দেশ থেকে দূর পরবাসে: তবু দেশি আমেজে কানাডায় বাংলাদেশিদের ঈদমেলা
পবিত্র রমজান মাসের শেষ প্রহর ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে কানাডাজুড়ে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শুরু হয়েছে ঈদের আমেজ। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বিভিন্ন শহরে আয়োজন করা হচ্ছে বাংলাদেশিদের ঈদমেলা। প্রবাসে থেকেও দেশীয় সংস্কৃতি ধরে রাখতে এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এসব মেলা এখন বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হয়ে উঠেছে।
কানাডার বিভিন্ন প্রদেশে বর্তমানে কয়েক লাখ বাংলাদেশি স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে থাকলেও তাঁদের অনেকেই চেষ্টা করেন বাংলাদেশি ঐতিহ্য অনুযায়ী ঈদ উদ্যাপন করতে। ঈদের অন্যতম আকর্ষণ নতুন পোশাক। তবে কানাডার মূলধারার পোশাকের দোকানগুলোতে সাধারণত বাংলাদেশি স্টাইলের পাঞ্জাবি, শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ পাওয়া যায় না। সেই অভাব পূরণ করছে এসব ঈদমেলা।
এই মেলাগুলোকে ঘিরে অনেক প্রবাসী মৌসুমি ব্যবসার সুযোগও পাচ্ছেন। কেউ বাংলাদেশ থেকে নিজে নিয়ে আসছেন জামাকাপড়, আবার কেউ কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ঈদের আগে দেশে তৈরি পোশাক এনে বিক্রি করছেন। অনেকেই বাংলাদেশের পরিচিত ব্র্যান্ডের পোশাক সংগ্রহ করে এনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে বিক্রি করছেন। ক্রেতারাও দেশীয় ব্র্যান্ডের পোশাক পেয়ে আগ্রহের সঙ্গে সেগুলো কিনছেন।
সাধারণত কয়েকজন বিক্রেতা মিলে একটি হলরুম এক বা দুই দিনের জন্য ভাড়া নিয়ে সেখানে তাঁদের পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করেন। এতে একদিকে যেমন ব্যবসা হয়, অন্যদিকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা একত্র হয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ পান।
র পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]
এ ধরনের একটি ঈদমেলা অনুষ্ঠিত হয় কানাডার ম্যানিটোবা প্রদেশের উইনিপেগ শহরে গত ১৪ মার্চ, শনিবার। মেলায় বিভিন্ন বিক্রেতা তাঁদের স্টল সাজিয়ে বসেন। সেখানে ছিল বাংলাদেশি শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, পায়জামা-পাঞ্জাবি, জুতা, টুপি, আতর, দেশীয় প্রসাধনী সামগ্রী এমনকি মেহেদিও। বাদ যায়নি লুঙ্গি কিংবা ছোট শিশুদের জন্য দেশি স্টাইলের পোশাক।
রমজানের কারণে অনেক বিক্রেতা মেলায় দেশীয় ইফতারের আইটেমও নিয়ে আসেন। ছোলা, বুট, বেগুনি, পেঁয়াজু, জিলাপি, হালিমসহ নানা ধরনের খাবার পাওয়া যায় সেখানে। ইফতারের সময় ঘনিয়ে এলে অনেকেই মেলার ভেতরেই এসব খাবার কিনে খেয়ে নেন।
ক্রেতারা যেমন খুশি দেশীয় পোশাক ও খাবার পেয়ে, তেমনি বিক্রেতারাও সন্তুষ্ট ঈদের আগে তাঁদের পণ্য বিক্রি করতে পেরে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকে বলেন, কয়েক বছর আগেও কানাডায় বসে ঈদের আগে পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ বা লুঙ্গি কেনা ছিল অনেকটাই কঠিন। তখন তাঁদের নির্ভর করতে হতো পার্শ্ববর্তী দেশের দোকান কিংবা অল্পসংখ্যক ঈদমেলার ওপর। কিন্তু গত কয়েক বছরে কানাডায় বাংলাদেশি কমিউনিটি দ্রুত বাড়ায় এ ধরনের আয়োজনও বেড়েছে।
ফলে এখন প্রবাসেই দেশীয় পরিবেশে ঈদের কেনাকাটা করার সুযোগ পাচ্ছেন অনেকেই। নতুন পোশাক কেনা, দেশি খাবারের স্বাদ নেওয়া এবং পরিচিত মানুষের সঙ্গে দেখা হওয়ার মাধ্যমে এসব ঈদমেলা প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে ঈদের আনন্দকে আরও কাছাকাছি এনে দিচ্ছে।