এরপর বেলা একটায় বিদায়ী সভাপতি মোস্তফা আবদুল্লাহ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন এবং নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচনের জন্য গঠিত স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের কাছে দায়িত্ব অর্পণ করেন।

নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছিল সভা প্রাঙ্গণে। সিডনিতে এমন একটি নির্বাচনের আমেজকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রাক্তন ঢাবিয়ানদের মধ্যে একটি মিলনমেলার আবহও গড়ে ওঠে। বিদায়ী কমিটি বহু বছর ধরে সংগঠনটি পরিচালনা করে আসছিল। তবে নতুনত্বকে স্বাগত জানাতে নির্বাচনকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরেই উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল সিডনির ঢাবিয়ানদের মধ্যে। সংগঠনের প্রায় তিন শতাধিক ভোটারের মধ্যে প্রায় দুই শতাধিক ভোট প্রদানে অংশগ্রহণ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়ার নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনে কয়েক ভাগে প্রার্থিতা দেওয়া হয়। কামরুল মান্নান আকাশ ও মাহমুদুল হক বাদলের নেতৃত্বে আকাশ-বাদল পরিষদ, আনিস মজুমদার ও লায়লা আরজুমানের সমন্বয়ে একটি দল এবং স্বত্রন্ত্রভাবে কয়েকজন নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচনী ফলাফলে আকাশ-বাদল পরিষদের ১৯ জনের মধ্যে ১৫ জন্যই জয় লাভ করেন। জয়ী পরিষদটি নির্বাচনী পরিকল্পনার শুরু থেকেই ‘পরিবর্তন চাই, গতি চাই’ স্লোগান নিয়ে নির্বাচনে এসেছিল। নবনির্বাচিত কমিটির কামরুল মান্নান আকাশ ১৫৯ ভোট এবং মাহমুদুল হক বাদল ১২৭ ভোট পেয়ে যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচনী পরিবেশের সুষ্ঠতা ও সার্বিক দিক নিয়ে বিদায়ী সভাপতি মোস্তফা আবদুল্লাহ বলেন, ‘নতুন নির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমাদের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় সংগঠনটি এখন একটি গতিশীল এবং দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। আশা করব এবং শুভ কামনা থাকবে, নবনির্বাচিত এই কমিটি উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রাখবে এবং সামনে খুব জাঁকজমক কর্মকাণ্ডের প্রত্যাশা রাখছি।’ অন্যদিকে উপস্থিত অনেকেই এ সংগঠনে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সরাসরি পড়াশোনা করেছেন, এমন ব্যক্তিদের সদস্য করার আহ্বান জানিয়েছেন।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্যারাম্যাটার মাইগ্র্যান্ট রিসার্চ সেন্টারের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী, নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক, অস্ট্রেলিয়ান ট্যাক্সেশন অফিসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রওশন জাহান পারভিন প্রমুখ।