জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব টরন্টোর বিজয় উৎসব

বক্তব্য দিচ্ছেন এমপিপি ডলি বেগমছবি: সংগৃহীত

সুদূর কানাডায় বাংলাদেশি কমিউনিটি যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করছে, জাতীয় দিবসগুলো উদ্‌যাপন করছে এবং নতুন প্রজন্মের মধে৵ ইতিহাস তুলে ধরছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব টরন্টো দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কমিউনিটির ঐক্য ও দেশপ্রেম জাগ্রত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। এ জন্য সংগঠনের নেতারা ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন টরন্টোয় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শাহ আলম খোকন।

গত ২১ ডিসেম্বর টরন্টোর বার্চমাউন্ট পার্ক কলেজিয়েট ইনস্টিটিউটে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব টরন্টো আয়োজিত মহান মুক্তিযুদ্ধের ‘বিজয় উৎসব’ হাজারো বাংলাদেশির উপস্থিতিতে ছিল উৎসবমুখর। বৃদ্ধ, তরুণ, শিশু-কিশোরদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। বাংলাদেশ ও কানাডার জাতীয় সংগীত দিয়ে সন্ধ্যা ছয়টায় উৎসব শুরু হয়ে চলে গভীর রাত পর্যন্ত। বিজয় উৎসব মাতিয়ে রাখেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী শুভ্র দেব ও সামিনা চৌধুরী।

রুমানা মালিক মুনমুনের উপস্থাপনায় কনসাল জেনারেল শাহ আলম খোকন বলেন, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর আমরা অর্জন করি চূড়ান্ত বিজয়। আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সব বীর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাকে। এই বিজয় অর্জনের পেছনে রয়েছে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ, ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি এবং অগণিত মুক্তিযোদ্ধার সাহসিকতা ও ত্যাগ। আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁদের স্মরণ করছি।

উৎসবের অন্যতম অতিথি অন্টারিও প্রভিনশিয়াল পার্লামেন্ট মেম্বার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিন্দন জানিয়ে বলেন, বিজয় দিবস শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসেই নয়, বিশ্ব ইতিহাসেও একটি অনন্য উদাহরণ—যেখানে একটি জাতি ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও আত্মমর্যাদার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগ্রাম করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। কানাডা একটি বহুসাংস্কৃতিক দেশ; আর বাংলাদেশি কমিউনিটি এই সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও গর্বের অংশ। প্রবাসে থেকেও আপনারা যেভাবে ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে ধারণ করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। নতুন প্রজন্মের মধে৵ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের আয়োজন শুধু স্মরণ নয়; বরং একটি বার্তা—যে বার্তা বলে দেয়, ইতিহাসকে সম্মান করলে সমাজ আরও শক্তিশালী হয়।

দর্শকদের একাংশ
ছবি: দিপক সূত্রধর

জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব টরন্টোর সভাপতি মাহবুব চৌধুরী রনি বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের এই গৌরবোজ্জ্বল উৎসবে আপনাদের মাঝে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পেরে আমি গভীরভাবে গর্বিত ও আবেগাপ্লুত। বিজয় মানে শুধু একটি তারিখ নয়, বিজয় মানে আত্মত্যাগ, সাহস, সংগ্রাম এবং আমাদের অবিস্মরণীয় আত্মপরিচয়ের ঘোষণা।’

বিজয় উৎসবে নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি ও বাংলাদেশি শিল্পীদের গানে পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল প্রাণবন্ত ও মুখর। শিল্পীদের পরিবেশনায় ফুটে ওঠে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশপ্রেম ও বিজয়ের আনন্দ। দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন মনোজ্ঞ এই সাংস্কৃতিক আয়োজন, যা বিজয় উৎসবকে করে তোলে আরও বর্ণিল ও স্মরণীয়।

সমবেত সংগীত
ছবি: দিপক সূত্রধর

উৎসবে চারজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে পদক দিয়ে সম্মানিত করা হয়। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের স্পন্সরদের সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন এমপিপি ডলি বেগম, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আহাদ খন্দকার, দেবব্রত দে তমাল ও ছাদ চৌধুরীসহ অনুষ্ঠানের অতিথিরা।

বিজয় উৎসবে বাংলাদেশিদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য দেন টরন্টো সিটির স্কারবোরো এলাকা ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পার্থি কান্ডাভেল, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মেহদী মারুফ ও উৎসব কমিটির আহ্বায় এজাজ চৌধুরী। উৎসবে অ্যাসোসিয়েশনের সব কর্মকর্তা, ট্রাস্ট্রি বোর্ডের সদস্য ও উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]