সিডনি অপেরা হাউসে রফিক আজমের নান্দনিক স্থাপত্যের বিশ্বজয়: বই উন্মোচন ২৬ মার্চ


অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত সিডনি অপেরা হাউসের উটজন হলে আগামী ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক অনন্য আয়োজন।

অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত সিডনি অপেরা হাউসের উটজন হলে আগামী ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক অনন্য আয়োজন। বিশ্বখ্যাত বাংলাদেশি স্থপতি রফিক আজমের নতুন মনোগ্রাফ ‘রফিক আজম: ওল্ড ঢাকা নিউ স্টোরি—আর্কিটেকচার ইন বাংলাদেশ’-এর বৈশ্বিক উন্মোচন হতে যাচ্ছে এই বিশ্বমঞ্চে । আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা ‘রিজোলি নিউ ইয়র্ক’ থেকে প্রকাশিত ৩৩৬ পৃষ্ঠার এই সুবিশাল গ্রন্থটি বাংলাদেশের স্থাপত্যশৈলীকে নতুন করে বিশ্বদরবারে পরিচয় করিয়ে দেবে ।

বিশ্বখ্যাত বাংলাদেশি স্থপতি রফিক আজম।

স্থাপত্যে বাংলার আধ্যাত্মিকতা ও মাটির গল্প

স্থপতি রফিক আজম তার দীর্ঘ কর্মজীবনে রাজধানী ঢাকার নগর রূপান্তরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন । তার স্থাপত্যের বিশেষত্ব হলো দেশজ উপকরণ, স্থানীয় কারুশিল্প এবং বাংলার আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। আলো-ছায়ার খেলা, জলাধারের শৈল্পিক ব্যবহার এবং বাংলার মরমী দর্শনের প্রভাব তার প্রতিটি নকশায় স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ১৯৯৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত প্রতিষ্ঠান ‘শতত’, যার লক্ষ্য পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রা এবং টেকসই স্থাপত্য নিশ্চিত করা।

বিশ্বের নজর কাড়া প্রকাশনা

বিশ্বখ্যাত বাংলাদেশি স্থপতি রফিক আজমের নতুন মনোগ্রাফ ‘রফিক আজম: ওল্ড ঢাকা নিউ স্টোরি—আর্কিটেকচার ইন বাংলাদেশ’-এর বৈশ্বিক উন্মোচন হতে যাচ্ছে এই বিশ্বমঞ্চে।

স্থপতি রফিক আজমের এই নতুন বইটিতে ঢাকার উল্লেখযোগ্য গণমুখী ও ব্যক্তিগত প্রকল্পের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার মালয়েশিয়া ও ভুটানের বিভিন্ন কাজও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বিশেষ খণ্ডে তার কয়েক দশকের ডিজাইন চিন্তাভাবনা এবং ‘নতুন’ বাংলাদেশের সম্প্রদায়-কেন্দ্রিক কাজের বিশদ বর্ণনা রয়েছে। গ্রন্থটির ভূমিকা লিখেছেন কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির এমিরেটাস অধ্যাপক এবং বিশিষ্ট স্থাপত্য ইতিহাসবিদ কেনেথ বি ফ্র্যাম্পটন। এছাড়াও মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিলিপ গোডসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অনেক বিশেষজ্ঞ স্থপতি ও শিক্ষাবিদ এতে কলাম লিখেছেন।

চলচ্চিত্র ও স্থাপত্যের এক মহাসম্মেলন

স্থপতি রফিক আজম তার দীর্ঘ কর্মজীবনে রাজধানী ঢাকার নগর রূপান্তরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন ।

বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র নির্মাতা শঙ্খ দাশগুপ্তর পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য তথ্য-চিত্র ‘বিটুইন লাইট অ্যান্ড আর্থ’ (আলো ও মাটির মাঝে)-এর বিশ্ব প্রিমিয়ার । স্থপতি রফিক আজমের জীবন ও কাজকে ভিত্তি করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি স্থাপত্যের এক দৃশ্যমান কবিতা হিসেবে প্রদর্শিত হবে।

অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়ক ও স্থাপত্যবিদ ইফতেখার আব্দুল্লাহ জানান, সিডনি অপেরা হাউসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থাপত্য জগতের বৈশ্বিক নেতৃবৃন্দের আলোচনা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং রফিক আজমের বিশেষ উপস্থাপনা থাকবে । অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী ও স্থপতিরা এই কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়াও, রফিক আজম ২৪ মার্চ ইউনিভার্সিটি অব সিডনি এবং ২৫ মার্চ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সে বক্তব্য রাখবেন। সেখানে সিডনির শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।

আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও স্বীকৃতি

বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র নির্মাতা শঙ্খ দাশগুপ্তর পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য তথ্য-চিত্র ‘বিটুইন লাইট অ্যান্ড আর্থ’ (আলো ও মাটির মাঝে)-এর বিশ্ব প্রিমিয়ার

১৯৬৩ সালে জন্ম নেওয়া এই স্থপতি তার কর্মজীবনে অজস্র আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে জহরলাল নেহেরু মেমোরিয়াল গোল্ড মেডেল, আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচারের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্তি, ওয়ার্ল্ড আর্কিটেকচার ফেস্টিভ্যাল অ্যাওয়ার্ড এবং কমনওয়েলথ অ্যাসোসিয়েশন অফ আর্কিটেক্টস-এর রবার্ট ম্যাথিউ লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড অন্যতম।

ঢাকার ‘জল সবুজের ঢাকা’ প্রকল্পের আওতায় শহীদ আব্দুল আলিম খেলার মাঠ এবং রসুলবাগ শিশু পার্কের পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে তিনি নগরজীবনে যে প্রাণ ফিরিয়ে এনেছেন, তা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। সিডনির এই আয়োজন শুধু একজন স্থপতির প্রাপ্তি নয়, বরং বিশ্বস্থাপত্যের মানচিত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতার এক অনন্য স্বীকৃতি হতে যাচ্ছে বলে জানালেন অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম স্থাপত্যবিদ ইফতেখার আব্দুল্লাহ।