ট্রাম্পের শুল্কনীতি: কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পছবি: রয়টার্স

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে শুল্কসংক্রান্ত আলোচনায় ‘মধ্যপথে’ সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেন বলে জানিয়েছেন দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক। গতকাল মঙ্গলবার ট্রাম্প প্রশাসন কানাডা ও মেক্সিকোর পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে এবং কানাডিয়ান জ্বালানির ওপর ১০ শতাংশ কর বসায়।

এর পাল্টা হিসেবে কানাডা তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ শতাংশ প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয় এবং মেক্সিকোও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। হাওয়ার্ড লাটনিক ফক্স নিউজকে বলেন, ‘কানাডা ও মেক্সিকো আমাদের সঙ্গে সারা দিন যোগাযোগ করেছে এবং দেখানোর চেষ্টা করেছে যে তারা আরও ভালো কিছু করবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তা শুনছেন, কারণ, তিনি খুবই ন্যায়সংগত ও যুক্তিসংগত। আমি মনে করি, তিনি তাদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি কোনো স্থগিতাদেশ হবে না বরং উভয় পক্ষ কিছুটা ছাড় দেবে এবং মধ্যপথে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে। আশা করি, আগামীকাল (আজ বুধবার) আমরা এ বিষয়ে ঘোষণা দিতে পারব।’

এদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ট্রাম্পের এ পদক্ষেপকে ‘বোকামি’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং বলেছেন, ‘আমাদের প্রতিক্রিয়া জানানো ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।’ কানাডা ৩০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে এবং আগামী ২১ দিনের মধ্যে আরও ১২৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্যকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে।

লাটনিক ট্রুডোর সমালোচনা করে বলেন, ‘আশা করি, নতুন লিবারেল নেতা নির্বাচিত হলে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে বসে যুক্তিসংগত আলোচনা করবেন এবং বাণিজ্য নীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবেন। উল্লেখ্য কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাস্টিন ট্রুডো ইতিমধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন এবং মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে নতুন নেতার কাছে দল এবং দেশের নেতৃত্ব ছেড়ে তিনি রাজনীতি থেকে অবসরে চলে যাবেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই শুল্ক ব্যবস্থা কানাডা ও মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা মাদক ফেন্টানিল সমস্যার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। যদিও সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা ফেন্টানিলের ১ শতাংশের কম আসে কানাডা থেকে এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে ফেন্টানিল জব্দের পরিমাণও কমেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি (USMCA) আগামী বছর পর্যালোচনা করা হবে। ট্রাম্প প্রথম প্রশাসনে এই চুক্তি নতুন করে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করেছিলেন। তবে নতুন শুল্কব্যবস্থা নিয়ে বর্তমান উত্তেজনা USMCA-এর ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

তথ‍্যসূত্র: গ্লোবাল নিউজ