিজিটাল দক্ষতা ও এআই ব্যবহারে আতিকুর রহমান বাপ্পির বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল এআরবি গ্লোবালের সিইও অ্যান্ড ফাউন্ডার, কমিউনিটি এডুকেটর এবং স্মার্ট মোবিলিটি প্রফেশনাল আতিকুর রহমান বাপ্পির সেশন। তিনি ‘ডিজিটাল স্কিলস ফর আ স্মার্টার ফিউচার’ শীর্ষক আলোচনায় দেখান কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে দৈনন্দিন ও পেশাগত কাজ সহজ, দ্রুত এবং আরও কার্যকর করা যায়। তিনি অংশগ্রহণকারীদের সামনে এআই ব্যবহার করে সিভি রাইটিং, প্রফেশনাল ই–মেইল রাইটিং, রিপোর্টিং, ডেটা অ্যানালাইসিস, প্রেজেন্টেশন মেকিং এবং ইমেজ জেনারেশনের বাস্তব উদাহরণ উপস্থাপন করেন। বিশেষ করে প্রবাসী কর্মজীবী ও তরুণদের জন্য ডিজিটাল স্কিলস শেখার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক কর্মবাজারে যারা প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে, তারাই ভবিষ্যতে এগিয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, এআই মানুষের কাজ কেড়ে নেওয়ার বিষয় নয়; বরং সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে এটি মানুষের দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও পেশাগত সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

সৌদি শ্রম আইন ও কর্মক্ষেত্রের অধিকার নিয়ে লতিফা মোমেনার আলোচনা

কর্মশালায় সৌদি আরবের শ্রম আইন, কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের অধিকার, পেশাগত দায়িত্ব এবং আইনি সচেতনতা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন সিনিয়র এইচআর কনসালট্যান্ট লতিফা মোমেনা। তিনি প্রবাসীদের জন্য কর্মচুক্তি, কর্মক্ষেত্রের আচরণ, শ্রম আইন মেনে চলা এবং আইনি জটিলতা এড়ানোর বিষয়ে বাস্তবসম্মত পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, প্রবাসীদের উচিত নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে দায়িত্বশীল, পেশাদার ও আইন মেনে চলা কর্মী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা।

ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি ও কর্মক্ষেত্র নিয়ে রেফাতুল ইসলামের সেশন

এআই ম্যানেজার ও ইঞ্জিনিয়ার রেফাতুল ইসলাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক কর্মবাজারে প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে তথ্যবহুল বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, আগামী দিনের কর্মক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত জ্ঞান শুধু অতিরিক্ত যোগ্যতা নয়, বরং প্রয়োজনীয় দক্ষতায় পরিণত হবে।

স্বাস্থ্যসচেতনতা ও মানসিক সুস্থতায় ডা. তানিয়া রহমানের পরামর্শ

প্রবাসজীবনের ব্যস্ততা, মানসিক চাপ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতন থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ডা. তানিয়া রহমান। তিনি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, মানসিক সুস্থতা, কাজ ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন।

সুশৃঙ্খল সঞ্চালনায় প্রাণবন্ত আয়োজন

বৃহত্তর নোয়াখালী সমিতি, জেদ্দার সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ জাকির হোসেন এবং সাংবাদিক বাহার উদ্দিন বকুল।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউসুফ খান, প্রফেসর নজরুল ইসলাম, প্রফেসর আকবর আলী, প্রফেসর আবদুল মান্নান, কেফায়াত উল্লাহ চৌধুরী, মশিউর রহমান সাজু, ডাক্তার আজাদ, আলভী হাসান, আনোয়ার হোসেনসহ কমিউনিটির সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ ও পেশাজীবীরা।

আয়োজকদের প্রত্যাশা

আয়োজকেরা জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা, আইনি সচেতনতা বৃদ্ধি ও কর্মজীবনে সফলতার পথ দেখানোই ছিল এ কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য।

অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা এ ধরনের আয়োজনকে সময়োপযোগী, প্রয়োজনীয় ও অনুপ্রেরণামূলক বলে মন্তব্য করেন। তাঁরা বলেন, প্রবাসীদের জন্য পেশাগত দক্ষতা, ডিজিটাল জ্ঞান, আর্থিক পরিকল্পনা এবং আইনি সচেতনতা এখন অত্যন্ত জরুরি।