সাউথ ক্যারোলাইনায় বাংলা বর্ষবরণ ১৪৩৩ উদ্যাপন
‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’—চিরচেনা এই গানের সুর যেন হঠাৎ করেই ভেসে এলো দূরদেশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের রাজধানী কলম্বিয়ার নীল আকাশে। কোলাহলমুখর শহরের ব্যস্ততা, সময়ের নিরন্তর দৌড় আর প্রবাসজীবনের চাপের মাঝখানে, এক বিকেলে যেন ফিরে এলো চেনা সেই বাংলা—মাটির গন্ধ, আলপনার স্নিগ্ধতা, আর হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা একরাশ স্মৃতি।
সাউথ ক্যারোলাইনার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশি অভিবাসীরা এই আয়োজন করে ১২ এপ্রিল। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলাইনা, কলম্বিয়ায় পিএইচডি গবেষক অরুণাভ দাস এ আয়োজনে অংশগ্রহণকারী। তিনি দৈনিক প্রথম আলোকে বলেন, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে কেদার চন্দ্র দাস ও অপর্ণা দেবনাথের স্নিগ্ধ বাসভবন রূপ নেয় এক টুকরা বাংলাদেশে। প্রবাসের এই ছোট্ট ঘর ভরে ওঠে হাসি, গল্প, কোলাহল আর উষ্ণতায়। সাউথ ক্যারোলাইনায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা এবং ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলাইনার বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা একত্র হয়ে যেন নিজেদের হারিয়ে ফেলা শিকড়কে নতুন করে আবিষ্কার করলেন।
খাবারের টেবিলে সাজানো ছিল শুধু বাঙালি খাবার নয়, ছিল স্মৃতির এক অনুপম সম্ভার। পান্তা-ইলিশের প্রতিটি কণায় যেন ভেসে উঠেছে ফেলে আসা শৈশবের সকাল, ভর্তার স্বাদে মায়ের হাতের স্নেহ, আর মাংস-মিষ্টির গন্ধে উৎসবের দিনের পরিচিত উচ্ছ্বাস। কেউ নীরবে খাবারের মধ্যে ফিরে গেছেন শৈশবের উঠোনে, কেউবা কথার ফাঁকে খুঁজে ফিরেছেন সেই চেনা স্বাদ—যা শুধু দেশে পাওয়া যায়, অথচ আজ যেন এখানে, হাতের নাগালেই।
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]
সবার অংশগ্রহণ এই আয়োজনকে শুধু একটি সামাজিক মিলনমেলায় সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং এটি হয়ে উঠেছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বাঙালি সংস্কৃতি বয়ে নেওয়ার এক সম্মিলিত অঙ্গীকার।
‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’— এই পঙ্ক্তিটি যেন ছিল সবার হৃদয়ে, প্রতিটি মুখের হাসিতে, প্রতিটি চোখের উজ্জ্বলতায়। প্রবাসে বসে এই ভালোবাসা যেন আরও গভীর, আরও নীরব, তবু আরও অটুট।
এই আয়োজন কেবল একটি উৎসব নয়; এটি ছিল ফিরে পাওয়ার এক গল্প। যে মাটিতে দাঁড়িয়ে বড় হওয়া, যে বৈশাখের সকালে নতুন পোশাক পরে বের হওয়া, যে গান শুনে মন ভরে ওঠা— সবকিছুকে আবার নতুন করে, দূরদেশের বসে উদ্যাপন করার এক ক্ষণিক সুযোগ।
আটলান্টিকের এপারেও তাই বৈশাখ আসে—নতুন বছর নিয়ে নয়, শুধু নিয়ে আসে স্মৃতি, ভালোবাসা আর এক অদ্ভুত টান, যা বাঙালিকে বারবার তার শিকড়ে ফিরিয়ে নেয়।