ব্রতর অপমৃত্যু, বৃত্তির খাঁচা: পেডাগজির সংকট, আর্থসামাজিক অবহেলা ও নতজানু আত্মমর্যাদা
প্রাচ্যের এক সুপরিচিত নীতিগল্পে এক অনন্য শিক্ষকের কথা আমরা অনেকেই জানি। গ্রামীণ এক পাঠশালায় যখন স্বয়ং রাজার আগমনবার্তা পৌঁছাল। সবাই ব্যতিব্যস্ত হয়ে তোড়জোড় শুরু করলেও পাঠশালার পণ্ডিতমশাই রাজদূতকে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, মহারাজের এখানে পদার্পণ না করাই শ্রেয়। ক্ষুব্ধ ও বিস্মিত রাজা কৌতূহল সংবরণ করতে না পেরে সাধারণ ছদ্মবেশে সেই পাঠশালায় হাজির হলেন। রাজকীয় আড়ম্বরহীন কুটিরে শিশুদের চোখে জ্ঞানের যে দীপ্তি রাজা দেখলেন, তাতে তিনি মুগ্ধ হলেন। একান্তে তিনি শিক্ষককে প্রশ্ন করলেন, ‘শুনেছি আপনি মহারাজকেও পাত্তা দেন না, তাঁকে আসতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু কেন?’
শিক্ষক শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে উত্তর দিয়েছিলেন, ‘এই পাঠশালার সীমানায় এই শিশুদের কাছে আমিই রাজা, আমিই প্রজা। ওরা আমার দিকে তাকিয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচতে শেখে, আত্মমর্যাদার পাঠ নেয়। মহারাজ এলে রাজভয়ে বা শিষ্টাচারে যদি আমি তাঁর সামনে মস্তক অবনত করি, তবে আমার আজীবনের দেওয়া পাঠ এক লহমায় অর্থহীন হয়ে যাবে। শিশুরা ভাববে, তাদের যে শিক্ষককে তারা অজেয় ভেবেছিল, তিনিও ক্ষমতার কাছে নতজানু। ওদের মেরুদণ্ড ভাঙার দায় আমি নিতে পারব না।’
কাজী কাদের নেওয়াজের ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ কবিতায়ও আমরা একই আত্মমর্যাদাবোধের প্রকাশ দেখি। দিল্লির অধিপতি বাদশাহ আলমগীর নিজের সন্তানকে শিক্ষকের চরণে পানি ঢালতে দেখে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন এই কারণে যে শাহজাদা কেন নিজ হাতে শিক্ষকের পা ধুয়ে দিল না। শাসকের সামনে দাঁড়িয়ে প্রথমে শঙ্কিত হলেও শিক্ষক মুহূর্তেই উপলব্ধি করেছিলেন তাঁর নৈতিক অবস্থান পার্থিব রাজদণ্ডের চেয়েও ওপরে। সেদিন শিক্ষক নির্ভীক কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘উচ্চ সে নহে কোনো অংশে তাঁর চেয়ে।’
কিন্তু আজকের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে এই উপাখ্যানগুলোকে রূপকথার মতো দূরবর্তী মনে হয়। সেই শিক্ষক, সেই শাসক এবং সেই সামাজিক ভিত্তি—তিনটিই আজ রূপান্তরের নামে এক গভীর সংকটে নিমজ্জিত।
শৈশবে আমার এক শিক্ষকের মুখে প্রায়ই একটি কথা শোনা যেত—‘শিক্ষক’ মানে হলো, শিখ+হক। শব্দটির অন্তর্নিহিত দাবি হলো শিক্ষার্থীদের ‘হক’ বা সত্য ও ন্যায়ের পথ চেনানো, আর নিজে সেই হক পথে অবিচল থাকা। জীবনের প্রথম আদর্শ বা জীবনের প্রথম ‘নায়ক’ ছিলেন সেই ছেলেবেলার শিক্ষক। তাঁদের জৌলুশ ছিল না, অর্থবিত্তের প্রাচুর্য ছিল না; কিন্তু সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ, কৃষক থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদ তাঁদের সামনে দাঁড়িয়ে সশ্রদ্ধ চিত্তে কথা বলতেন। শিক্ষকতা তখন জীবিকার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছিল এক আত্মিক ‘ব্রত’। সমাজ গড়ার কারিগরদের জীবনেই একমাত্র অভিপ্রায় যেন ছিল, আধারে আলো ফোটানো।
আমরা কি শিক্ষার্থীদের মাথা উঁচু করে বাঁচতে শেখাই, অথচ নিজের স্বার্থে নিজের মাথা নত করি না?
কালক্রমে সেই ‘ব্রত’ নিছক একটি সাধারণ ‘বৃত্তি’ বা চাকরিতে পর্যবসিত হয়েছে। তার চেয়েও বড় সংকট হলো, বহু ক্ষেত্রে শিক্ষকতা আজ পরিণত হয়েছে ‘শেষ আশ্রয়ে’। অন্যান্য পেশায় সুযোগ না পেয়ে নিরুপায় হয়ে যাঁরা শিক্ষকতায় আসছেন, তাঁদের অনেকের কাছেই পেশাগত দর্শনের চেয়ে চাকরি টিকিয়ে রাখা বা ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা আদায় করাই মুখ্য হয়ে উঠছে। ফলে যে আত্মনিবেদন ও নৈতিক দায়বদ্ধতা এই পেশার মূল শর্ত ছিল, তা ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই নৈতিক ক্ষয়ের পেছনে শুধু ব্যক্তির দায় দেখলে তা হবে একপেশে বিচার। এর পেছনে রয়েছে গভীর কাঠামোগত ও আর্থসামাজিক বাস্তবতা।
বাংলাদেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের বেতন কাঠামো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম নিম্নমানের। একজন শিক্ষক যখন মাস শেষে পরিবারের ন্যূনতম ভরণপোষণ জোগাতে হিমশিম খান, তখন তাঁর পক্ষে সামাজিক মর্যাদা রক্ষা করে চলা কঠিন হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত আয়ের জন্য প্রাইভেট টিউশনি বা কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হওয়া কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নীতি ও অর্থনৈতিক অবহেলার সরাসরি ফল। যে রাষ্ট্র শিক্ষককে সম্মানজনক জীবনযাপনের ন্যূনতম নিশ্চয়তা দিতে পারে না, সেই রাষ্ট্র শ্রেণিকক্ষে একজন আপসহীন শিক্ষক প্রত্যাশা করার নৈতিক অধিকার কতটা রাখে, সে প্রশ্ন তোলা জরুরি।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পেডাগজি বা শিক্ষণবিজ্ঞানের স্থবিরতা। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় পেডাগজি এখনো মূলত মুখস্থবিদ্যা ও সিলেবাস শেষ করার আনুষ্ঠানিকতায় বন্দী। শিক্ষার্থীর মনস্তত্ত্ব, তাদের কৌতূহল, দ্বিধা, ভীতি কিংবা আত্মমর্যাদার বিকাশ বোঝার মতো কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি শিক্ষকদের থাকে না। ফলে শিক্ষাদানের প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়ায় একমুখী ও শাসনকেন্দ্রিক। আরও ভয়াবহ সংকট তৈরি করেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সংকীর্ণ রাজনীতির অনুপ্রবেশ। কেবল আনুগত্য যখন শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির একমাত্র মাপকাঠি হয়ে ওঠে, তখন মেধা ও সততা কোণঠাসা হতে বাধ্য। কিছু শিক্ষকের অসদুপায় অবলম্বন, আর্থিক দুর্নীতি, নৈতিক স্খলন ও ক্ষমতাবানদের অন্যায় কাজের বৈধতা দেওয়ার প্রবণতা আজ শিক্ষক সমাজকে সামাজিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
শিক্ষার্থী মনস্তত্ত্ব কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়; তা চারপাশের নৈতিক পরিবেশকে প্রতিফলিত করে। শিশুরা শুধু শিক্ষক কী বলেন তা শেখে না; শিক্ষক কী করেন, সেটিও শেখে। দার্শনিক ও শিক্ষাবিজ্ঞানী বান্দুরার ‘সামাজিক শিখনতত্ত্ব’ আমাদের বহু আগেই দেখিয়েছে, পর্যবেক্ষণ ও অনুকরণের মাধ্যমে মানুষের আচরণ গড়ে ওঠে। শিক্ষক তাই অনিচ্ছাকৃতভাবেও একজন শিশুর ‘রোল মডেল’ হয়ে ওঠেন। শিক্ষক সততার কথা বলে নিজে অসততা করলে তাঁর বক্তৃতা নয়, তাঁর আচরণই শিক্ষার্থীর কাছে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আবার শিক্ষার্থীরা যখন দেখে তাদের শিক্ষক সত্যের ধারক নন, বরং ক্ষমতার সুবিধাভোগী বা আপসকামী, তখন তাদের অবচেতন মন থেকে শিক্ষকের প্রতি স্বাভাবিক শ্রদ্ধা মুছে যায়। সেই শূন্যস্থান পূরণ করে একধরনের কৃত্রিম ভয় অথবা সুযোগসন্ধানী ঔদ্ধত্য। সাম্প্রতিক সময়ে অভিভাবক কিংবা খোদ শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষকদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত বা অপমানিত হওয়ার যেসব মর্মান্তিক চিত্র আমরা গণমাধ্যমে দেখি, তা কোনো আকস্মিক বিশৃঙ্খলা নয়। এটি শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যকার ঐতিহাসিক ও আত্মিক সম্পর্কের দীর্ঘদিনের ভাঙনের বহিঃপ্রকাশ। যে শিক্ষক নিজেই নিজের মেরুদণ্ড বিসর্জন দিয়ে ক্ষমতার দরবারে হাত পেতেছেন, তাঁর সামনে ছাত্রের নৈতিক অবাধ্যতা প্রতিরোধ করার মতো আত্মিক শক্তি আর অবশিষ্ট থাকে না। অন্যদিকে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা নিরপরাধ শিক্ষকদেরও এই সামাজিক নৈরাজ্যের শিকার হতে হচ্ছে, যা পুরো পেশার জন্যই চরম ট্র্যাজেডি।
এই গভীর সংকট থেকে উত্তরণ কোনো চটকদার সংস্কারে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন দ্বিবিধ রূপান্তর, আর তা হতে হবে কাঠামোগত ও আত্মিক। কেননা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, শিক্ষকও মানুষ। তাঁর পরিবার আছে, সন্তান আছে, বাড়িভাড়া আছে, চিকিৎসার খরচ আছে, ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আছে। তাই আমরা যদি শিক্ষকের কাছে আত্মত্যাগ আশা করি, কিন্তু তাঁকে ন্যায্য পারিশ্রমিক, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, পেশাগত স্বাধীনতা ও উন্নতির সুযোগ না দিই, তাহলে কেবল নৈতিকতার বক্তৃতা দিয়ে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না।
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]
গবেষণাও দেখায়, শিক্ষকের কাজের প্রতি প্রেষণা (মোটিভেশন), স্বকীয়তা, পেশাগত নৈপুণ্য এবং কর্মপরিবেশ তাঁর সুস্থতা ও শিক্ষার্থীবান্ধব আচরণের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এখানেই আবার শিক্ষকের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার প্রশ্নটি ফিরে আসে। অর্থনৈতিক সংকট অনৈতিকতার ব্যাখ্যা হতে পারে; অজুহাত নয়। একজন শিক্ষক হয়তো অর্থের বিচারে দরিদ্র হতে পারেন, কিন্তু অসৎ হওয়া তাঁর পেশাগত অধিকার নয়। তিনি ক্ষমতার প্রশ্নে দুর্বল হতে পারেন, কিন্তু অন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো তাঁর দায়িত্ব নয়। তিনি বঞ্চিত হতে পারেন, কিন্তু শিক্ষার্থীর মর্যাদা নষ্ট করার অধিকার তাঁর নেই।
তাহলে করণীয় কী
প্রথমত, শিক্ষকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সামাজিক পদমর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রথম অগ্রাধিকার হতে হবে। আলাদা ও সম্মানজনক বেতন কাঠামো প্রণয়ন ছাড়া মেধাবীদের এই পেশায় স্থায়ীভাবে ধরে রাখা এবং কোচিং-নির্ভরতা বন্ধ করা অসম্ভব। কেবল নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এ সমস্যা মোকাবিলা করা যাবে না। নীতিনির্ধারকদের শ্রেণিকক্ষের মান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, কর্মঘণ্টা, কাজের চাপ, বেতন ও পেশাগত পরিবেশ সবকিছুকে একসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, শিক্ষকদের নৈতিক ও পেশাগত জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষককে সম্মান করতে হবে, কিন্তু ‘শিক্ষক’ পরিচয়কে কোনো ধরনের অনৈতিকতার ঢাল হতে দেওয়া যাবে না। যোগ্যতা, নিয়োগ, বেতন, পদোন্নতি ও পেশাগত উন্নয়ন, সবকিছুকে আধিপত্য প্রভাবের বাইরে এনে পেশাগত মানদণ্ডের ওপর দাঁড় করাতে হবে। অপরদিকে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে গতানুগতিক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে শিশু মনস্তত্ত্ব, যোগাযোগদক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রয়োগকে বাধ্যতামূলক করতে হবে।
তৃতীয়ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, শিক্ষকদের নিজেদের ভেতরে পেশাগত মর্যাদাবোধের পুনরুজ্জীবন ঘটাতে হবে। শিক্ষককে মনে রাখতে হবে, তিনি কোনো শাসনযন্ত্রের পদলেহী আমলা নন; তিনি মুক্তচিন্তার নির্মাতা। শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করার মুহূর্তে পার্থিব সব ভয় ও লোভের ঊর্ধ্বে উঠে দাঁড়ানোর সাহস না থাকলে শিক্ষক হওয়া যায় না। কেবল শিক্ষার্থীকে নয়, শিক্ষকের নিজেকেও প্রশ্ন করতে হবে, আমরা কি সত্যিই শিক্ষার্থীদের এমন জীবন শেখাচ্ছি, যে জীবন আমরা নিজেরা যাপন করি? আমরা কি সততার কথা বলি, অথচ সুবিধামতো অসততার সঙ্গে আপস করি না? আমরা কি অন্যায়ের প্রতিবাদ শেখাই, অথচ ক্ষমতাবানের অন্যায়ের সামনে নীরব থাকি না? আমরা কি শিক্ষার্থীদের মাথা উঁচু করে বাঁচতে শেখাই, অথচ নিজের স্বার্থে নিজের মাথা নত করি না?
চতুর্থত, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ককে ভয় নয়, আস্থা ও পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষক যেমন সম্মানের দাবিদার, শিক্ষার্থীও তেমনি সম্মানের অধিকারী। একজন শিক্ষক হয়তো প্রতিদিন কয়েকটি অধ্যায় পড়ান। কিন্তু শিক্ষার্থীর মনে তিনি হয়তো আরও বড় একটি বই লিখে যান, নিজের জীবন দিয়ে। সেই বইয়ে কী লেখা থাকবে, সেটিই আসল প্রশ্ন।
যেদিন একজন শিক্ষক ক্ষমতার দম্ভের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের নৈতিক অবস্থানে অবিচল থাকতে পারবেন, এবং রাষ্ট্রও সেই দৃঢ়তাকে ভয়ের চোখে না দেখে স্যালুট জানাতে শিখবে, সেদিনই হয়তো আমরা আবার বাদশাহ আলমগীরের সেই শিক্ষক কিংবা পাঠশালার সেই আত্মমর্যাদাসম্পন্ন পণ্ডিতের দেখা পাব। সমাজ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখবে কেবল তখনই, যখন তার শিক্ষকের মেরুদণ্ড অক্ষত থাকবে।
শেষকথা হলো, আধার কেটে সমাজে আলো ছড়ানোর দায়িত্ব যার, তার নিজের হাতে অন্তত একটি প্রদীপ জ্বালানো থাকা চাই। আমরা শিক্ষকতার মর্যাদা ফিরে পেতে চাই। কিন্তু তার আগে আমাদের নিজেদের কাছে একটি কঠিন প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, আমরা কি সত্যিই শিক্ষক হয়ে উঠেছি?
লেখা: শারীফ অনির্বাণ, শিক্ষক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা, ইজমির, তুরস্ক। [email protected]