সেভিল, ল্যুভর ও দা ভিঞ্চির ‘সালভেতর মান্দি’

ভাগ্যচক্রে নয়, রীতিমতো পরিকল্পনার ফাঁদে পা দিয়ে একবার ইউরোপের কয়েকটি দেশে যাওয়া হয়েছিল। পুত্র বউমাকে নিয়ে কর্মসূত্রে ইউরোপে গেছে। থাকবে ওরা বেশ কিছুদিন সেখানে। তারপর কাজকর্ম শেষে আপন কুলায় ফিরবে একদিন, এই তাদের পরিকল্পনা।

হীরামানিক্য আনতে নয়, এমন জায়গায় গিয়ে ইউরোপ মহাদেশের যতটা সম্ভব ঘুরে দেখার সুযোগ যেন হেলায় না হারায়, কথাটা মনে করিয়ে দিয়েছি বারবার। নিজের বৃত্তিজীবী ছাত্রজীবনে যৎসামান্য সম্বল করে যতটুকু ঘোরা সম্ভব ঘুরেছি। সব দেখা হয়নি। সাধ হয়েছে, সাধ্যে কুলায়নি। ওরা রোজগেরে মানুষ; ছাত্র তো নয়। খরচ করার মতো সাধ্য আছে ওদের। এখন শুধু দরকার সময় আর চারপাশ ঘুরে দেখার ইচ্ছা। ওদের সঙ্গে প্যারিস, মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, প্রাগ, বুদাপেস্ট, সুইজ্যারল্যান্ডের বরফঢাকা পর্বতমালা ও ইতালির লেক কোমোর মতো সব জায়গায় সশরীর না গিয়েও প্রযুক্তির বদৌলতে বা কল্যাণে সেসব দেখা ও মজার সব কাহিনিতে অংশ নেওয়া হলো। তবে একদিন আমাকে চমকে দিয়ে বাছাধন মাঝরাতে ফোন করে বলল,
—মামনি, এই মাত্র আমরা নিকোলাস টেসলার বিমানবন্দরে নেমেছি; বলো তো এটা কোথায়?
—নিকোলাস টেসলা একজন বিজ্ঞানী, এটুকুই জানি। তাঁর নামে বিমানবন্দর আছে, তা তো জানতাম না।
—এটা হচ্ছে সার্ভিয়ার বেলগ্রেডে। তুমি তো বহুদিন আগে সমাজতান্ত্রিক যুগোস্লাভিয়ার শহর জাগ্রেবে এসেছিলে, তা–ই না?
—গিয়েছিলাম বটে, তবে বিমানবন্দরে নামিনি। ট্রেনস্টেশনে পৌঁছেছিলাম।
—ওই যুগোস্লাভিয়া নামের দেশ ভেঙে এখন অনেকগুলো রাষ্ট্র হয়েছে। তারই একটা সার্বিয়া। এখানে টেসলার জাদুঘর ঘুরে এসে তোমাকে ফোন করব, এখন রাখি।

ফোনটা রেখে একটু ভাবলাম। সেবার ইতালির লেক কোমো থেকে ভিডিও কলে দেখিয়েছিল চাইনিজ জ্যাসমিন বা আমাদের বেলী ফুলের সম্ভার। ওরা যখন ওইখানে, তখন লেক কোমো ম ম করছিল বেলী ফুলের সুবাসে। না গিয়েও হাজার মাইল দূরে বসে সে সুবাস যেন এসে লাগল আমার প্রাণে, অবশ্যই নাকে নয়। দেখেছি আর ভেবেছি, শিল্পী মানুষ দীপিকা পাড়ুকোন কেন লেক কোমোকে নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য বেছে নিয়েছিলেন। অবশ্যই অতিথিদের বেলী ফুলের সুবাসে মাতিয়ে দিতে।
বিজ্ঞানী টেসলাকে বৈদ্যুতিক আলোর কয়েল আবিষ্কর্তা বলে জানি, সার্বিয়া থেকে আলোর পরশ চোখে লাগতে পারে; তবে গন্ধ নয়।

জানা হলো, টেসলার জাদুঘরের অন্ধকার ঘরে দর্শনার্থীরা হ্যালোজেন দণ্ড হাতে সারি দিয়ে ঢোকামাত্র কোথাও যেন অন্ধকার চিড়ে উঁচু স্তম্ভের ওপর আলোকশিখা ঝলসে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে সবার হাতে হ্যালোজেন লাইট জ্বলে ওঠে। বিজ্ঞানী টেসলার এমনি মজার ক্ষমতা।
টেসলার জাদুঘর ঘুরে এসে ছেলে বলল, ‘টেসলা সম্পর্কে অনেক মজার কথা বলার আছে। এত গল্প তোমাকে ফোনে শোনাতে পারব না। আচ্ছা মা, ইউরোপে কোন দেশটা এখনো তোমার খুব দেখতে ইচ্ছা করে বলো তো।’
—বেশি কোথাও নয়, তবে গ্রানাডায় একবার যেতে পারলে হতো।
—ওহ, স্পেনে যেতে চাও! ইউরোপে ইসলামের কীর্তি দেখার ইচ্ছা, তা–ই না? তবে এই ট্যুর প্ল্যান খুব গুছিয়ে তৈরি করতে হবে বুঝলে!

মনে মনে নিজেকে বললাম, ইসলামের কীর্তি তো আছেই; আরও আছে লেখক, কবি ফেদরিকো গার্সিয়া লোরকা, যিনি গ্রানাডার সন্তান, যাঁকে এই গ্রানাডা শহর থেকেই ১৯৩৮ সালে স্পেনের স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট শাসক ফ্রাঙ্কো কোনো চিহ্ন না রেখে লোপাট করে দিয়েছিলেন।

তো এভাবেই প্রায় স্বপ্নের ঘোরে এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশের দেশভ্রমণের ফাঁদে পা দেওয়া হলো।

সময়–সুযোগ মিলিয়ে দুবাই হয়ে মাদ্রিদে পৌঁছানো গেল। যাত্রাপথে দুবাইতে বেশ কিছুটা সময়ের জন্য যাত্রাবিরতি নেওয়া হলো। সেখানে গোসল, ঘুম, বিশ্রামের পর তরতাজা হয়ে আরেক জায়গায় রওনা দেওয়া। সে হচ্ছে মাদ্রিদ। মাদ্রিদ শহরে এক দিন কাটিয়ে এমন এক জায়গায় পৌঁছাব, যার কথা ভাবিইনি। জায়গাটা হচ্ছে স্পেনের আন্দালুসিয়া অঞ্চলের রাজধানী সেভিল, যাকে স্প্যানিশ ভাষায় সেভেইয়া বলে। এই জায়গা থেকে গ্রানাডা বাসে বা ট্রেনে ঘণ্টা তিনেকের রাস্তা। আবার সেই সেভিল বা সেভেইয়া থেকে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বিমানে যেতে লাগে এক ঘণ্টা আর ট্রেনে নাকি লাগবে তিন ঘণ্টা। প্যারিসে তখন সরকারের পেনশন নীতির প্রতিবাদে হট্টগোল, হইহই রইরই চলছে। যাওয়া হবে কি না, তা পড়ল প্রশ্নের মুখে। আমার ইচ্ছা ও আকর্ষণ ট্রেনে যাওয়া। তাহলে পথের দৃশ্যাবলি দেখার অপূর্ব সুযোগ থাকে। পরিস্থিতি বিবেচনায় মনে হলো, তা হওয়ার নয়। ট্রেনের টিকিট বাতিলই করতে হলো, কারণ প্যারিসে পরিবহন ধর্মঘট তুঙ্গে তখন।

ফ্রান্স সরকার পেনশনের বয়স ৬২ থেকে বাড়িয়ে ৬৪ বা ৬৫ করতে চাইছিল তখন, যা বর্তমানে অবশ্য কার্যকর করা হয়েছে। দীর্ঘ লড়াই শেষে সরকারের ইচ্ছাই জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তখন সাফাইকর্মী বা পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বক্তব্য থেকে জানা যায় যে তাঁরা কেন নতুন পেনশন সীমা মানতে রাজি নন। এই কষ্টকর ময়লা ঘাঁটার কাজের কারণে তাঁদের গড় আয়ু অন্য পেশাজীবীদের চেয়ে কম, তাই তাঁরা জীবনে দীর্ঘ সময় ধরে এই কাজ করতে চান না।
যা–ই হোক, ফরাসি সাফাইকর্মীদের আন্দোলন প্যারিসকে আবর্জনার নরকে পরিণত করেছিল, তবু সরকার তাঁদের দাবিকে সহানুভূতির চোখে দেখেনি, একটুও বিবেচনা করেনি।

সময় ও সুযোগ ছিল বলে পরবর্তী যাত্রা নিয়ে ভাবার জন্য গ্রানাডা ঘুরে এসে আবার সেভিলে আরও দুদিন থাকা হলো। গ্রানাডার গল্প আলাদা করে শোনানোর ইচ্ছা। তাই অপূর্ব শহর সেভিলের কথা আজ বলি। এ শহর কমলালেবুর শহর। পত্রমোচী বৃক্ষ নয় এই কমলাগাছ। পাতা ঝরায় না এরা। পাতায় পাতায় পূর্ণ কমলালেবুর গাছ সারা বছর সিভিলকে উষ্ণতা থেকে বাঁচিয়ে শীতল করে রাখে। সেভিলের পথে পথে দুপাশে কমলালেবুর গাছের সারি। গাছের ছায়ায় ছায়ায় ঢাকা রাস্তা। এর ফুল যখন ফোটে, কমলা ফুলের গন্ধে সেভিল শহর মাতোয়ারা হয়। ফলের মৌসুমের পড়ন্ত বেলায় এসেও দেখলাম, অপূর্ব উজ্জল রঙের ফলের সম্ভার। রাস্তার দুপাশের গাছে গাছে থোকা থোকা কমলালেবু ধরে আছে। দুঃখের কথা হলো, এসব কমলালেবু গাছ থেকে পেড়ে তখনই খাওয়া যায় না। কারণ এর স্বাদ থাকে তেতো। স্থানীয় লোকেরা জানান, এসব কমলালেবু ইংল্যান্ডে রপ্তানি করা হয় আর ইংরেজরা তা দিয়ে মার্মালেড তৈরি করেন। স্পেনের সেভিলের তেতো কমলা দিয়ে ইংরেজদের বানানো সুস্বাদু সুইট অরেঞ্জ মার্মালেড পৃথিবীর যেকোনো শহরে বসে কিনে খাওয়া যায়। বোঝার উপায় নেই যে গাছ থেকে পেড়ে এ ফল মুখে দেওয়ার জো নেই।

রোমান সভ্যতার পতনের পর ইসলামের আধিপত্যের সময় আল আন্দালুসের এ শহরের সঙ্গে সঙ্গে মুসলমান শাসকদের নির্মিত আল কাজার প্রসাদ আজও তার সৌন্দর্য আর সৌকর্যের পশরা নিয়ে দর্শকের নয়নকে নন্দিত করে। রোমানদের সভ্যতা খ্রিষ্টের জন্মের ৪২০ বছর আগে লুপ্ত হয়। তারপর ইসলামের উত্থান ও আধিপত্য বিস্তার লাভ করে। ইউরোপের স্পেনের আন্দালুসিয়া অঞ্চল ৭২০ বছর মুসলমানদের শাসনের আওতায় ছিল। এই জায়গায় রোমানদের সময়ে যে একটা স্থাপনা ছিল, তাতেই মুসলমানরা আল কাসর অর্থাৎ প্যালেস বা রাজপ্রাসাদ নির্মাণ করেন। ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, ইউরোপে যে সময়কে মধ্যযুগ বলে অভিহিত করা হয়েছে, সে সময়কেই হাজার বছরের অন্ধকার সময়ও বলা হয়। ইউরোপের অন্ধকার সময়ে মুসলমান শাসন আইবেরিয়ান পেনিনসুলায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিস্তার ঘটায়। গণিত, শল্যচিকিৎসা, জ্যোতির্বিদ্যায় মুসলমানদের অর্জন সে সময় স্পেনের কর্ডোভা শহর ও সেভিলের মাধ্যমে ইউরোপীয়দের কাছে পৌঁছায়। পরবর্তী খ্রিষ্টান রাজন্যরা মুসলমানদের অসামান্য সুন্দর সব নির্মাণ ধ্বংস করেননি বরং নিজস্ব পছন্দনীয় নানা প্রলেপ ও পরিবর্তনের মাধ্যমে সযত্ন রক্ষা করেছেন, আরও উৎকর্ষ সাধন করেছেন। পৃথিবীর এ অঞ্চলে দ্রষ্টব্য হচ্ছে ইসলামধর্মীয় নকশামণ্ডিত তৈরি শৈল্পিক নির্মাণ ও ইউরোপীয় রেনেসাঁর নানা সৃষ্টি। এই সেই প্রাসাদ যেখানে মুসলমান শাসনের অবসানের পরপরই স্পেনের ক্যাস্টিলিয়ান রানি প্রথম ইসাবেলা ও রাজা ফার্দিনান্ডের ফুলশয্যা হয়। এ প্রাসাদ থেকেই রানি ইসাবেলার সনদ ও পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে ইতালীয় বংশোদ্ভূত ক্রিস্টোফার কলম্বাস দেশ আবিষ্কারের নেশায় সমুদ্রে তরণী ভাসান। কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের অভিযান এভাবেই সেভিলের আল কাজার প্রাসাদের এক দরবারকক্ষ থেকে অনুমোদন ও পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে শুরু হয়েছিল। সে দরবারকক্ষে কলম্বাসের জাহাজের ছোট একটি রেপ্লিকা আজও সংরক্ষিত, যা স্প্যানিশদের গৌরব আর সৌর্যকে স্মরণ করায়।

স্পেনের প্রকৃতি কিছুটা রুক্ষ ও শুষ্ক। সে দেশের পাথুরে ও রুক্ষ–শুষ্ক আন্দালুসিয়া থেকে সমুদ্রপথে যাত্রা করে কলম্বাস আমেরিকা খুঁজে পান, যার ফলে আমেরিকার বিরাট অঞ্চলে স্প্যানীয় উপনিবেশ স্থাপিত হয়েছিল। পরদেশ করায়ত্তে এনে যাঁরা উপনিবেশ স্থাপন করেন, তা তাঁদের জন্য শক্তি, ক্ষমতা ও গৌরবের প্রদর্শন আর যাদের বা যে জনগোষ্ঠীকে এ শৃঙ্খলে বাঁধা হয়, তা তাদের কাছে ক্ষমতাশীল ঔপনিবেশিকদের দুর্বৃত্তপনা ছাড়া কিছু নয়। তর্কাতীত বিষয়। দখলদার ঔপনিবেশিকেরা কখনোই যত্ন ও মমতায় উপনিবেশের মানুষের মঙ্গল সাধন করেননি, বরং নির্মম হাতে নিষ্ঠুর পন্থায় লুণ্ঠন করে নিয়ে গেছেন সব সম্পদ।

ভারতীয় উপনিবেশ যখন ইংরেজদের হাতে, তখন ‘India represented one quarter of the world economy when Britain began to conquer it in 1757. And it was we British who impoverished it. So argues Inglorious Empire, a remarkable new book…savagely critical… it demolishes the argument that the British were benign imperialists’ (Matt Ridley, The Time)।
ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের নেতা শশী থারুর Inglorious Empire What the British Did to India ২০১৯ ভারতে আকাদেমি পুরস্কারজয়ী একটি বই। বইয়ে লেখক দেখিয়েছেন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী ঔপনিবেশিক শক্তি কীভাবে কনক-কাঞ্চন লুটেপুটে, ছিঁড়ে–খামচে নিয়ে গেছে ভারতীয় উপনিবেশ থেকে। এই বইয়ের সমালোচক ম্যাট রেডলি টাইম পত্রিকায় লিখেছেন যে ব্রিটিশরা ‘নির্দোষ সাম্রাজ্যবাদী’ ছিল, এমন যুক্তিকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে শশী থারুর এই বই।

তবে যা হোক, কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের শতবর্ষকে স্মরণীয় করতে আন্দালুসিয়ার রাজধানী সেভিলে লা স্পানার নির্মাণ সত্যিই চমৎকার। অপূর্ব এক স্থাপনা। দুই দিন বেশি থাকায় আরও কিছুট সময় লা স্পানার পাথরের কারুকাজ করা উন্মুক্ত চত্বরে ঘোরা ও পর্সিলিনের টাইলস দিয়ে তৈরি নকশায় মোড়ানো স্পেনের বিভিন্ন শহরের প্রতিভূ মনকাড়া চিত্রগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের সুযোগ মিলল।
কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের শতবর্ষ উপলক্ষে সেভিলে নির্মিত হয় লা স্পানা। সেভিলের রয়্যাল আলকাজার প্রাসাদ ইসলাম, খ্রিষ্টীয় ও রেনেসাঁর নকশার দৃষ্টিকাড়া বৈশিষ্ট্যের সমাহার। আরেক কথায় আল কাজার হচ্ছে মুসলিম ও খ্রিষ্টীয় শৈল্পিক সৃজনশীলতার সমাবেশ।

হাজার বছর আগে সাদা টাইলসে নীল কালিতে অপূর্ব আরবি ক্যালিগ্রাফিতে আল্লাহর নাম লিখে আল কাজার প্রাসাদের দেয়াল মোড়ানো হয়েছে, যা দেখার মতো। যা কিছু সুন্দর, তা নষ্ট করা হয়নি, ভেঙে ফেলা হয়নি, ধ্বংস করা হয়নি। শিল্পের মর্যাদায় আজও তা রক্ষিত। নয়তো এক হাজার বছর আগে সুন্দরভাবে খোদাই করে আল্লাহর নাম যে কাঠে লিখিত হয়েছিল, সে কাঠ কাচ দিয়ে মুড়িয়ে আজ পর্যন্ত রক্ষিত হতো না।

প্রাসাদের প্রতিটি অঙ্গন ও কোণে গাছপালা ও পানির নহর বইয়ে দিয়ে এমন স্বস্তি ও প্রশান্তির উদ্যান নির্মাণ করা হয়েছে, যা ক্লান্তি মুছে দেয়। আল কাজার প্রাসাদের এমনি এক অঙ্গনের (এখানে বিশাল বিশাল কত যে চত্বর রয়েছে, যেখানে বাগান ও পানির নহর রয়েছে অনেক) কোনো মানুষের তৈরি এক স্থাপনা, যা দেখতে আহামরি নয়, তবে এর কর্মকাণ্ড অবাক করার মতো। দেখা যাচ্ছে, উঁচু পাথরের গা বেয়ে পানির ধারা নামছে আর বাতাস বয়ে যাওয়ার সময় তাতে বাজনা বেজে উঠছে বা সাঙ্গীতিক ধ্বনি ছড়িয়ে পড়ছে। এটা শাসকদের নির্মিত এক শিল্পকর্ম, যা বহমান বাতাস ও ঝিরঝির করে নেমে আসা পানির মিলনে বেজে ওঠে। মানুষ যে চিত্তের আনন্দের জন্য কী কী কৌশলে প্রকৃতির সম্ভারকে (এ ক্ষেত্রে বহমান পানি ও ঝিরঝির বাতাস) এমন শৈল্পিকভাবে কাজে লাগিয়েছে, তা দেখে বিস্ময় জাগে!
এসব শিল্পিত সৃজন দেখে মনে হলো, ক্ষমতাবানেরা শুধু যুদ্ধ–বিগ্রহ আর খুনাখুনিতে শক্তি ব্যয় না করে এমন সুন্দরের সৃষ্টিতে আরও বেশি করে মনোনিবেশ করলে এবং তা জনসাধারণের ভেতর ছড়িয়ে দিলে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধতায় আবিষ্ট করে রাখতে পারতেন। এসব নির্মাণ হয়তো নতুন কিছু তৈরিরও প্রণোদনা দিয়ে যেত লোকজনকে। এমন আনন্দদায়ক ও স্বস্তিদায়ক সব সৃষ্টি মন ও চোখ ভরে দেখতে হলে হাঁটতে হবে। কিন্তু সেভিল ছোট্ট ছিমছাম স্নিগ্ধ শহর বলে হাঁটাটা ক্লান্তিকর লাগেনি।

সেভিলের আল কাজার প্রাসাদের পেছনের দেয়ালের কাছেই আবাসিক হোটেলে ছিল আমাদের অবস্থান। তা হোটেল ছাড়তে হলো ভোর পাঁচটায়। ট্যাক্সি ঠিক সময়ে আমাদের তুলতে এল। জানি না কোথায় যাচ্ছি, কোন বাহনে আমরা গন্তব্যে পৌঁছাব, কোনো ধারণা নেই। অতি ভোরে ঘুম ভেঙে এক ঘোরের মধ্যে রওনা দেওয়া। ট্যাক্সিচালক স্যুট–টাই পরা মাঝবয়সী স্প্যানিশ ভদ্রলোক। সে বেচারা বিদেশি যাত্রী পেয়ে তাঁর ইংরেজি ভাষাটা ঝালাইয়ের জন্য উঠেপড়ে লাগলেন।

‘কবে সেভিলে এসেছ?’ ‘আল কাজার ট্যুর করেছ নিশ্চয়ই?’ ‘গ্রানাডায় যাবে কি?’ প্রতিটি প্রশ্নের পরই জানতে চাইছেন, ‘আচ্ছা আমার ইংরেজি বুঝতে পারছ তো?’ ‘ইংরেজিটা ঠিক আছে তো?’ ইত্যাদি ইত্যাদি।
দুঃখ করে আরও বললেন, ‘এখন অর্থনীতি এখানে ভালো না, জানো, পাঁচ বছর কাজ ছিল না আমার; এই কাজ পেয়েছি মাত্র পাঁচ–ছয় মাস’। তারপর ভদ্রলোক আমাদের চমকে দিয়ে বলে উঠলেন, ‘আচ্ছা বলো তো, তোমাদের কোথায় নামাব ট্রেনস্টেশনে না এয়ারপোর্টে?’
ওনার কথা শুনে আক্কেলগুড়ুম।
ইংরেজি বলায় মত্ত থাকায় ও বেচারা ভুলেই গেছেন যাত্রীদের কোথায় নামাতে হবে।
এয়ারপোর্টে নামাতে হবে শুনেই স্যুট পরা ড্রাইভার ভদ্রলোকের প্রশ্ন,
—কোথায় যাবে তোমরা?
ওনার সঙ্গে সঙ্গে আমিও তখনই জানলাম, আমরা প্যারিসে যাচ্ছি এবং অ্যারোপ্লেনেই যাচ্ছি। মানে হলো, বাসে করে পথের দৃশ্যাবলি দেখতে দেখতে এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাওয়ার আনন্দটা হচ্ছে না।
ড্রাইভার লোকটির বকবকানি চলছেই—
—যা অবস্থা প্যারিসে; গরিবের অবস্থা বড় কঠিন আর জিনিসপত্রের ভীষণ দাম প্যারিসে। দেখবে সেভিলের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।

বেশি কথা বললেও লোকটি সঠিক কথাই বলেছেন। প্যারিস আসলেও দামের শহর। ট্যাক্সিভাড়া, হোটেলভাড়া, টয়লেটভাড়া, খাবারদাবার সবকিছুরই দাম অনেক বেশি।

শার্ল দ্য গল বিমানবন্দরে নেমে দেখা গেল, গণপরিবহন বন্ধ। ফরাসিরা ইংরেজ আর ইংরেজি দুটোই খুব একটা পছন্দ করে না। একসময় তো ইংরেজি শুনলেই প্যারিসিয়ানরা নাক কুচকে সরে যেত বলে শুনেছি। তবু এক প্রাইভেট কারকে ইংরেজিতেই নম্রভাবে বলেকয়ে রাজি করানো হলো। প্যারিসের ন্যাশনাল আকাদেমি অব মিউজিক (Academie Nationale De Musique) হলের খুব কাছাকাছি নির্ধারিত ঠিকানায় পৌঁছাতে লাগল দুই–আড়াই ঘণ্টা। কারণ, গণপরিবহন হরতালে। তাই সবাই নিজ নিজ গাড়িতে রাস্তায় নেমে এমন যানজট তৈরি করেছে, বলার মতো নয়। এবার হোটেলে নয়, আমাদের আস্তানা হলো এআরবিএনবিতে। তবে জায়গাটা বেশ পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও সুবিধাজনক। দর্শনীয় অনেক কিছুই কাছাকাছি।

দুপুরের খাওয়ার জন্য কাছেই ছিমছাম সুন্দর ক্যাফে পাওয়া গেল, যার নাম ক্যাফে আর্টিজান। লাঞ্চ টাইম হওয়ায় ক্যাফের বাইরে পর্যন্ত স্যুটেড–বুটেড সাদা মানুষের লাইন।

লাইন ধরে ধীরে ধীরে আমরাও ক্যাশিয়ারের কাছে পৌঁছে খাবার অর্ডার দিলাম। ক্যাফের মতোই খাবারদাবারও ভালো। পৃথিবীজোড়া এখন ভেজিটেবল ও অর্গানিক খাবারের জয়জয়কার। ওই ক্যাফেতে চমৎকার মাল্টিগ্রেইন নরম চ্যাপটা আকৃতির বনরুটি দিয়ে বানানো ভেজিটেবল স্যান্ডউইচ আমার কাছে দারুণ সুস্বাদু লাগল। বনরুটিতে কোনো গ্রেইন বা শস্য নেই! গ্রেইনের ভেতর তিল, তিসি, কালিজিরা তো আছেই, এমনকি মিষ্টি কুমড়ার বিচিও বাদ যায়নি। স্যান্ডউইচে ছিল বেগুন, মিষ্টিকুমড়া, সাদা মিষ্টি আলু, ক্যাপসিকাম আরও কত কী। স্পেনের খাবার বলার মতো নয়। তবে খাঁটি স্প্যানিশ সুগন্ধী জাফরান দিয়ে রাঙানো চিকেন পাইয়েইয়া (Paella) দেখলাম মানুষের খুব পছন্দ। প্যারিসে ঘরের কাছে বলে আমরা দুইবেলা ওই ঝকঝকে–তকতকে ছিমছাম ক্যাফেতে খেয়ে নিতাম। রাতের খাবার ঘরে তৈরি হতো। তবে ফরাসি বা বাঙালি খাবার নয়। সোজাসাপটা ইতালিয়ান খাবার; পাস্তা রেঁধে সঙ্গে সাদা গোট চিজ, অলিভ, শশা, টমেটো দিয়ে গ্রিক সালাদ দিয়ে ডিনার।

প্রথম দিকে ক্যাশিয়ার নারী ও তার সহকারী তরুণীটি হাসিবিহীন ব্যাজার মুখে অর্ডার নিত এবং তেমনি গোমড়া মুখে খাবার এনে দিত। ফ্রেঞ্চ একটু জানি, তাও ধন্যবাদ বলতেও মুখ খুলতাম না। শেষ দিন ভোরবেলায় ব্রেকফাস্টে দেখি বয়স্ক মহিলা চাঁদমুখ করে অর্ডার নিল এবং তরুণী সহকারীও হাত নেড়ে চোখে ঝিকমিকি আলো ছড়িয়ে সম্ভাষণ জানাল। খাবার দেওয়ার সময়ও মেয়েটি হাসি হাসি মুখে বলল, ‘সিলভুয়্যা প্লে’ ‘বন অ্যাপেতি’।

আমি তো হতভম্ব। আমার বিস্মিত চাউনি দেখে ছেলে বলল, ‘দুইবেলার বাঁধা কাস্টমার দেখে ওদের মুখে হাসি শেষ হচ্ছে না, বুঝলে মামনি!’ ভেবে দেখলাম, তা–ই তো। চারজন মানুষের কাছ থেকে ওরা কম ইউরো তো হাতিয়ে নিচ্ছে না। তবে ব্যাজার মুখ হোক আর যা–ই হোক না কেন, ফরাসিদের খাবার দেখতেও ভালো, খেতেও মজা।

ঘোরাঘুরি করতে বের হয়ে দেখা গেল গণপরিবহন বন্ধ। পুলিশ চারদিকে। প্যারিসের নামীদামি শপিং সেন্টার লা ল্যাফাইয়েলের সামনে স্টেনগান হাতে সৈনিকেরা পাহাড়ায়। কিসের জন্য এত সতর্কতা! ন্যায়সঙ্গত পেনশন দাবিদারেরা কি এতই ভয়ংকর যে তাদের তাড়ানোর জন্য স্টেনগানধারী দরকার? নাহ্, তা নয়। এটা হচ্ছে ‘সন্ত্রাসী’ দমনের ব্যবস্থা।

আগুনে পুড়ে যাওয়া নটর ডেম গির্জা তখনো অর্থাৎ ডিসেম্বর ২০১৯–এ দর্শকের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। বাইরে থেকে ঘুরে ঘুরে দেখলাম, আর ছোটবেলায় পড়া ভিক্টর হুগোর চরিত্র ‘হাঞ্চব্যাক অব নটর ডেম’কে কল্পনায় খুঁজলাম।

নটর ডেম গির্জার পর ল্যুভ আর্ট গ্যালারি হচ্ছে গন্তব্য। হাঁটা হয়েছে অনেকটা। এবার কাছের শপিংমলের ঝলমলে এক ক্যাফেতে কফি আর সুস্বাদু ফ্রেঞ্চ ক্রোসো খাওয়ার ইচ্ছা হলো। খাওয়ার শেষে মনে হলো প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে তবেই আর্ট গ্যালারিতে যাত্রা হবে বুদ্ধিমানের কাজ। ওখানেও তো হাঁটতে হবে। সামনেই আসছে ক্রিসমাস, তাই শপিংমলের ভেতর আলোর বন্যা বইছে। টয়লেটেও তা–ই। আলোঝলমল টয়লেট ব্যবহার করতে হলে এক ইউরো যথেষ্ট নয়, দিতে হবে এক ইউরো দশ। সিভিল, মাদ্রিদ, গ্রানাডায় টয়লেটে যেতে এক ইউরোর বেশি কখনোই দিতে হয়নি। সেভিলে গাড়ির চালক ঠিকই বলেছিলেন, প্যারিসে সবকিছুরই দাম বেশি।

ল্যুভর গ্যালারিতে যেতে যেতে দেয়ালে লিওনার্দোর চিত্র প্রদর্শনীর পোস্টার চোখে পড়ল। শুরু হয়েছে অক্টোবরে ২০১৯–এ, চলবে ফেব্রুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত। প্রদর্শনী আয়োজিত হয়েছে দা ভিঞ্চির মৃত্যুর পাঁচ শত বছর পূর্তি উপলক্ষে। এ প্রদর্শনীতে ‘মোনালিসা’তো থাকবেই। তবে নিশ্চিত জানি, লিওনার্দো দা ভিঞ্চির ‘সালভেতর মান্দি’ (লাতিন ভাষায় ‘সেভিয়র অব দ্য ওয়ার্ল্ড’) শিরোনামের চিত্রকর্মটি এখানে থাকবে না। প্রথমত: দা ভিঞ্চির বিখ্যাত ১৫–২০টি চিত্রকর্মের মধ্যে এই শিল্পকর্মই ব্যক্তিমালিকানায় ছিল ও আছে। দ্বিতীয়ত: নিউইয়র্কের ক্রিস্টির ২০১৭–এর মার্চের অকশনে সর্ব্বোচ্চ মূল্যে বিক্রিত হওয়ার পর ‘সালভেতর মান্দি’কোথায় আছে, তার হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এ পর্যন্ত যত চিত্রকর্ম পৃথিবীতে বিক্রি হয়েছে, তার মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে দামি। এর বিক্রয়মূল্য হলো ৪৫০,০০০,০০০ ইউএস ডলার, যা প্রায় অর্ধেক বিলিয়ন ডলার।

এই চিত্রকর্মে দেখা যাচ্ছে রেনেসাঁর পোশাকে আশীর্বাদ দেওয়ার ভঙ্গিতে এক হাত উত্তোলিত ও অন্য হাতে স্বচ্ছ ক্রিস্টাল বল হাতে যিশু। দীর্ঘদিন প্রায় সবার অজান্তে অন্তরালে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে পড়ে থাকায় পরে অনেক যত্নে সাফাই করার আগে, ভিঞ্চি শিল্পকর্মের পাঁচ বিশেষজ্ঞ একত্র হয়ে চিত্রটি আসলেই দা ভিঞ্চির অঙ্কিত কি না, সে নিরীক্ষা করেছিলেন। আসল কি নকল, সে অন্য বিতর্ক। পুনরুদ্ধারকর্ম সম্পাদন শেষে ‘সালভেতর মান্দি’কে ২০১১ সালে লন্ডনে এক প্রদর্শনীতে উপস্থাপন করা হয়।

কথা হলো, এত দাম দিয়ে কে শিল্পকর্মটি কিনলেন? শোনা যায়, দুবাইয়ের সংস্কৃতিমন্ত্রী ক্রিস্টির অকশনে রেকর্ড মূল্যে এটি কেনেন। আর তা কেনা হয়েছিল দুবাইয়ে ল্যুভর গ্যালারির জন্য, যা জনমানুষের জন্য প্রদর্শিত হওয়ার কথা। কিন্তু পরে বাতাসে ভেসে বেড়ানো ফিসফিসানিতে শোনা যাচ্ছে, এ শিল্পকর্ম এক সৌদি রাজপুত্র দুবাইয়ের মন্ত্রীর মাধ্যমে আড়ালে থেকে কিনিয়েছেন। রাজপুত্র শিল্পের পৃষ্ঠপোষক হতেই পারেন, তাতে দোষের কিছু নেই। তবে এ রাজপুত্রের উপযুক্ত কি না, কে জানে। সালভেতর মান্দি বিষয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রবন্ধে (অক্টোবর ১৫, ২০১৯ প্রকাশিত) বলা হয়, যে রাজপুত্র রেকর্ড মূল্যে শিল্পকর্মটি কেনেন তিনিই সে সময় ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট জামাল খাসোগিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারই অঙ্গুলি হেলনে তুরস্কে নিজেরই দেশের দূতাবাসে খাসোগিকে হত্যার পর টুকরা টুকরা করে বৈদ্যুতিক চুলার আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। যারা বা যে দেশ পৃথিবীর ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছ থেকে হজের মৌসুমেই বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় বা রোজগার করে, তাদের রাজপুত্রের জন্য খুন করানো বা শিল্পকর্ম সংগ্রহে অর্থ জোগান কোনো বিষয়ই হতে পারে না।

বলা হয়, এ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে দা ভিঞ্চির ও অন্য সব ঐতিহাসিক শিল্পকর্মের উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণের কায়দা–কানুন প্যারিসের ল্যুভর জাদুঘরই যথাযথভাবে জানে এবং দক্ষ। অথচ দেখভালের যোগ্যতা থাকলেও ল্যুভের হাতে ওই চিত্রকর্ম আসেনি। শিল্পকর্ম ‘সালভেতর মান্দি’ নাকি রাজপুত্রের বিলাসবহুল ব্যক্তিগত প্রমোদতরির সিঁড়ির লাগোয়া দেয়ালে ঝোলানো আছে। দা ভিঞ্চির কথা বলতে বলতে পৌঁছে গেলাম ল্যুভের কাছে। সেভিলের লা স্পানার চেয়ে অনেক বড় চত্বর ল্যুভের সামনে।

চত্বরের শেষে যেখানে টিকিট দিয়ে ঢুকতে হয়, তার খানিকটা পরে নব্বইয়ের দশকে ল্যুভের সামনে নির্মিত তিনটি স্বচ্ছ পিরামিড আকৃতির স্থাপনা। মাঝখানেরটি বড়, দুপাশের দুটি ছোট। ওই পিরামিডের পরে ল্যুভের প্রবেশপথ। কপাল ভালো বলতে হবে যে মাইনাস টেম্পারেচারের মধ্যেও সূর্য দেখা দেওয়ায় পিরামিডের স্বচ্ছতা সাদামাটা ক্যামেরায়ও ধরা পড়ল। এরপরই দেখা হবে জাদুঘরের ভেতর অপেক্ষমাণ শত শত বছরের প্রাচীন সব জাদু। তুলির আঁচড়ে ক্যানভাসে উদ্ভাসিত সেসব জাদুর গল্প আরেক সময় বলা যাবে।