মাদ্রিদের বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদে স্পেনিশ পেশাজীবী ও ধর্মীয় নেতাদের সম্মানে ইফতার
মুসলিমদের পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে মাদ্রিদের বাংলাদেশি–অধ্যুষিত বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদে স্পেনের বিভিন্ন পেশাজীবী, রাজনীতিবিদ, আইনজীবী ও বিভিন্ন ধর্মীয় নেতাদের সম্মানে এক ব্যতিক্রমধর্মী ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মসজিদ কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম মজুমদারের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল ইসলামিক সংস্কৃতি, সৌন্দর্য ও সহনশীলতার বার্তা স্পেনিশ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সামনে তুলে ধরা এবং ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের মসজিদে পৌঁছানোর পর উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে অতিথিদের স্বাগত জানান সভাপতি খোরশেদ আলম মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক আল আমিন মিয়া। তাঁরা অতিথিদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, রমজান কেবল সংযম ও আত্মশুদ্ধির মাসই নয়, এটি মানবিকতা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার এক বিশেষ সময়।
ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দেন ভালিয়ান্তে বাংলার সভাপতি ফজলে এলাহী এবং মসজিদ কমিটির উপদেষ্টা আবুল কালাম সেলিম। বক্তারা বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত মুসলিম কমিউনিটির অন্যতম দায়িত্ব হলো ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধকে সমাজের সামনে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা। তাঁরা আরও উল্লেখ করেন, এমন আন্তধর্মীয় ও আন্তসাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভুল ধারণা দূর হয় এবং পারস্পরিক সম্মান ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্পেনিশ অতিথিদের কাছে রমজানের তাৎপর্য, ইফতারের গুরুত্ব এবং ইসলামের মানবিক ও শান্তিপূর্ণ মূল্যবোধ সম্পর্কে সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা হয়। অতিথিরা মসজিদ পরিদর্শন করেন এবং মুসলিমদের ধর্মীয় অনুশীলন সম্পর্কে জানার সুযোগ পান। অনেক অতিথি এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের আয়োজন বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে সংলাপ ও বোঝাপড়া বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পরবর্তী সময়ে সবাই একসঙ্গে ইফতারে অংশ নেন। এ সময় বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাবার পরিবেশন করা হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল আন্তরিকতা, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের এক সুন্দর মিলনমেলা।
ইফতার মাহফিলে মাদ্রিদে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে স্পেনের সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।