নর্থ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন

ছবি: সাইদুল ইসলাম

লাল–সবুজের পতাকা পতপত করে উড়ছিল নর্থ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। দূর প্রবাসে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছর উদ্‌যাপনে জড়ো হয়েছিলেন নানা বয়সের এবং শ্রেণি–পেশার মানুষ। প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে বাংলা স্কুলের ছোট শিক্ষার্থীরাও উচ্ছ্বাস নিয়ে অংশ নেয় এতে। প্রজন্মের এই মিলনমেলায় যেন একসূত্রে বাঁধা পড়েছিল ইতিহাস, আবেগ আর পরিচয়ের বন্ধন।

যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে গত রোববার (২৯ মার্চ) যুক্তরাজ্যের নর্থ্যাম্পটনে উদ্‌যাপিত হয় বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের কর্মসূচি। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন ইউসুফ রাজা চৌধুরী, এম এ রউফ, ফাত্তাহ চৌধুরী এবং নর্থ্যাম্পটন বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন বাংলা স্কুলের শিক্ষার্থীরা। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে পালন করা হয় এক মিনিট নীরবতা। নীরবতার সেই মুহূর্ত যেন স্মরণ করিয়ে দেয় স্বাধীনতার এই পথচলা কত ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত।

ছবি: সাইদুল ইসলাম

দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্বাধীনতার চেতনা এবং প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাস তুলে ধরার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যা নতুন প্রজন্মের মধ্যে গভীর আগ্রহ সৃষ্টি করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্থ্যাম্পটনশায়ারের এইচএম লর্ড লেফটেন্যান্ট জেমস সন্ডার্স ওয়াটসন এবং লর্ড রামি রেঞ্জার। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন নর্থ্যাম্পটন ব্রিটিশ বাংলাদেশি বিজনেস চেম্বারের চেয়ারম্যান কাউন্সিলর নাজ ইসলাম। সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান ও ট্রেজারার সাদিক চৌধুরী। এ ছাড়া বক্তব্য দেন ইউরো ফুডস গ্রুপের মালিক শেলিম হোসেন, নর্থ্যাম্পটনের মেয়র কাউন্সিলর জেন বার্চ, সংসদ সদস্য লি ব্যারন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মালেক খান, ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর মাইক হ্যালাম, বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট অলি খান, সেক্রেটারি মিটু চৌধুরী, চিফ ট্রেজারার টিপু রহমান, নীলাম আগরওয়াল সিং এমবিই, কাউন্সিলর রিকা বেগম এবং চ্যানেল এসের সিনিয়র নিউজ প্রেজেন্টার জাকি রেজওয়ানা আনোয়ারসহ কমিউনিটির নেতারা।

ছবি: সাইদুল ইসলাম

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা শুধু একটি রাষ্ট্রের জন্ম নয়, এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও সংগ্রামের প্রতীক। তারা নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে এবং সেই চেতনা ধারণ করতে পরিবার ও কমিউনিটির সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শেষে স্থানীয় ওয়ালিংভরা রোডের দ্য রিলম রেস্টুরেন্টে কেক কেটে স্বাধীনতার ৫৫ বছর উদযাপন করা হয়।

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]