চীনে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জমজমাট ক্রিকেট আয়োজন
চীনে মে দিবসের ছুটিকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ‘এনজেটেক ক্রিকেট লিগ (এনজেসিএল) ২০২৬’-এর পঞ্চম আসর। নানজিং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে এনজেটেক টাইগার্সকে হারিয়ে শিরোপা জয় করেছে এনজেটেক গডফাদার। এবারের আসরে নতুন ও প্রবীণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে এনজেটেক টাইগার্স, এনজেটেক গডফাদার, এনজেটেক ওয়ারিয়র্স ও এনজেটেক পাওয়ার ইলেভেন নামে মোট চারটি শক্তিশালী দল অংশগ্রহণ করে। ১ মে থেকে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে ৪ মে অনুষ্ঠিত মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হয় এনজেটেক টাইগার্স ও এনজেটেক গডফাদার।
জমজমাট সেই ফাইনালে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় এনজেটেক গডফাদার। আম্পায়ার দিহান ও ইমনের পরিচালনায় প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ১২ ওভারে এনজেটেক টাইগার্স ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫০ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে স্বচ্ছ ১৯ বলে ৫৫ এবং রিশাদ ২৩ বলে ৪৩ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন। তবে এনজেটেক গডফাদারের বোলার নাঈম মাত্র ২১ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে টাইগার্সদের বড় সংগ্রহের পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ান। ১৫১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এনজেটেক গডফাদারের ওপেনার নাঈম একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। তাঁর বিধ্বংসী ৩৪ বলে অপরাজিত ৮৪* রান এবং ওয়াহিদের ৩৮ রানের ওপর ভর করে মাত্র ১০.৫ ওভারেই ৮ উইকেটের বিশাল জয় নিশ্চিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে এনজেটেক গডফাদার।
পুরো টুর্নামেন্টে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। এনজেটেক গডফাদারের নাঈম আসরে সর্বোচ্চ ২৮৬ রান ও ১০ উইকেট শিকার করে ‘টুর্নামেন্ট–সেরা’ নির্বাচিত হন, যার মধ্যে ফাইনালে ৫-৪৪ ছিল তাঁর ব্যক্তিগত সেরা স্পেল। এ ছাড়া তিনি টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৩০টি ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ড গড়েন। এনজেটেক ওয়ারিয়র্সের শুভাশীষ খেলেন ১৩৭* রানের এক অনবদ্য ব্যক্তিগত ইনিংস। অন্যদিকে এনজেটেক টাইগার্সের উদীয়মান তারকা রিশাদ আসরে ২৩৯ রান করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ ২১টি চার মেরে টুর্নামেন্টের ‘রাইজিং স্টার’ হিসেবে নির্বাচিত হয়। আসরজুড়ে ব্যাটসম্যানদের পক্ষ থেকে মোট ১৯০টি ছক্কা ও ১৫১টি চারের মার দেখা গেছে।
টুর্নামেন্টের সফল সমাপ্তি আয়োজকেরা বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে একাডেমিক চাপ এবং প্রাত্যহিক জীবনের ব্যস্ততা আমাদের অনেক সময় যান্ত্রিক করে তোলে। সেই একঘেয়েমি ঝেড়ে ফেলে নিজেদের মধ্যে আনন্দ ভাগাভাগি করার উদ্দেশ্যেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। প্রতিবছর এই আয়োজনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।’
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]
এবারের আসরের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ ছিল গ্যালারিতে আন্তর্জাতিক দর্শকদের সরব উপস্থিতি। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি চীন, মরক্কো ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা মাঠে এসে খেলা উপভোগ করেন, যা আয়োজনটিকে এক আন্তর্জাতিক রূপ দান করে। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত দর্শকদের জন্য রাখা হয়েছিল আকর্ষণীয় লাকি ড্র, যার মাধ্যমে বিদেশি দর্শকদের মধ্য থেকে ‘সেরা ৩ দর্শক’ নির্বাচন করে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। আয়োজকেরা ভবিষ্যতেও প্রবাসের মাটিতে দেশীয় সংস্কৃতির এই ধারা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
লেখক: মানসুর জিসান, চীন।