বিরহের ভালোবাসা
তোমাকে নিয়ে কবিতা লিখতে বসেছিলাম,
কিন্তু শব্দগুলো তোমার কাছেই আটকে আছে—
সেই কত বছর ধরে।
মানুষ বলে, একসঙ্গে থাকাই নাকি ভালোবাসা।
আমি তো দেখি, তোমার বিরহেই আমি তোমাকে বেশি ভালোবাসি।
আমি কি তোমাকে কখনো চেয়েছিলাম!
নাহ মনে হয়।
তোমাকে কখনো আজীবন পাশে পেতে চাইনি, চাইনি রাতের মোনাজাতে,
এমনকি তোমার কাছেও তোমাকে চাইনি।
আমি শুধু তোমার প্রেমে পড়েছি কিংবা পড়তে চেয়েছি,
একবার নয়, বারবার, ঠিক প্রথমবারের মতো।
তোমাকে ফিরে পাওয়ার জন্য নয়,
তোমাকে ভুলে যাওয়ার জন্য তো নয়ই,
আমি তোমার প্রেমে পড়ার জন্যই
কেবল তোমাকে ভালোবাসি।
কারণ প্রেমে পড়ার মতো কাব্যিক আর কিছু
এই আলো-বাতাসে, এই জলে, এই পৃথিবীতে আছে কি না,
আমার তা জানা নেই।
তাই তো তোমার প্রতি আমার কোনো অভিমান নেই,
কোনো অভিশাপ নেই,
এমনকি কোনো শেষ কথাও নেই।
কারণ আমি তোমাকে ভালোবেসেছি
ছোটবেলার সেই মফস্সলকে ভালোবাসার মতো।
ঠিক যেমন মানুষ বহু বছর পরও
বেড়ে ওঠা মফস্সলের অলিগলি, বিকেলের সূর্যাস্ত থেকে ভোরের শিশির
কিংবা ভাঙা বাসস্ট্যান্ডকে
কোনো অভিযোগ ছাড়াই ভালোবেসে যায়, ঠিক তেমন!
তোমাকে আমি এই জীবনে প্রথম দেখেছি,
অথচ ভালোবেসেছি কোনো মহাকালের শুরু থেকে।
হয়তো তখনো পৃথিবীতে আমাদের কোনো নাম ছিল না,
তবু নক্ষত্রের আলোয় তোমাকে চেনার স্মৃতি রয়ে গেছে আমার মন এবং মগজে।
আমার মনে হয়—আমরা পাশাপাশি ছিলাম, এই মহাকাশের ওপারে।
তাই এই জীবনে তোমার বিরহও আমার এত চেনা লাগে।
হয়তো পাশাপাশি থাকায় ভালোবাসা পূর্ণতা পায়,
কিন্তু বিরহে ভালোবাসা খুঁজে পায় গভীরতা।
না পাওয়ার হাহাকারই তো ভালোবাসার সবচেয়ে নির্মম,
অথচ সবচেয়ে সুন্দর-সত্য রূপ।
নুসরাত আহমেদ আশা
সফটওয়্যার কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স ইঞ্জিনিয়ার
কার্ল জাইস ডিজিটাল ইনোভেশন জিএমবিএইচ
মিউনিখ, জার্মানি
১৬/০৭/২০২৬
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]