লেখক-পাঠকের পদচারণে উৎসবের আমেজ

সিডনির অ্যাশফিল্ড পার্কে রোববার বইমেলায় সমবেত হন প্রবাসী বাঙালিরাছবি: সংগৃহীত

বই-সাহিত্য-শিল্প-মেলা—বাংলাদেশি সংস্কৃতির এই অপরূপ দৃশ্যের দেখা মিলল অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। প্রভাতফেরি দিয়ে শুরু হয়ে দিনভর লেখক-পাঠকের সরগরম, পদচারণ, আনন্দ-আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো সিডনির একুশে বইমেলা।

আজ রোববার সিডনির অ্যাশফিল্ড পার্কে দিনব্যাপী উৎসবের মধ্য দিয়ে চলে এবারের সিডনি বইমেলা। এবারের বইমেলায় বিশেষ অতিথির হিসেবে দিনভর সবার মাঝে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক। এ ছাড়া বইমেলায় প্রথমবারের মতো ছিল প্রথমা প্রকাশনের বইয়ের স্টল।

বইমেলার শুরুতেই নিজের অনুভূতি নিয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘বই আর পাঠক সমাবেশের টানে আমি পৃথিবীর বহু দেশে গিয়েছি। তবে অন্যান্য দেশের মতো ভেবেছিলাম সিডনিতেও ছোট পরিসরে বইমেলা হবে। কিন্তু আমার ভুল ভাঙে যখন মেলা প্রাঙ্গণে এসে দেখি এত বিশাল খোলা মাঠে প্রায় বাংলাদেশের মতোই আরেক টুকরো বাংলাদেশি একুশে বইমেলা। খুব সকালে সিডনির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাংলাদেশিরা চলে এসেছেন মেলায়।’

সকালে বইমেলার শুরু হয় সবার অংশগ্রহণে প্রভাতফেরির মধ্য দিয়ে। এ সময় অ্যাশফিল্ড পার্কে সিডনিতে বসবাসরত বাংলাদেশিরা বইমেলা প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে ভাষাশহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বইমেলার বিশেষ অতিথি আনিসুল হকও সবার সঙ্গে প্রভাতফেরিতে অংশ নেন। একই সঙ্গে তিনি মেলার উদ্বোধনও করেন।

বইমেলার স্টলগুলোতে দিনের শুরু থেকে ছিল নানা বয়সী সাহিত্যপ্রেমীদের ভিড়। ২০০৬ সালে সিডনির অ্যাশফিল্ড পার্কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে প্রতিবছরই অ্যাশফিল্ড পার্কের ভাষা–স্মৃতিস্তম্ভকে ঘিরে আয়োজিত হচ্ছে সিডনির একুশে বইমেলার। আর সিডনি বইমেলার আয়োজন করা হচ্ছে ২৫ বছর ধরে।

এবারের বইমেলায় দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা লেখকদের বই প্রদর্শন করা হয় স্টলগুলোতে। বইমেলা উপলক্ষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে ‘মাতৃভাষা’ নামে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করা হয়। বইমেলায় প্রথমা প্রকাশনের স্টলে ছিল আনিসুল হক, সিডনিপ্রবাসী বাংলাদেশি লেখক অধ্যাপক বদরুল আলম খান, জাদুশিল্পী এম এ জলিলসহ আরও অনেকের বই। দিনভর অটোগ্রাফ দিয়ে এবং স্টলে স্টলে ঘুরে প্রবাসী বাংলাদেশি পাঠকের সঙ্গে কথা বলেন ও ছবি তোলেন আনিসুল হক।

বইমেলায় বিশেষ অতিথির হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক। রোববার সিডনির অ্যাশফিল্ড পার্কে
ছবি: সংগৃহীত

বইমেলায় উপস্থিত বদরুল আলম খান বলেন, ‘সিডনিতে বইমেলা হওয়ার কারণে বাংলাদেশের মাসব্যাপী বইমেলায় না যেতে পারার দুঃখ অনেকটাই কম হয়। আর সিডনির বইমেলায় প্রতিবছরই আগের বছরের চেয়ে বেশি দর্শক আগমন হচ্ছে। সাহিত্যপ্রেমী ও পাঠকদের সঙ্গে দেখা করতে পেরে ভালো লাগছে।’

সিডনির বইমেলার সূচিতে আরও ছিল মহান ভাষা আন্দোলনের স্মরণে নানান আয়োজন। এ ছাড়া বাংলা সাহিত্যের অংশ হিসেবে মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি, মঞ্চনাটিকা, নতুন বই উন্মোচনসহ আরও অনেক আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশি অনেক মুখরোচক খাবারের স্টলও ছিল। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে উপস্থিত ছিলেন ক্যানবেরার বাংলাদেশ হাইকমিশনার এম আল্লামা সিদ্দিকী, সিডনির বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াৎ হোসেনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণায় সবাইকে ধন্যবাদ জানান একুশে বইমেলার আয়োজক একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি আবদুল মতিন।