টি-টুয়েন্টি এখন ভোটের মাঠে

প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাচ্ছে না। সুতরাং এবার আমাদের বিশ্বকাপ খেলা হবে না। এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। কী মন্তব্য করব, ভেবে পাচ্ছি না। আমার এ বিষয়ে জ্ঞানের অভাব রয়েছে। কারণ, প্রিয় এই খেলা কখন মন থেকে মুছে গেছে, টেরই পাইনি। একসময় পাঁচ দিনের টেস্ট খেলা দেখতে টিভির সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতাম! কী কারণে খেলাটা দেখি না, তা সঠিক করে বলা মুশকিল। হয়তো আমার ব্যস্ততা বা অন্য কিছু।

টি–টুয়েন্টি থেকেও উত্তেজনাময় ভোটের খেলার জন্য আমি মুখিয়ে আছি। মাঠে পুরোনো মুখ, কিন্তু নতুন উত্তেজনা। এ কেমন খেলা হবে, তা–ও জানি না। বিদেশে থাকার কারণে মাঠের উত্তেজনা ভাবটা ঠিকভাবে হৃদয়ঙ্গম হচ্ছে না। আমার বন্ধু বাবলু খুব বুঝেশুনে এবার ভোট দেওয়ার জন্য আমাকে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে এবং নানা রকম ভিডিও পাঠিয়ে কোথায় ভোট দিলে ভালো হবে, তা বোঝানোর চেষ্টা করছে। এখানে বলে রাখা ভালো যে লন্ডনে বসে এবারই প্রথম বাংলাদেশে ভোট প্রদানের সুযোগ পেলাম। ভাগনে বিজয় ধানের শীষে সিল মারার জন্য আমার একটা ফেসবুক পোস্টে কমেন্ট করে লিখেছে, ‘কাকু, ধানের শীষে ভোটটা দিস।’

এসব কারণে ভোটের মাঠ কেমন হবে, তা আন্দাজ করতে অসুবিধা হচ্ছে না। আমি একজন আশাবাদী মানুষ। আমার আশা, বাংলাদেশে একদিন সুশাসন আসবে। কিন্তু কবে আসবে, তা অনুমান করা কঠিন। আমি মনে করি, প্রথমে আমাদের বদলাতে হবে, তারপর দেশ বদলাবে। নিজেকে বদলানোর একমাত্র হাতিয়ার হলো শিক্ষা। সঠিক মতাদর্শ হৃদয়ে ধারণের জন্য শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এখনো আমরা দলের ঊর্ধ্বে উঠতে পারিনি। আমরা নিজেদের অধিকার বুঝি না। আমরা দলকানা। এ কারণে আমরা বারবার দুঃশাসন ভোগ করেছি, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মও তা ভোগ করবে। সবকিছু পুরোনো আদলে অগ্রসর হচ্ছে। নেতাদের বড় বড় নির্বাচনী বুলি, অন্যকে দোষারোপের রাজনীতি। সবকিছুই রাজনীতির পুরোনো কৌশল। রাজনীতির বাণীগুলো কবে পরিবর্তন হবে! ভূরাজনীতি নিত্য কৌশল পাল্টিয়ে নতুন রূপ ধারণ করছে। বিশ্বনেতারা নিজের দেশের স্বার্থরক্ষায় ব্যস্ত। সে জায়গায় আমাদের নেতারা নিজ দেশের কথা ভাবেন না, নিজেদের আখের গোছানোর কথা ভাবেন। কীভাবে বোকা জনগণকে ঠকিয়ে বিদেশের ব্যাংকে নিজেদের টাকা পাচার করবেন, সে কাজে ব্যস্ত। সে দেশের মানুষ কখন বুঝবে যে তারা নির্যাতিত হচ্ছে শাসক দ্বারা। আমার কিছুই বুঝে আসে না। তবু আমি আশাহত হই না। আমি স্বপ্ন দেখি, বাংলাদেশে একদিন মুক্তির গান বাজবে। একদিন মানুষ মানুষকে আর ছোট করে দেখবে না। সবাই গোলাপের ঘ্রাণ নেবে। সেদিন বাংলাদেশের মানুষকে আর কোনো রাজনৈতিক নেতা পয়সা দিয়ে কিনতে পারবেন না।

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]