কোথায় যাব
বর্ষার এক মেঘ-কালো অন্ধকারে ভাবতে বসেছিলাম—
ভেবেছিলাম, এবার হয়তো বনে যাব,
সবুজ দেখব, নির্মল বাতাস নেব,
আহারে বন্য ফল খাব।
জ্যোৎস্নারাতে ‘আরণ্যক’ পড়ব।
কিন্তু,
হয়নি—
শুনলাম, বনে নাকি সবুজের অভাব,
পাখিরা সব ক্ষুধায় কাতর।
তারপর ভেবেছিলাম, পাহাড়ে যাব,
চারটি গাছের খুঁটিতে নড়বড়ে ঘর বানাব,
রক্ত-আলোয় সূর্যের বিলীন হওয়া দেখব।
কবিতা পড়ব, শুকনো পাতায় পা দেব;
মড়মড়ে শব্দ শুনব।
গল্প লিখব নির্জনতা ও নিস্তব্ধতার,
জিজ্ঞেস করব কোকিলকে,
কেমন করে পেলে তুমি এমন সুরের গলা।
হয়নি—
গাছগুলো সব কেটে সাফ,
কোথায় পাব শুকনো পাতা,
সূর্যটা রোজ ঢাকা পড়ে কারখানার ধোঁয়ায়।
কোকিলেরা নাকি বনছাড়া,
শিকার হওয়ার ভয়ে।
এই তো,
সেদিন বসে বসে ভাবলাম,
জসীমউদ্দীনের পল্লিতে যাব,
নদীতে—
মাছ ধরব, সাঁতার কাটব,
শিশু-কিশোরদের ডিগবাজি দেখব।
নবান্নের পিঠা
আর
বিন্নি ধানের খই খাব।
কুপির আলোয় সুনীল পড়ব।
কিন্তু,
হয়নি।
জসীমউদ্দীনের গ্রাম, নদী, মাছ—
এসবের নাকি দেখা মেলা দায়।
খেলার মাঠে কিশোর কোথায়,
কোথায় পাব নবান্ন, কুপি, কোথায় পাব খই।
আর কাব্য, গল্প, উপন্যাস;
পাতায় পাতায় ধুলো জমা।
তাহলে কি আমি ভালোই আছি—
ইচ্ছে হলে হারাতে পারি,
আনমনে সব ভাবতে পারি,
আপন মনে শব্দ খেলি।
লেখক: সুজন কুমার মিত্র, পিএইচডি গবেষক, ব্রেমেন বিশ্ববিদ্যালয়, জার্মানি
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]