সিডনিতে ২৭তম বইমেলা অনুষ্ঠিত

পিয়াসা বড়ুয়ার সঞ্চালনায় ‘অভিযাত্রী’সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনায় গান, নাচ ও কবিতা আবৃত্তিতে মুখরিত ছিল মেলা প্রাঙ্গণ।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্‌যাপিত হলো একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহ্যবাহী বইমেলা। আয়োজকদের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, ১৫ ফেব্রুয়ারি সিডনির অ্যাশফিল্ড পার্কে দিনব্যাপী এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯৯ সাল থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন এবার ২৭তম আসরে পদার্পণ করল। এদিন সিডনির প্রবাসী বাঙালিদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। সকাল ৯টা ২১ মিনিটে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও একুশে একাডেমির নেতাদের উপস্থিতিতে শোকাবহ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রভাতফেরির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। এবারের প্রভাতফেরিতে সিডনির ২০টি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে এই পার্কেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছিল, যা প্রবাসে বাংলা ভাষার এক অনন্য স্মারক।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্‌যাপিত হলো একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহ্যবাহী বইমেলা।

মেলার মূল আকর্ষণ ছিল আলোচনা সভা ও গুণীজন সম্মাননা। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ সাজুর সঞ্চালনায় স্থানীয় রাজনীতিক ও জনপ্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে কমিউনিটিতে বিশেষ অবদানের জন্য ইমেরিটাস প্রফেসর রফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা উদয় শংকর বড়ুয়া এবং প্রখ্যাত নিউরোলজিস্ট এম শরীফ উদ দৌলাকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে কমিউনিটিতে বিশেষ অবদানের জন্য ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা উদয় শংকর বড়ুয়া এবং প্রখ্যাত নিউরোলজিস্ট এম শরীফ উদ দৌলাকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অন্যদিকে মেলায় আগত লেখক ইসহাক হাফিজ এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে একুশের এমন আয়োজন দেখে মনে হচ্ছে, আমি বাংলাদেশের কোনো প্রান্তেই আছি। সন্তানদের হাতে বাংলা বই তুলে দিতে পেরে এবং তাদের শহীদ মিনারের তাৎপর্য বোঝাতে পেরে একজন অভিভাবক হিসেবে আমি গর্বিত।’

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]
এবারের প্রভাতফেরিতে সিডনির ২০টি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানে সাখাওয়াত নয়নের সম্পাদনায় ‘মাতৃভাষা’ সাহিত্য সংকলন এবং অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী পাঁচজন কবির নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। মেলার সাজসজ্জা করেন স্বপন পাল। পিয়াসা বড়ুয়ার সঞ্চালনায় ‘অভিযাত্রী’সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনায় গান, নাচ এবং কবিতা আবৃত্তিতে মুখরিত ছিল মেলা প্রাঙ্গণ।

অনুষ্ঠানে সাখাওয়াত নয়নের সম্পাদনায় ‘মাতৃভাষা’ সাহিত্য সংকলন এবং অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী পাঁচজন কবির নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

সভাপতি সুলতান মাহমুদ সব পৃষ্ঠপোষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানেন। একই সঙ্গে আগামী বছর ২০২৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী বইমেলার তারিখ ঘোষণা করা হয়।