কানাডা বাবা-মা ও দাদা-দাদিদের স্পনসরশিপের নতুন আবেদন স্থগিত, বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তাব
পরিবার পুনর্মিলনের উদ্দেশ্যে কানাডায় মা–বাবা, দাদা-দাদি বা নানা-নানিদের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে আনার জনপ্রিয় কর্মসূচি ‘প্যারেন্ট অ্যান্ড গ্র্যান্ডপ্যারেন্ট প্রোগ্রাম (পিজিপি)’ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কানাডা। ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (আইআরসিসি) জানিয়েছে, সিস্টেমের ওপর চাপ কমানো এবং অপেক্ষার সময় (ওয়েটিং টাইম) সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার লক্ষ্যে আপাতত এই প্রোগ্রামে নতুন কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
কেন এই প্রোগ্রামটি চালু ছিল
কানাডার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৩ ভাগই প্রথম কিংবা দ্বিতীয় প্রজন্মের ইমিগ্রেন্ট। ফলে তাদের পরিবারগুলো আবার একত্র করার লক্ষ্য নিয়ে কানাডা সরকার এই বিশেষ প্রোগ্রামটি চালু করে অনেক বছর আগে। (এখানে পরিবার বলতে মা–বাবা, দাদা-দাদি, নানা–নানিকে বোঝানো হয়েছে। আন্য কেউ না। এমনকি ভাইবোনও না।) এর পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল কানাডার স্থায়ী বাসিন্দা ও নাগরিকদের মানসিকভাবে সহায়তা দেওয়া এবং তাঁদের পরিবারকে স্থায়ীভাবে কানাডায় বসবাস করার সুযোগ করে দেওয়া। তবে আবেদনকারীর বিপুল চাহিদার কারণে প্রোগ্রামটিকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। অতীতেও এই প্রোগ্রামটি বিভিন্ন সময় নানা কারণে সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে তা আবার চালু করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান এই স্থগিতাদেশের সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।
আয়ের বাধ্যবাধকতা ও স্পনসরশিপের শর্ত
এই প্রোগ্রামে স্পনসর করার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান শর্ত হলো স্পনসরের আর্থিক সক্ষমতা। একজন স্পনসরকে প্রমাণ করতে হয় যে তিনি কানাডায় তাঁর মা–বাবা বা দাদা-দাদি/নানা-নানিদের আসার পর তাঁদের যাবতীয় খরচ বহন করার মতো সামর্থ্য রাখেন। আইআরসিসির নিয়ম অনুযায়ী, স্পনসরকে ন্যূনতম আয়সীমা (মিনিমাম নেসেসারি ইনকাম) বজায় রাখতে হয়। এই আয়সীমা যাচাই করার মাধ্যমেই সরকার নিশ্চিত করে যে স্পনসর করা স্বজনেরা কানাডার সামাজিক সুরক্ষা (সরকারি সাহায্য) ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হবেন না। আবেদনকারীদের গত তিন বছরের আয়কর বিবরণী ও অন্যান্য আর্থিক দলিলাদি কঠোরভাবে যাচাই করা হয়।
বর্তমানে পরিস্থিতির বাস্তবতা
ইমিগ্রেশন বিভাগের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৬০ হাজার ৫০০টি আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই বিশালসংখ্যক আবেদনের কারণে অপেক্ষার সময় বর্তমানে গড়ে ৩৩ মাস পর্যন্ত দীর্ঘ হয়েছে, আর কুইবেকের মতো প্রদেশে তা ৬৬ মাস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। প্রোগ্রামে চাহিদার তুলনায় সরকারি কোটার স্বল্পতার অনেক আবেদন জমা পড়ার কারণে কারণেই সরকার বিরতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এখন বিকল্প কী?
সরকার জানিয়েছে, এই স্থগিতাদেশটি ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ কার্যকর থাকবে। তবে যাঁরা তাঁদের স্বজনদের কানাডায় আনতে আগ্রহী, তাঁরা বিকল্প হিসেবে ‘সুপার ভিসা’ ব্যবহার করতে পারেন। এই ভিসার আওতায় মা–বাবা ও দাদা-দাদিরা দীর্ঘ মেয়াদে (একবারে পাঁচ থেকে সাত বছর পর্যন্ত) কানাডায় ভ্রমণ করতে পারেন।
উল্লেখ্য, এবারের স্থগিতাদেশের কারণে ২০২৬ এবং ২০২৭ সালে ১৫ হাজার জনকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল, তাতে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানা গেছে।
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]