গতির যুগে দাদার মতো আমিও হারিয়ে যাচ্ছি
আমার দাদা কৃষক ছিলেন। তিনি যখন কৃষক ছিলেন, তখন প্রতি দশজনের প্রায় সাতজনের উপার্জন কৃষিকাজ থেকে হতো। এখন সেই সংখ্যাটা কমতে কমতে হয়তো দুজনে এসে দাঁড়িয়েছে।
দাদা অনেক হাঁটতেন। কোনো রকম ক্লান্তি ছাড়াই একেবারে সাত-আট কিলোমিটার হাঁটতে পারতেন। দাদা আমাকে অনেক জায়গায় নিয়ে যেতেন। দাদার সঙ্গে যেখানেই যেতাম, হেঁটেই যেতাম—খালি পায়েই যেতাম।
মানুষ এখন হরহামেশাই উড়োজাহাজে চড়ে, দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ায়। আমিও এখন উড়োজাহাজে চড়ি, এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাই, উন্নত দেশে থাকি, উন্নত জীবন যাপন করি।
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]
দারুণ ব্যাপার। যুগটা গতির। গতির এই যুগে আমরা অনেক আধুনিক। অথচ একটা সময় ছিল, যখন বাড়ি থেকে কক্সবাজার অনেক দূরে মনে হতো। সমুদ্র দেখতে যেতে হলে এক বছর আগে থেকেই পরিকল্পনা করতে হতো।
শুনেছি কয়েক প্রজন্ম আগে স্বজনেরা মাটির ব্যাংকে টাকা জমিয়ে বছর শেষে অন্য গ্রামে মেলা দেখতে যেত। মেলায় যাত্রাপালা হতো, হালখাতার অনুষ্ঠান হতো। মিষ্টিমুখ করে দিনটি উদ্যাপন করার পাশাপাশি সেদিন সবাই বছরের সব বকেয়া হাসিমুখে পরিশোধ করত। তখন তাদের কাছে অনেক দূরে সমুদ্র দেখতে যাওয়া ছিল এক প্রকার বিলাসিতা।
কবি-সাহিত্যিকরা বলেন সমুদ্র-পাহাড় মানুষের রাগ কমায়। আমি বলি সমুদ্র-পাহাড়ের বিশালতার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে শুরুতে আনন্দ লাগলেও ধীরে ধীরে মনের মধ্যে একধরনের শূন্যতা, আফসোস জন্ম নেয়।
আগে মানুষ আনন্দ দেখত কম, আনন্দ পাওয়ার চেষ্টা করত কম। তাই তাদের মধ্যে শূন্যতা আর আফসোসও ছিল কম। তখনকার দিনে বাড়ির পাশে ছায়াঘেরা দিঘিটা ছিল শান্ত জলে ভরা।
আগে কুসংস্কারের মধ্যেও ছিল অনেক সংস্কার। মানবিকতা ও ভালোবাসা যেটুকু ছিল, তা ছিল পরিষ্কার—নির্ভেজাল। এখন সভ্যতার ভেতরে প্রায় পুরোটাই অসভ্যতা, হিংস্রতা।