হজের প্রস্তুতি: দীর্ঘ কাঙ্ক্ষিত ইবাদতের পথে জরুরি পায়ের যত্ন
হজ কেবল একটি আত্মিক সফর নয়, এই সফরের একটি বড় ভার বহন করে আমাদের পা। তাওয়াফ, সাঈ থেকে শুরু করে মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফার দীর্ঘ পথ—সব মিলিয়ে একজন হজযাত্রীকে কয়েক দিনে প্রায় ৬০–৭০ কিলোমিটারের বেশি হাঁটতে হতে পারে। তপ্ত আবহাওয়া, প্রচণ্ড ভিড় আর দীর্ঘ অপেক্ষার এই কঠিন যাত্রায় পায়ের ওপর পড়ে ব্যাপক চাপ। তাই হজের প্রস্তুতিতে কাপড় বা ওষুধের মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ সঠিক জুতা বা স্যান্ডেল নির্বাচন।
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]
সঠিক স্যান্ডেল কেমন হওয়া প্রয়োজন?
ইহরামের সময় বিশেষ করে পুরুষদের এমন স্যান্ডেল প্রয়োজন, যা ধর্মীয় বিধিবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং পা–কে সুরক্ষা দেয়। একটি ভালো স্যান্ডেলের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
এটি হালকা, খোলা এবং পায়ের সঙ্গে ঠিকমতো লেগে থাকবে যাতে হাঁটার সময় দুলে না যায়।
স্যান্ডেলের ওপরের ফিতা বা স্ট্র্যাপ সামঞ্জস্যযোগ্য ও নরম হওয়া জরুরি, যাতে চামড়ায় ঘষা কম লাগে।
পায়ের তলার অংশটি (ফুটবেড) সামান্য অমসৃণ হতে হবে যাতে পা পিছলে না যায়, আবার খুব বেশি খসখসেও হবে না। গোড়ালি ও সামনের অংশে সামান্য কুশন থাকলে দীর্ঘ হাঁটার ক্লান্তি ও চাপ কিছুটা কমে।
যেসব ভুল এড়ানো জরুরি
অনেকে একেবারেই নতুন স্যান্ডেল কিনে সরাসরি হজে নিয়ে যান, যা না করাই ভালো। একটি বড় ভুল। নতুন স্যান্ডেলের কারণে পায়ে ফোসকা বা ব্যথার ঝুঁকি বাড়ে। তাই দেশ ছাড়ার আগেই সেই স্যান্ডেল পরে অন্তত ২০ হাজার পদক্ষেপ হাঁটার অভ্যাস করা উচিত। এতে স্যান্ডেলের কোথায় ঘষা লাগে বা কোথায় ঢিলা—তা আগেই বোঝা সম্ভব হয়।
এ ছাড়া যা এড়িয়ে চলা ভালো:
আঙুলের ফাঁকে ঢুকে থাকে এমন ‘থং’ বা ‘টো-পোস্ট’ স্যান্ডেল, যা থেকে ফোসকা হতে পারে।
খুব ঢিলা স্লাইড বা ফ্লিপ-ফ্লপ, যা ভিড়ে পা থেকে খুলে গিয়ে হোঁচট খাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
পায়ের তলায় উঁচু-নিচু নকশা বা শক্ত খাঁজওয়ালা স্যান্ডেল দীর্ঘ হাঁটায় ঘর্ষণ ও ফোসকার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
প্রতিদিনের যত্ন ও সতর্কতা
পবিত্র হজের দিনগুলোতে প্রতিদিন রাতে পায়ের তলা, গোড়ালি, আঙুলের ফাঁক এবং নখের চারপাশ পরীক্ষা করা জরুরি। কোনো লালচে দাগ, ফোলা বা অস্বাভাবিক ব্যথা দেখলে দ্রুত বিশ্রাম নিতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। স্যান্ডেলের ভেতরে বালু বা কাঁকর ঢুকে আছে কি না, তা বারবার পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবেটিস বা পায়ে রক্তসঞ্চালনের সমস্যা আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সামান্য ক্ষতও মারাত্মক হতে পারে। এ ধরনের হজযাত্রীদের যাত্রার আগেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ও ব্যক্তিগত পায়ের যত্ন পরিকল্পনা তৈরি করা নিরাপদ।
পরিশেষে, সঠিক স্যান্ডেল নির্বাচন, হাঁটার অভ্যাস এবং সামান্য সচেতনতাই পারে আপনার এই পবিত্র সফরকে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক করতে। তখন আপনার মনোযোগ থাকবে কেবল ইবাদতে, পায়ের যন্ত্রণায় নয়।
লেখক: ড. সায়েদ আহমেদ, পায়ের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ (পেডোরথিস্ট), চেয়ারম্যান, ফুট ব্যালেন্স টেকনোলজি; কো-চেয়ার, পেডোরথিক্স ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস গাইডলাইন কমিটি (অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা)।